
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে নগর ও বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক সাজসজ্জা ও প্রস্তুতি। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ ও রঙের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিমায় পড়ছে রঙের শেষ আঁচড়, পাশাপাশি চলছে আলোকসজ্জা, তোরণ নির্মাণ ও মণ্ডপসজ্জার কাজ। পূজাকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজক ও কারিগররা। আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবীপক্ষের আনুষ্ঠানিক আবহ। শাস্ত্রীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সেদিন দেবী দুর্গার আগমনের বার্তা ছড়িয়ে পড়বে। এবারের দুর্গোৎসবে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে সরকারের টানা পাঁচ দিনের ছুটি। দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিনে উন্নীত করা হয়েছে। ২। ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর সরকারি ছুটির সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত যুক্ত হওয়া হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীরা টানা পাঁচ দিনের অবকাশ পাবেন। ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গোৎসব দুর্গোৎসব এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মাধ্যমে শেষ হবে। তবে ছুটির বিন্যাস অনুযায়ী ১৭ অক্টোবর শনিবার অফিস খোলা থাকবে।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদও টানা তিন দিনের ছুটির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, বাড়তি ছুটির কারণে মানুষ স্বস্তিতে গ্রামের বাড়ি গিয়ে পরিবারের সঙ্গে উৎসব উদযাপনের সুযোগ পাবেন এবং এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের তাদের একটি দাবি পূরণ হয়েছে। প্রতিবারের মতে এবারেও চট্টগ্রামে দুর্গোৎসবের ব্যাপ্তিও নজরকাড়া। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, জেলা ও মহানগর মিলিয়ে এবার ২ হাজার ৫৬৮টি পূজার আয়োজন রয়েছে। । এর মধ্যে জেলায় ২ হাজার ২৭৪টি এবং মহানগরে ২৯৪টি। জেলার মোট পূজার মধ্যে ১ হাজার ৬৫৫টি প্রতিমা পূজা এবং ৬১৯টি ঘট পূজা। গত বছরের তুলনায় এবার জেলায় পূজা বেড়েছে ৭২টি। ২০২৫ সালে জেলায় মোট পূজা হয়েছিল ২ হাজার ২০২টি। এর মধ্যে প্রতিমা পূজা ছিল ১ হাজার ৫৮৫টি এবং ঘট পূজা ৬১৭টি। এক বছরে প্রতিমা পূজা বেড়েছে ৭০টি, ঘট পুজা দুটি। মহানগরেও গত বছরের ২৯২টির তুলনায় এবার পূজা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৪টিতে। উপজেলাভিত্তিক হিসাবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আট উপজেলায় মোট ১ হাজার ৩৯৬টি পূজার আয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিমা পূজা ৭৯৬টি এবং ঘট পূজা ৬০০টি। উত্তর চট্টগ্রামের সাত উপজেলায় মোট ৮৭৮টি পূজা হচ্ছে; এর মধ্যে প্রতিমা পূজা ৮৫৯টি এবং ঘট পূজা মাত্র ১৯টি। ফলে মোট আয়োজনের সংখ্যায় দক্ষিণ চট্টগ্রাম এগিয়ে থাকলেও প্রতিমা পূজায় উত্তর চট্টগ্রামের অবস্থান বেশ শক্তিশালী। বিপরীতে ঘট পূজায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের আধিক্য স্পষ্ট।
জেলায় প্রতিমা পূজার হিসাবে সবচেয়ে বেশি আয়োজন রাউজানে-২৩৩টি। তবে প্রতিমা ও ঘট-দুই ধরনের পূজা মিলিয়ে শীর্ষে রয়েছে আনোয়ারা। সেখানে মোট ৩১১টি পূজার মধ্যে ১১৪টি প্রতিমা এবং ১৯৭টি ঘট পূজা। এরপর বাঁশ-খালীতে ২৬৭টি, পটিয়ায় ২০১টি, সাতকানিয়ায় ২০০টি এবং রাঙ্গুনিয়ায় ১৯৯টি পূজা রয়েছে। এ ছাড়া বোয়ালখালীতে ১৪৬টি, চন্দনাইশে ১৩৫টি, ফটিকছড়িতে ১২৭টি, হাটহাজারীতে ১২৪টি, লোহাগাড়ায় ১১২টি, মীরসরাইয়ে ৯ ৯০টি, সীতাকুণ্ডে ৭০টি এবং সন্দ্বীপে সন্দ্বীপে ৩২টি ৩২টি পূজার আয়োজন রয়েছে। সবচেয়ে কম পূজা কর্ণফুলীতে-২৪টি; এর মধ্যে ১৪টি প্রতিমা এবং ১০টি ঘট পূজা। চট্টগ্রাম মহানগরে সবচেয়ে বেশি পূজার আয়োজন কোতোয়ালি থানায়-৮৭টি। এরপর বায়েজিদে ২৪টি, ৪টি, কর্ণফুলীতে ২৩টি, সদরঘাট ও পাহাড়তলীতে ২১টি করে এবং চান্দগাঁও ও বন্দরে ২০টি করে পূজা রয়েছে। খুলশী, পাঁচলাইশ পতেঙ্গায় ১০টি করে, হালিশহরে ৮টি, ইপিজেডে ৭টি এবং বাকলিয়ায় ৬টি। সবচেয়ে কম ডবলমুরিংয়ে-৪টি। ।
চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিতাই প্রসাদ ঘোষ বলেন, দু-একটি উপজেলায় আগে থেকেই কিছু ঘট পূজা বা ব্যক্তিগত পূজা তালিকাভুক্ত ছিল। এবারও সেই তালিকা অনুসারেই হিসাব করা হয়েছে। ওই তালিকার ভিত্তিতেই সরকারিভাবে ভোগ্যপণ্য ও চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। উৎসবের আনন্দের সঙ্গে নিরাপত্তাকেও এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত ৫ অক্টোবর দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিয়ে আয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ‘নিরাপত্তা সমন্বয় সভায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো: শওকত আলী জেলার সব পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং জরুরি ব্যাকআপ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া দিয়েছেন । নজরদারি বাড়াতে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) তৈরি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তিনি জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোর সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। উৎসবের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি সহায়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টিকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আয়োজকেরা।
প্রতিবেদকের নাম 



















