Dhaka ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
শ্রেষ্ঠ ইউএনও থেকে শ্রেষ্ঠ প্রশাসক: জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদকে সম্মানিত ঢাকার এডিসি ফারজানা রহমান কুলাউড়ায় মনু নদীর বিভিন্ন স্থানে বাঁধে ধস, আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ‘সবুজ বিদ্যালয়’ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির প্রাথমিক শিক্ষা পদক শুভ উদ্বোধন। মাদারগঞ্জ ইউএনও এর সাথে “দৈনিক আজকের জনবাণী”র সৌজন্য সাক্ষাৎ পত্নীতলায় হানিট্র্যাপ চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার মাদারগঞ্জে জব্দকৃত টিসিবির চাল ও ডাল নিলামে বিক্রি “সিএনজিতে যাত্রীবেশে ছিনতাই, ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই মূল হোতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার” বজ্রপাতের অভিশপ্ত সকাল: একসাথে দুনিয়া ছাড়লেন বাবা-ছেলে ব্রাহ্মণপাড়ায় পুকুরে ডুবে দুই চাচাতো ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু

কুলাউড়ায় মনু নদীর বিভিন্ন স্থানে বাঁধে ধস, আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা

আহমেদ আক্তার রানা, প্রতিনিধি কুলাউড়া উপজেলা

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও, হাজিপুর ও পৃথিমপাশা ইউনিয়নের মনু নদীর বিভিন্ন স্থানে নদীতীর ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভয়াবহ ভাঙনের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিলাগাঁও ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামের মনু নদীর তীর, মিয়ারপাড়া, দক্ষিণ হাজিপুর, আশ্রয়গ্রাম, হাজিপুর ইউনিয়নের কঠারকোনা ও কাওকাপন বাজার এবং পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রাজাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় নদীতীর ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে মনু নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় যেকোনো সময় নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে টিলাগাঁও ইউনিয়নের তাজপুর এলাকায় প্রায় ৮০ ফুট বাঁধ ইতোমধ্যে ধসে গেছে। এতে বাঁধসংলগ্ন সড়কের অর্ধেকেরও বেশি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অবশিষ্ট অংশও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ডিমলায় অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে সেলাই মেশিন, হুইলচেয়ার ও অনুদানের চেক বিতরণ

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু না হলে বাঁধ সম্পূর্ণ ধসে গিয়ে উপজেলার একাধিক ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুপ্তা সেন, লীলা সেন, লক্ষ্মী সেন, নিউটন চন্দ্র সেন, শ্রীকান্ত দে, সুমন দত্ত ও রাকু সেন বলেন, তাজপুর এলাকার বাঁধটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে এবং তাদের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত বাঁধ সংস্কারে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  উপজেলা চিলমারীতে বিনামূল্যে শাক-সবজি বীজ ও বনজ,ফলদ,ঔষধী গাছের চারা বিতরণ

টিলাগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্বাস আলী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে ভাঙন দেখা দিলে শুধু টিলাগাঁও নয়, কুলাউড়ার আরও কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হবে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি কৃষিখাতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হবে।

টিলাগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত জানান, তিনি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত বাঁধ সংস্কারের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত কাজ শুরু হলে বড় ধরনের দুর্যোগ এড়ানো সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুনঃ  ভোলায় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কুখ্যাত ডাকাত ফিরোজ ও তার ৩ সহযোগী আটক

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার বলেন, মনু নদীর ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসমাপ্ত কাজগুলো আমরা পরিদর্শন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন অলিদ বলেন, কুলাউড়া উপজেলার মনু নদীর সব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। তাজপুরের ভাঙনস্থলও দেখা হয়েছে। সপ্তাহের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

শ্রেষ্ঠ ইউএনও থেকে শ্রেষ্ঠ প্রশাসক: জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদকে সম্মানিত ঢাকার এডিসি ফারজানা রহমান

কুলাউড়ায় মনু নদীর বিভিন্ন স্থানে বাঁধে ধস, আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা

আপডেটের সময়: ০৭:১৬:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

আহমেদ আক্তার রানা, প্রতিনিধি কুলাউড়া উপজেলা

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও, হাজিপুর ও পৃথিমপাশা ইউনিয়নের মনু নদীর বিভিন্ন স্থানে নদীতীর ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভয়াবহ ভাঙনের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিলাগাঁও ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামের মনু নদীর তীর, মিয়ারপাড়া, দক্ষিণ হাজিপুর, আশ্রয়গ্রাম, হাজিপুর ইউনিয়নের কঠারকোনা ও কাওকাপন বাজার এবং পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রাজাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় নদীতীর ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে মনু নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় যেকোনো সময় নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে টিলাগাঁও ইউনিয়নের তাজপুর এলাকায় প্রায় ৮০ ফুট বাঁধ ইতোমধ্যে ধসে গেছে। এতে বাঁধসংলগ্ন সড়কের অর্ধেকেরও বেশি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অবশিষ্ট অংশও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বজ্রপাতের অভিশপ্ত সকাল: একসাথে দুনিয়া ছাড়লেন বাবা-ছেলে

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু না হলে বাঁধ সম্পূর্ণ ধসে গিয়ে উপজেলার একাধিক ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুপ্তা সেন, লীলা সেন, লক্ষ্মী সেন, নিউটন চন্দ্র সেন, শ্রীকান্ত দে, সুমন দত্ত ও রাকু সেন বলেন, তাজপুর এলাকার বাঁধটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে এবং তাদের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত বাঁধ সংস্কারে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গোপালগঞ্জ মহাসড়কে বাসচাপায় ৫ জন নিহত

টিলাগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্বাস আলী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে ভাঙন দেখা দিলে শুধু টিলাগাঁও নয়, কুলাউড়ার আরও কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হবে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি কৃষিখাতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হবে।

টিলাগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত জানান, তিনি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত বাঁধ সংস্কারের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত কাজ শুরু হলে বড় ধরনের দুর্যোগ এড়ানো সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুনঃ  শাজাহানপুরে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করায় এলপিজি গ্যাস বিক্রেতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার বলেন, মনু নদীর ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসমাপ্ত কাজগুলো আমরা পরিদর্শন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন অলিদ বলেন, কুলাউড়া উপজেলার মনু নদীর সব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। তাজপুরের ভাঙনস্থলও দেখা হয়েছে। সপ্তাহের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।