Dhaka ১১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পলাশবাড়ীতে শ্রমিক দলের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত ধুনট পৌর বিএনপি সভাপতির সাথে নবগঠিত প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ ধুনটে মাদকাসক্ত স্বামীর নির্যাতনে প্রাণ গেল গৃহবধূর, অভিযুক্ত স্বামী আটক মান্দায় ৩৬ জুলাই উপলক্ষে যুব জামায়াতের আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত কাউনিয়ার বিশিষ্ট হোমিও চিকিৎসক পরিমল চন্দ্র বর্মন আর নেই সিরাজগঞ্জে ২৫৫ গ্রাম হেরোইন সহ মাদক  সরবরাহকারী গ্রেফতার গোয়াইনঘাটের শীতের আমেজ হাজারো অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হাওর ও গাছপালা ৫ বছরের মধ্যে ক্ষমতায় যাওয়ার উপযুক্ত হবে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে আমাদের মিছিল বড় হবে: নাহিদ রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু

কাশফুলে সেজেছে বাঁশখালীর গন্ডামারা, মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৮:০১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬০ সময় দেখুন

তৌহিদ-উল বারী, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সাদা কাশফুলের মৃদু দোল, নীল আকাশের বিস্তৃত ক্যানভাস আর পাশে বয়ে চলা জলকদরের জলরাশি- সব মিলিয়ে প্রকৃতি যেন আপন মনে সাজিয়েছে এক মায়াবী দৃশ্যপট। বাতাসের ছোঁয়ায় কাশফুল যখন দুলে ওঠে, তখন শুভ্রতার সেই ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। নদীর জলে আকাশের প্রতিবিম্ব, তীরজুড়ে কাশফুলের সমারোহ আর খোলা প্রকৃতির স্নিগ্ধতা মিলে তৈরি হয়েছে মন ভালো করা এক পরিবেশ। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করে দেখা যায়, প্রকৃতির এমন অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারার কাশবন। শরতের চিরচেনা সৌন্দর্য বাংলার প্রকৃতিকে দেয় ভিন্ন এক রূপ। মাঠে-প্রান্তরে ফুটে থাকা সাদা কাশফুল যেন ঋতুরাজ্যে শরতের আগমনী বার্তা বহন করে। গন্ডামারার এই কাশবনেও সেই চিরায়ত সৌন্দর্য ধরা দিয়েছে নিজস্ব মাধুর্যে। তবে এখানকার আকর্ষণ শুধু কাশফুলেই সীমাবদ্ধ নয়; পাশেই রয়েছে জলকদরের মনোরম জলরাশি। একদিকে কাশবনের শুভ্রতা, অন্যদিকে নদীর বিস্তৃত জলরেখা- দুইয়ের মেলবন্ধনে জায়গাটির সৌন্দর্য পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা।

আরও পড়ুনঃ  সাঘাটায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মজুত, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

 

নদীর দিকে তাকালে চোখে পড়ে জলরাশির বিস্তার। বাতাসের ছোঁয়ায় জলে তৈরি হওয়া ছোট ছোট ঢেউ আর নদীতীরের প্রাকৃতিক পরিবেশ যেন মনে এনে দেয় প্রশান্তি। কাশফুলের শুভ্রতার সঙ্গে জলকদরের নীলাভ জলরাশির এই বৈপরীত্য প্রকৃতিকে করে তুলেছে আরও আকর্ষণীয়। কোথাও সাদা কাশফুলের সারি, কোথাও নদীর শান্ত জল, আবার কোথাও খোলা আকাশের নিচে সবুজের সমারোহ- প্রতিটি দৃশ্যেই লুকিয়ে আছে আলাদা সৌন্দর্য।প্রকৃতির এই রূপ উপভোগ করতে শুক্রবার ও ছুটির দিনে গন্ডামারার কাশবনে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে অনেকে কাটান অবসর সময়। কেউ কাশফুলের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন, কেউ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন জলকদরের সৌন্দর্য। আবার কেউ মুঠোফোনের ক্যামেরায় ধরে রাখেন প্রকৃতির সঙ্গে কাটানো আনন্দঘন মুহূর্তগুলো। দর্শনার্থীদের পদচারণা, হাসি-আড্ডা আর ছবি তোলার ব্যস্ততায় ছুটির দিনে জায়গাটিতে তৈরি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ।

আরও পড়ুনঃ  মান্দায় ৩৬ জুলাই উপলক্ষে যুব জামায়াতের আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

 

বিশেষ করে বিকেলের আলোয় কাশবন ও নদীর সৌন্দর্য যেন আরও মায়াবী হয়ে ওঠে। সূর্যের আলো যখন কাশফুলের সাদা পাপড়িতে পড়ে, তখন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে কোমল আভা। অন্যদিকে জলকদরের বুকে আলো-ছায়ার খেলা প্রকৃতির দৃশ্যপটে যোগ করে নতুন মাত্রা। এমন পরিবেশে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে মন হারিয়ে যেতে চায় প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে। শীলকূপ টাইম বাজার হয়ে গন্ডামারা ব্রিজ পার হওয়ার পরপরই দেখা মিলবে কাশবনটির। যাতায়াতের পথের বিশেষত্ব হলো, গন্তব্যে পৌঁছানোর পরই প্রকৃতির দুটি ভিন্ন রূপ উপভোগের সুযোগ মেলে। একদিকে কাশফুলের শুভ্রতায় ঘেরা প্রান্তর, অন্যদিকে জলকদরের জলরাশি। ফলে অল্প সময়ের ভ্রমণেও প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো যায় বেশ কিছু আনন্দঘন মুহূর্ত। গন্ডামারার কাশবন ও জলকদরের আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ বাঁশখালীর স্থানীয় পর্যটন সম্ভাবনাকে নতুনভাবে তুলে ধরতে পারে। প্রকৃতির স্বাভাবিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ চলাচল ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার ব্যবস্থা করা গেলে জায়গাটি আরও বেশি মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠতে পারে। গন্ডামারার কাশবনে দাঁড়িয়ে চোখের সামনে যখন দুলতে থাকে শুভ্র কাশফুল, আর পাশে জলকদরের জলরাশি নীরবে বয়ে চলে, তখন মনে হয় প্রকৃতি তার সমস্ত মাধুর্য ঢেলে দিয়েছে এই জনপদে।

আরও পড়ুনঃ  ধুনটে মাদকাসক্ত স্বামীর নির্যাতনে প্রাণ গেল গৃহবধূর, অভিযুক্ত স্বামী আটক

 

শরতের কাশফুল একসময় ঝরে যাবে, বদলে যাবে ঋতুর রং। কিন্তু এই সৌন্দর্যের টানে প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো থেকে যাবে স্মৃতির পাতায়। তাই প্রকৃতির স্নিগ্ধতায় একটু প্রশান্তি খুঁজতে চাইলে শীলকূপ টাইম বাজার হয়ে গন্ডামারা ব্রিজের পরপরই থাকা এই কাশবন হতে পারে আপনার এক দিনের ছোট্ট ভ্রমণ। যেখানে কাশফুলের শুভ্রতা আর জলকদরের জলরাশি মিলেমিশে তৈরি করেছে বাঁশখালীর প্রকৃতির এক অনন্য মায়াবী ঠিকানা।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

পলাশবাড়ীতে শ্রমিক দলের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

কাশফুলে সেজেছে বাঁশখালীর গন্ডামারা, মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা

আপডেটের সময়: ০৮:০১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

তৌহিদ-উল বারী, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সাদা কাশফুলের মৃদু দোল, নীল আকাশের বিস্তৃত ক্যানভাস আর পাশে বয়ে চলা জলকদরের জলরাশি- সব মিলিয়ে প্রকৃতি যেন আপন মনে সাজিয়েছে এক মায়াবী দৃশ্যপট। বাতাসের ছোঁয়ায় কাশফুল যখন দুলে ওঠে, তখন শুভ্রতার সেই ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। নদীর জলে আকাশের প্রতিবিম্ব, তীরজুড়ে কাশফুলের সমারোহ আর খোলা প্রকৃতির স্নিগ্ধতা মিলে তৈরি হয়েছে মন ভালো করা এক পরিবেশ। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করে দেখা যায়, প্রকৃতির এমন অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারার কাশবন। শরতের চিরচেনা সৌন্দর্য বাংলার প্রকৃতিকে দেয় ভিন্ন এক রূপ। মাঠে-প্রান্তরে ফুটে থাকা সাদা কাশফুল যেন ঋতুরাজ্যে শরতের আগমনী বার্তা বহন করে। গন্ডামারার এই কাশবনেও সেই চিরায়ত সৌন্দর্য ধরা দিয়েছে নিজস্ব মাধুর্যে। তবে এখানকার আকর্ষণ শুধু কাশফুলেই সীমাবদ্ধ নয়; পাশেই রয়েছে জলকদরের মনোরম জলরাশি। একদিকে কাশবনের শুভ্রতা, অন্যদিকে নদীর বিস্তৃত জলরেখা- দুইয়ের মেলবন্ধনে জায়গাটির সৌন্দর্য পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা।

আরও পড়ুনঃ  ধুনটে মাদকাসক্ত স্বামীর নির্যাতনে প্রাণ গেল গৃহবধূর, অভিযুক্ত স্বামী আটক

 

নদীর দিকে তাকালে চোখে পড়ে জলরাশির বিস্তার। বাতাসের ছোঁয়ায় জলে তৈরি হওয়া ছোট ছোট ঢেউ আর নদীতীরের প্রাকৃতিক পরিবেশ যেন মনে এনে দেয় প্রশান্তি। কাশফুলের শুভ্রতার সঙ্গে জলকদরের নীলাভ জলরাশির এই বৈপরীত্য প্রকৃতিকে করে তুলেছে আরও আকর্ষণীয়। কোথাও সাদা কাশফুলের সারি, কোথাও নদীর শান্ত জল, আবার কোথাও খোলা আকাশের নিচে সবুজের সমারোহ- প্রতিটি দৃশ্যেই লুকিয়ে আছে আলাদা সৌন্দর্য।প্রকৃতির এই রূপ উপভোগ করতে শুক্রবার ও ছুটির দিনে গন্ডামারার কাশবনে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে অনেকে কাটান অবসর সময়। কেউ কাশফুলের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন, কেউ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন জলকদরের সৌন্দর্য। আবার কেউ মুঠোফোনের ক্যামেরায় ধরে রাখেন প্রকৃতির সঙ্গে কাটানো আনন্দঘন মুহূর্তগুলো। দর্শনার্থীদের পদচারণা, হাসি-আড্ডা আর ছবি তোলার ব্যস্ততায় ছুটির দিনে জায়গাটিতে তৈরি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ।

আরও পড়ুনঃ  বাঁশখালীতে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, জব্দ ৬৮ ড্রেজার পাইপ

 

বিশেষ করে বিকেলের আলোয় কাশবন ও নদীর সৌন্দর্য যেন আরও মায়াবী হয়ে ওঠে। সূর্যের আলো যখন কাশফুলের সাদা পাপড়িতে পড়ে, তখন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে কোমল আভা। অন্যদিকে জলকদরের বুকে আলো-ছায়ার খেলা প্রকৃতির দৃশ্যপটে যোগ করে নতুন মাত্রা। এমন পরিবেশে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে মন হারিয়ে যেতে চায় প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে। শীলকূপ টাইম বাজার হয়ে গন্ডামারা ব্রিজ পার হওয়ার পরপরই দেখা মিলবে কাশবনটির। যাতায়াতের পথের বিশেষত্ব হলো, গন্তব্যে পৌঁছানোর পরই প্রকৃতির দুটি ভিন্ন রূপ উপভোগের সুযোগ মেলে। একদিকে কাশফুলের শুভ্রতায় ঘেরা প্রান্তর, অন্যদিকে জলকদরের জলরাশি। ফলে অল্প সময়ের ভ্রমণেও প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো যায় বেশ কিছু আনন্দঘন মুহূর্ত। গন্ডামারার কাশবন ও জলকদরের আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ বাঁশখালীর স্থানীয় পর্যটন সম্ভাবনাকে নতুনভাবে তুলে ধরতে পারে। প্রকৃতির স্বাভাবিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ চলাচল ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার ব্যবস্থা করা গেলে জায়গাটি আরও বেশি মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠতে পারে। গন্ডামারার কাশবনে দাঁড়িয়ে চোখের সামনে যখন দুলতে থাকে শুভ্র কাশফুল, আর পাশে জলকদরের জলরাশি নীরবে বয়ে চলে, তখন মনে হয় প্রকৃতি তার সমস্ত মাধুর্য ঢেলে দিয়েছে এই জনপদে।

আরও পড়ুনঃ  দেশি মাছের সংকটে অস্তিত্বের লড়াই ভাঙ্গুড়ার শুঁটকি শিল্পে দুর্দিন

 

শরতের কাশফুল একসময় ঝরে যাবে, বদলে যাবে ঋতুর রং। কিন্তু এই সৌন্দর্যের টানে প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো থেকে যাবে স্মৃতির পাতায়। তাই প্রকৃতির স্নিগ্ধতায় একটু প্রশান্তি খুঁজতে চাইলে শীলকূপ টাইম বাজার হয়ে গন্ডামারা ব্রিজের পরপরই থাকা এই কাশবন হতে পারে আপনার এক দিনের ছোট্ট ভ্রমণ। যেখানে কাশফুলের শুভ্রতা আর জলকদরের জলরাশি মিলেমিশে তৈরি করেছে বাঁশখালীর প্রকৃতির এক অনন্য মায়াবী ঠিকানা।