Dhaka ০৭:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
আগামী ২৫ জুলাই গ্লোবাল স্টার অ্যাওয়ার্ড সিজন-৩ : জুরিবোর্ড সভা অনুষ্ঠিত ঈদগাঁওয়ে জমি নিয়ে বিরোধ: সৌদি প্রবাসীকে কুপিয়ে জখম, চমেকে প্রেরণ দিনাজপুরে আইনজীবী সারোয়ার জাহান হীরার ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন পবিত্র আশুরা উপলক্ষে সিএমপিতে নিরাপত্তা সমন্বয় সভা: তাজিয়া মিছিলে থাকবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বিসিক শিল্প এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়ায় নগর শ্রমিক কল্যাণের গভীর উদ্বেগ হিলিতে পৃথক মাদক অভিযানে ৪ জন গ্রেফতার, আদালতে প্রেরণ বেগম খালেদা জিয়ার প্রস্তাবিত স্থানে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন সংসদের সবাইকে ১০ কেজি করে আম উপহার, প্রশংসায় ভাসছেন ড. শফিকুর রহমান তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আগ্রহী সিঙ্গাপুরের এসএটিএস নিষিদ্ধ আলীগকে ঠেকাতে রাজপথে থাকবে জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দল

করতোয়া নদীর চরাঞ্চলে কোটি টাকার জুয়ার আসর, তিন থানার সমন্বিত অভিযানের দাবি স্থানীয়দের

মোঃ রিফাত হোসেন, ঘোড়াঘাট প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট ও নবাবগঞ্জ এবং রংপুরের পীরগঞ্জ থানার সীমান্তঘেঁষা করতোয়া নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল এখন পরিণত হয়েছে অবৈধ জুয়ার নিরাপদ ঘাঁটিতে। বছরের পর বছর ধরে প্রকাশ্যে বসছে লাখ লাখ টাকার জুয়ার আসর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক অভিযান পরিচালিত হলেও সাময়িক বিরতির পর আবারও শুরু হচ্ছে জুয়ার কার্যক্রম। স্থানীয়দের মতে, তিন থানার সমন্বিত ও একযোগে যৌথ অভিযান ছাড়া এই অবৈধ সাম্রাজ্য নির্মূল করা সম্ভব নয়।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, সীমান্তবর্তী নির্জন বালুচরে প্রতিদিন বিকেল ২টা থেকে গভীর রাত ৪টা পর্যন্ত শত শত মানুষের উপস্থিতিতে জমে ওঠে জুয়ার আসর। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে মাইক্রোবাস, সিএনজি, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও অটোভ্যানে করে মানুষ সেখানে আসছেন। দূর থেকে পুরো এলাকা একটি অস্থায়ী হাটবাজারের চিত্র ধারণ করে। অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে নিজস্ব নৌকার ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ  কাউনিয়া ‘স্বপ্নসারথি’ কিশোরীদের ১ম পর্বের সমাপনী ও সনদ বিতরণ

স্থানীয়দের অভিযোগ, জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি সুসংগঠিত ও প্রভাবশালী চক্র। জুয়ার সঙ্গে জড়িত অনেকেই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত থাকেন। নদীপথের মাঝি, চরাঞ্চলে অবস্থান নেওয়া সোর্স এবং বিভিন্ন পয়েন্টে থাকা সহযোগীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালান। ফলে পুলিশের অভিযানের খবর দ্রুত আয়োজকদের কাছে পৌঁছে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তিন থানার সীমান্তবর্তী অবস্থানই জুয়ার কারবারিদের সবচেয়ে বড় সুবিধা। ঘোড়াঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালিত হলে তারা নবাবগঞ্জ বা পীরগঞ্জ অংশে সরে যায়। আবার অন্য থানায় অভিযান শুরু হলে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে। এ কারণে অধিকাংশ সময় মূল হোতা ও বড় জুয়ারুরা আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, বিচ্ছিন্ন অভিযান এই চক্রের জন্য কার্যকর প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারছে না। বরং তিন থানার সমন্বিত, পরিকল্পিত ও একযোগে পরিচালিত যৌথ অভিযানই পারে জুয়ার নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে। তাদের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর অনেক অভিযুক্ত দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন, যা আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
স্থানীয়রা আরও বলেন, জুয়ার বিস্তার শুধু অপরাধই বাড়াচ্ছে না, সামাজিক অবক্ষয়ও ত্বরান্বিত করছে। সহজে অর্থ উপার্জনের আশায় অনেক তরুণ এই চক্রে জড়িয়ে পড়ছেন। ফলে পরিবারে অশান্তি, অর্থনৈতিক সংকট এবং সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে।

আরও পড়ুনঃ  তারাগঞ্জে আগুনে পুড়ল ৭ বসতঘর, লাখ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “করতোয়া নদীর ওপারের তিন থানার সীমান্তবর্তী দুর্গম ও প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের সুযোগ নিয়ে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘোড়াঘাট থানা পুলিশের একটি টিম সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে। এর আগে একাধিক অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে মামলা করা হয়েছে। তবে স্থায়ীভাবে এই জুয়ার আসর বন্ধ করতে তিন থানার সমন্বিত ও নিয়মিত যৌথ অভিযান প্রয়োজন।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং নিয়মিত যৌথ অভিযানের মাধ্যমে করতোয়া নদীর চরাঞ্চলে গড়ে ওঠা এই জুয়ার সাম্রাজ্য ভেঙে দিয়ে এলাকার সামাজিক স্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুনঃ  প্রকৌশলী শোয়েব বাশরি হাবলুকে ঢাকাস্থ বাউফল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ফুলেল শুভেচ্ছা
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

আগামী ২৫ জুলাই গ্লোবাল স্টার অ্যাওয়ার্ড সিজন-৩ : জুরিবোর্ড সভা অনুষ্ঠিত

করতোয়া নদীর চরাঞ্চলে কোটি টাকার জুয়ার আসর, তিন থানার সমন্বিত অভিযানের দাবি স্থানীয়দের

আপডেটের সময়: ০৪:১৭:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

মোঃ রিফাত হোসেন, ঘোড়াঘাট প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট ও নবাবগঞ্জ এবং রংপুরের পীরগঞ্জ থানার সীমান্তঘেঁষা করতোয়া নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল এখন পরিণত হয়েছে অবৈধ জুয়ার নিরাপদ ঘাঁটিতে। বছরের পর বছর ধরে প্রকাশ্যে বসছে লাখ লাখ টাকার জুয়ার আসর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক অভিযান পরিচালিত হলেও সাময়িক বিরতির পর আবারও শুরু হচ্ছে জুয়ার কার্যক্রম। স্থানীয়দের মতে, তিন থানার সমন্বিত ও একযোগে যৌথ অভিযান ছাড়া এই অবৈধ সাম্রাজ্য নির্মূল করা সম্ভব নয়।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, সীমান্তবর্তী নির্জন বালুচরে প্রতিদিন বিকেল ২টা থেকে গভীর রাত ৪টা পর্যন্ত শত শত মানুষের উপস্থিতিতে জমে ওঠে জুয়ার আসর। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে মাইক্রোবাস, সিএনজি, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও অটোভ্যানে করে মানুষ সেখানে আসছেন। দূর থেকে পুরো এলাকা একটি অস্থায়ী হাটবাজারের চিত্র ধারণ করে। অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে নিজস্ব নৌকার ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ  কাউনিয়ায় নারী ও কন্যা শিশুর সহিংসতা প্রতিরোধে আলোচনা সভা

স্থানীয়দের অভিযোগ, জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি সুসংগঠিত ও প্রভাবশালী চক্র। জুয়ার সঙ্গে জড়িত অনেকেই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত থাকেন। নদীপথের মাঝি, চরাঞ্চলে অবস্থান নেওয়া সোর্স এবং বিভিন্ন পয়েন্টে থাকা সহযোগীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালান। ফলে পুলিশের অভিযানের খবর দ্রুত আয়োজকদের কাছে পৌঁছে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তিন থানার সীমান্তবর্তী অবস্থানই জুয়ার কারবারিদের সবচেয়ে বড় সুবিধা। ঘোড়াঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালিত হলে তারা নবাবগঞ্জ বা পীরগঞ্জ অংশে সরে যায়। আবার অন্য থানায় অভিযান শুরু হলে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে। এ কারণে অধিকাংশ সময় মূল হোতা ও বড় জুয়ারুরা আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, বিচ্ছিন্ন অভিযান এই চক্রের জন্য কার্যকর প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারছে না। বরং তিন থানার সমন্বিত, পরিকল্পিত ও একযোগে পরিচালিত যৌথ অভিযানই পারে জুয়ার নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে। তাদের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর অনেক অভিযুক্ত দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন, যা আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
স্থানীয়রা আরও বলেন, জুয়ার বিস্তার শুধু অপরাধই বাড়াচ্ছে না, সামাজিক অবক্ষয়ও ত্বরান্বিত করছে। সহজে অর্থ উপার্জনের আশায় অনেক তরুণ এই চক্রে জড়িয়ে পড়ছেন। ফলে পরিবারে অশান্তি, অর্থনৈতিক সংকট এবং সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে।

আরও পড়ুনঃ  বেগম খালেদা জিয়ার প্রস্তাবিত স্থানে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন

এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “করতোয়া নদীর ওপারের তিন থানার সীমান্তবর্তী দুর্গম ও প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের সুযোগ নিয়ে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘোড়াঘাট থানা পুলিশের একটি টিম সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে। এর আগে একাধিক অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে মামলা করা হয়েছে। তবে স্থায়ীভাবে এই জুয়ার আসর বন্ধ করতে তিন থানার সমন্বিত ও নিয়মিত যৌথ অভিযান প্রয়োজন।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং নিয়মিত যৌথ অভিযানের মাধ্যমে করতোয়া নদীর চরাঞ্চলে গড়ে ওঠা এই জুয়ার সাম্রাজ্য ভেঙে দিয়ে এলাকার সামাজিক স্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুনঃ  রিফাত হত্যার রায়: ৫ জনের ফাঁসি, ৫ জনের ১০ বছর কারাদণ্ড, ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড