Dhaka ১১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গোপালগঞ্জ মহাসড়কে বাসচাপায় ৫ জন নিহত ঈশ্বরদীতে পদ্মায় জেলেদের ওপর সশস্ত্র হামলা, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৪ জয়পুরহাট সীমান্তে তিনজনকে বাংলাদেশ ডোকানোর চেস্টা,ব্যর্থ বিএসএফ টানা বর্ষণে পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে যুবদল নেতা ইউছুপ চৌধুরী জাতীয় পর্যায় শ্রেষ্ঠ হলেন প্রধান শিক্ষক মো. হেদায়েত হোসেন দিনাজপুর সীমান্তে ৪ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা চট্টগ্রামে বন্যাদুর্গত ও পানিবন্দি মানুষের পাশে বাংলাদেশ নৌবাহিনী বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, দ্রুত বিচারের দাবি পরিবারের নাগেশ্বরীতে জাতীয় ডেঙ্গু নির্দেশিকা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত চিলমারীতে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের অভিষেক অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত

বন্যা ও পাহাড় ধসে স্তব্ধ তিন পার্বত্য জেলার জীবনযাত্রা, অন্তত ১৫টি উপজেলায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

মাসুদ রানা মাসুম, পার্বত্য ব্যুরো:
টানা কয়েক দিনের রেকর্ডভাঙা অতি ভারী বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের যৌথ আঘাতে নজিরবিহীন দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি—এই তিন পার্বত্য জেলার অন্তত ১৫টি উপজেলা ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সাঙ্গু, মাতামুহুরী, চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এবং কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিন জেলা মিলিয়ে প্রায় তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাছাড়া বন্যার পাশাপাশি সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পাহাড় ধসের ঝুঁকি। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় বহু ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে মাইকিং করে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বান্দরবানে সাঙ্গুর তাণ্ডবে, বান্দরবান জেলার পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়ি উপজেলা কার্যত দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সাঙ্গু নদীর তীব্র স্রোতের কারণে নৌ-যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে, অন্যদিকে পাহাড় ধসে একাধিক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থলপথও বন্ধ রয়েছে। বান্দরবান শহরের আর্মি পাড়া, ইসলামপুর, শেরেবাংলা নগরসহ নিচু এলাকাগুলো হাঁটু থেকে বুকসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি ভাটির দিকে ছড়িয়ে পড়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কেরানিহাট ও চন্দনাইশ অংশেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, ফলে কক্সবাজারমুখী যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
রাঙ্গামাটিতে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি, বাঘাইছড়িতে হাহাকার, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি, লংগদু ও জুরাছড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা কাপ্তাই হ্রদের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকগামী সড়কের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছেন। একই সঙ্গে কাঁচা ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও মাছের ঘের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। রাঙ্গামাটি শহরের বিভিন্ন পাহাড়ি ঢালে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতকৃত আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
খাগড়াছড়িতে চেঙ্গী ও মাইনীর প্লাবন, খাগড়াছড়ি সদর, দীঘিনালা ও মেরুং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা চেঙ্গী ও মাইনী নদীর উপচে পড়া পানিতে প্লাবিত হয়েছে। লখাইছড়ি ও দীঘিনালার বিভিন্ন সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার একর আউশ ধান, ভুট্টা ও সবজিখেত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষিখাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে পার্বত্য চট্টগ্রামের বন্যা ও পাহাড় ধস পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মীর হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলের একটি মানুষও যেন সহায়তাহীন না থাকে, সে জন্য সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।”
তিনি জানান, দুর্গতদের জন্য শুকনো খাবার, নগদ অর্থ ও জরুরি ওষুধ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট মেরামত এবং কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য দ্রুত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
আবহাওয়ায় স্বস্তির আভাস, তবুও সতর্কতা, আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দিনের দুর্যোগ সৃষ্টিকারী ঘন মেঘমালা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতাও কমছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পাহাড়ি অঞ্চলের পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করতে পারে। তবে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক করে বলেছেন, পাহাড়ের মাটি এখনো অত্যন্ত নরম অবস্থায় রয়েছে। ফলে পানি কমে গেলেও অন্তত আগামী ৪৮ ঘণ্টা পাহাড় ধসের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি থাকবে। এদিকে তিন পার্বত্য জেলায় প্রশাসনের উদ্যোগে ৫০০টিরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। তবে দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে নৌ ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। পানিবন্দী এলাকায় ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের আশঙ্কায় মেডিকেল টিম গঠন করা হলেও ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি দেশের মানবিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষকে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুনঃ  লক্ষীপুর পৌরসভার বাজেট ঘোষণা ৮৬ কোটি টাকা
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গোপালগঞ্জ মহাসড়কে বাসচাপায় ৫ জন নিহত

বন্যা ও পাহাড় ধসে স্তব্ধ তিন পার্বত্য জেলার জীবনযাত্রা, অন্তত ১৫টি উপজেলায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

আপডেটের সময়: ০৬:৩৪:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

মাসুদ রানা মাসুম, পার্বত্য ব্যুরো:
টানা কয়েক দিনের রেকর্ডভাঙা অতি ভারী বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের যৌথ আঘাতে নজিরবিহীন দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি—এই তিন পার্বত্য জেলার অন্তত ১৫টি উপজেলা ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সাঙ্গু, মাতামুহুরী, চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এবং কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিন জেলা মিলিয়ে প্রায় তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাছাড়া বন্যার পাশাপাশি সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পাহাড় ধসের ঝুঁকি। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় বহু ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে মাইকিং করে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বান্দরবানে সাঙ্গুর তাণ্ডবে, বান্দরবান জেলার পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়ি উপজেলা কার্যত দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সাঙ্গু নদীর তীব্র স্রোতের কারণে নৌ-যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে, অন্যদিকে পাহাড় ধসে একাধিক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থলপথও বন্ধ রয়েছে। বান্দরবান শহরের আর্মি পাড়া, ইসলামপুর, শেরেবাংলা নগরসহ নিচু এলাকাগুলো হাঁটু থেকে বুকসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি ভাটির দিকে ছড়িয়ে পড়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কেরানিহাট ও চন্দনাইশ অংশেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, ফলে কক্সবাজারমুখী যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
রাঙ্গামাটিতে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি, বাঘাইছড়িতে হাহাকার, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি, লংগদু ও জুরাছড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা কাপ্তাই হ্রদের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকগামী সড়কের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছেন। একই সঙ্গে কাঁচা ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও মাছের ঘের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। রাঙ্গামাটি শহরের বিভিন্ন পাহাড়ি ঢালে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতকৃত আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
খাগড়াছড়িতে চেঙ্গী ও মাইনীর প্লাবন, খাগড়াছড়ি সদর, দীঘিনালা ও মেরুং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা চেঙ্গী ও মাইনী নদীর উপচে পড়া পানিতে প্লাবিত হয়েছে। লখাইছড়ি ও দীঘিনালার বিভিন্ন সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার একর আউশ ধান, ভুট্টা ও সবজিখেত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষিখাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে পার্বত্য চট্টগ্রামের বন্যা ও পাহাড় ধস পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মীর হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলের একটি মানুষও যেন সহায়তাহীন না থাকে, সে জন্য সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।”
তিনি জানান, দুর্গতদের জন্য শুকনো খাবার, নগদ অর্থ ও জরুরি ওষুধ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট মেরামত এবং কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য দ্রুত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
আবহাওয়ায় স্বস্তির আভাস, তবুও সতর্কতা, আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দিনের দুর্যোগ সৃষ্টিকারী ঘন মেঘমালা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতাও কমছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পাহাড়ি অঞ্চলের পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করতে পারে। তবে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক করে বলেছেন, পাহাড়ের মাটি এখনো অত্যন্ত নরম অবস্থায় রয়েছে। ফলে পানি কমে গেলেও অন্তত আগামী ৪৮ ঘণ্টা পাহাড় ধসের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি থাকবে। এদিকে তিন পার্বত্য জেলায় প্রশাসনের উদ্যোগে ৫০০টিরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। তবে দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে নৌ ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। পানিবন্দী এলাকায় ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের আশঙ্কায় মেডিকেল টিম গঠন করা হলেও ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি দেশের মানবিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষকে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুনঃ  দেবিদ্বারে অবৈধ ড্রেজার বিরোধী অভিযানে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, ২টি ড্রেজার -পাইপ ধ্বংস