
তৌহিদ-উল বারী, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) ‘বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বিশ্ব হাতি দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা এবং বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রামের উদ্যোগে উপজেলার নাপোড়া শেখেরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি র্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা দীপান্বিতা ভট্টাচার্য। প্রধান অতিথি ছিলেন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। বাঁশখালী ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হকের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন সরকারি আলাওল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. আজিজুর রহমান, নাপোড়া শেখেরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ দপ্তরের কর্মকর্তা ডা. শাহজাদা জুলকার নাইন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, সাংবাদিক শিব্বির আহমদ রানা ও প্রকাশ বড়ুয়া। বক্তারা বলেন, হাতি বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হাতির আবাসস্থল ও বন রক্ষা, মানুষ ও হাতির সংঘাত কমানো এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে হাতির নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র নিশ্চিত করতে বনভূমি সংরক্ষণ ও অবৈধ দখল রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
অনুষ্ঠানে বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫ জন কৃষকের মাঝে সরকারি অনুদান হিসেবে মোট ১৯ লাখ ১৫ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিভাগভিত্তিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ এবং শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে বিভিন্ন জাতের ফলদ গাছের চারা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক, সংবাদকর্মী, সমাজকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত এক দশকে বাঁশখালীতে বন্যহাতির আক্রমণে অন্তত ১২ থেকে ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে বিভিন্ন কারণে মারা গেছে প্রায় ১৪ থেকে ১৫টি বন্যহাতি। বর্তমানে উপজেলার বনাঞ্চলে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০টি বন্যহাতি বিচরণ করছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















