
জালাল উদ্দিন জুয়েলঃ বরগুনা জেলার সার্বিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, পেশাজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় চীফ হুইপ জনাব মোঃ নুরুল ইসলাম মনি, এমপি। তিনি বলেন বরগুনার উন্নয়নের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক। জেলার উন্নয়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বরগুনার বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। ৭ আগস্ট ২০২৬, শুক্রবার রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে বরগুনা জেলা অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত বরগুনা জেলার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভা-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মাননীয় চীফ হুইপ বলেন, বরগুনার উন্নয়নই আমাদের অঙ্গীকার। তিনি বরগুনার অবকাঠামো উন্নয়ন, উপকূলীয় এলাকার সম্ভাবনা, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বরগুনার সামগ্রিক উন্নয়নে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সমন্বিত উদ্যোগই জেলার সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে।
তিনি উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ, কৃষি, মৎস্য ও শিল্প খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বৃদ্ধির আহ্বান জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন মোঃ মনিরুজ্জামান, পরিচালক, খাদ্য অধিদপ্তর এবং সম্মানিত উপদেষ্টা, বরগুনা জেলা অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মোছাঃ ফেরদৌসী বেগম, অতিরিক্ত সচিব ও চেয়ারম্যান, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, জনাব খোন্দকার মোঃ নাজমুল হুদা শামীম, অতিরিক্ত সচিব, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম. এ. রহিম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, মোঃ সগীর হোসেন, যুগ্ম সচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, মোঃ ইলিয়াস কবির, ডিসি (ডিবি), উত্তরা, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশএবং ডা. মোঃ গোলাম সগীর, সহযোগী অধ্যাপক, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ। এছাড়া বক্তব্য দেন খায়রুল হোসেন রাজু, মনিরুজ্জামান রাজু, মোঃ শামীম হোসেন, মিজানুর রহমান এবং প্রফেসর ড. মোসাম্মৎ আসমা বেগম। স্বাগত বক্তব্য দেন মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ, উপসচিব, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ বিভাগ।
মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা বরগুনা সদর এলাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় বা কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, জেলা সদর হাসপাতালের আধুনিকায়ন, পায়রা ও বিষখালী নদীর ওপর সেতু নির্মাণ, আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নীতকরণ, পায়রা নদীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, নদীভাঙন রোধ, উপকূলীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটন খাতের বিকাশ, শিল্পায়নের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, হার্ট ফাউন্ডেশন ও ডায়াবেটিস হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং মাদকমুক্ত বরগুনা গড়ে তুলতে সমন্বিত টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
সভায় বরগুনা জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রাপ্ত উন্নয়ন প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়। এসব প্রস্তাবের মধ্যে পাথরঘাটার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আধুনিকায়ন, উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণ, তালতলী ও আমতলীর পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানো, বামনা ও বেতাগীর নদীভাঙন রোধ এবং বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের বিষয়ও গুরুত্ব পায়।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ১৫০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৩৯ জন কর্মকর্তা ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তাঁদের আন্তরিক অংশগ্রহণের জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানানো হয়। বক্তারা বলেন, বরগুনার উন্নয়নকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিষয় হিসেবে না দেখে জেলার মানুষের সম্মিলিত স্বার্থ ও অধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা, পেশাজীবী, জনপ্রতিনিধি, প্রবাসী ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বরগুনাকে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় জেলায় পরিণত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ড. ফাহিমা আক্তার, সহযোগী অধ্যাপক, সবুজবাগ সরকারি কলেজ এবং কুদরাত-ই-খুদা গালিব, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ড. মোঃ আল-মামুন, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বিজেআরআই, সকল অতিথি, অংশগ্রহণকারী এবং আয়োজকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
প্রতিবেদকের নাম 
























