Dhaka ০৯:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিতদের শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৪:২৫:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২২ সময় দেখুন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা রাজধানীর শাহবাগে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা। পরে বেলা ১১টার দিকে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন তারা। এ সময় দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানান প্রার্থীরা। চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে তানভীর রহমান বাপ্পারাজ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সরকার আমাদের বাদ দেওয়ার যেই কারণগুলো জানিয়েছেন সেই কারণ দেখিয়ে আমাদের বাদ দেওয়ার অধিকার কি সরকার রাখেন? তিনি বলেন, ‘আমরা এক সরকারের আমলে পরীক্ষা দিয়েছি এবং আপনার আমলে নিয়োগ হচ্ছে বলে শুধুমাত্র রাজনৈতিক রেষারেষির কারণে আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে? এই প্রশ্নটাই আপনার কাছে রেখে গেলাম।’

আরও পড়ুনঃ  স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সড়কে ত্রিপল টানিয়ে চলছে টিকাদান

 

তানভীর বলেন, ‘আমরা যারা এখানে এসেছি, আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মারামারি করতে আসিনি, কোনো বিশৃঙ্খলা করতেও আসিনি। আমরা আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য এসেছি। নিয়োগপত্র না নিয়ে আমরা ঢাকা ছাড়ব না। চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের সংগঠন ‘কেন্দ্রীয় প্যানেল প্রাইমারি ২০২৫’-এর দাবি, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু আজ বেকারদের নিয়ে চূড়ান্ত প্রহসন করা হচ্ছে এবং বেকারত্ব বৃদ্ধি করা হচ্ছে। আমরা চাই না, পুনরায় রি-ভেরিফিকেশনের নামে কোনো প্রহসন করা হোক। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আড়াই হাজারের বেশি প্রার্থীকে কেন বাদ দেওয়া হলো, তার কারণ অজানা। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ আসলে কে, আমরা জানি না। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলে, সকল দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের। আবার মন্ত্রণালয় বলে, জেলা শিক্ষা অফিস মূল দায়িত্বে। আর জেলা অফিস বলে, দায়িত্ব অধিদপ্তরের হাতে। আসলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কারা?

আরও পড়ুনঃ  জাসদ কার্যালয় থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটক অর্ধশতাধিক

 

 

তাদের দাবি, সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় ব্যক্তি এবং সনদ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বাইরে যোগ্য সব প্রার্থীকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিয়োগপত্র দিতে হবে। অন্যথায় কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন তারা। গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়। তবে বিভিন্ন জেলায় শত শত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। এতে তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েছেন ২ হাজার ৩৮৪ প্রার্থী। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা গত ৯ জানুয়ারি ৬১ জেলায় অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  মিরপুরে টিকাদান কেন্দ্রে মুখোশধারীদের হামলা, লুটপাটের অভিযোগ
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিতদের শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি

আপডেটের সময়: ০৪:২৫:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা রাজধানীর শাহবাগে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা। পরে বেলা ১১টার দিকে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন তারা। এ সময় দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানান প্রার্থীরা। চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে তানভীর রহমান বাপ্পারাজ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সরকার আমাদের বাদ দেওয়ার যেই কারণগুলো জানিয়েছেন সেই কারণ দেখিয়ে আমাদের বাদ দেওয়ার অধিকার কি সরকার রাখেন? তিনি বলেন, ‘আমরা এক সরকারের আমলে পরীক্ষা দিয়েছি এবং আপনার আমলে নিয়োগ হচ্ছে বলে শুধুমাত্র রাজনৈতিক রেষারেষির কারণে আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে? এই প্রশ্নটাই আপনার কাছে রেখে গেলাম।’

আরও পড়ুনঃ  জাসদ কার্যালয় থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটক অর্ধশতাধিক

 

তানভীর বলেন, ‘আমরা যারা এখানে এসেছি, আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মারামারি করতে আসিনি, কোনো বিশৃঙ্খলা করতেও আসিনি। আমরা আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য এসেছি। নিয়োগপত্র না নিয়ে আমরা ঢাকা ছাড়ব না। চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের সংগঠন ‘কেন্দ্রীয় প্যানেল প্রাইমারি ২০২৫’-এর দাবি, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু আজ বেকারদের নিয়ে চূড়ান্ত প্রহসন করা হচ্ছে এবং বেকারত্ব বৃদ্ধি করা হচ্ছে। আমরা চাই না, পুনরায় রি-ভেরিফিকেশনের নামে কোনো প্রহসন করা হোক। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আড়াই হাজারের বেশি প্রার্থীকে কেন বাদ দেওয়া হলো, তার কারণ অজানা। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ আসলে কে, আমরা জানি না। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলে, সকল দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের। আবার মন্ত্রণালয় বলে, জেলা শিক্ষা অফিস মূল দায়িত্বে। আর জেলা অফিস বলে, দায়িত্ব অধিদপ্তরের হাতে। আসলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কারা?

আরও পড়ুনঃ  বেলনা খাসকান্দি এলাকায় ট্রাক সিএনজি সংঘর্ষ আহত ১

 

 

তাদের দাবি, সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় ব্যক্তি এবং সনদ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বাইরে যোগ্য সব প্রার্থীকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিয়োগপত্র দিতে হবে। অন্যথায় কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন তারা। গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়। তবে বিভিন্ন জেলায় শত শত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। এতে তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েছেন ২ হাজার ৩৮৪ প্রার্থী। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা গত ৯ জানুয়ারি ৬১ জেলায় অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সড়কে ত্রিপল টানিয়ে চলছে টিকাদান