Dhaka ০৯:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বিদ্যুৎ গেলেই অন্ধকারে কুলাউড়া৫০ শয্যা হাসপাতাল ফরিদগঞ্জে ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়ার বদলি জনিত বিদায় সংবর্ধনা উলিপুর সরকারি কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত নবগঠিত সিলেট জেলা যুবদল কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে জৈন্তাপুরে আনন্দ মিছিল শরীয়তপুর জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটির বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আনন্দ মিছিল চৌরাট শিবপুর বরেন্দ্র ডিগ্রী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন বরণ সুবর্ণচরে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ সমাবেশ ৬ দফা দাবিতে গ্রাহকদের বিক্ষোভ লালপুর ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের উদ্বোধনী ক্লাস অনুষ্ঠিত ধামইরহাট ঐতিহ্যবাহী জগদল আদিবাসী স্কুল ও কলেজে একাদশ শ্রেণীর অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত চিলমারীতে গোলাম হাবিব মহিলা ডিগ্রী কলেজ ওরিয়েন্টেশন- ২৬ অনুষ্ঠিত

পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তিযুদ্ধ মাস কেটে যায় একটি সিটের জন্য

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৭:১২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৭ সময় দেখুন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুপুর ১২টা। রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালের টিকিট কাউন্টার পেরিয়ে আউটডোরের আগে করিডরে বিছানা পেতে বসে আছে ১২ থেকে ১৫টি পরিবার। তাদের একজন আফরিন সুলতানা ( ৩২)। এসেছেন নোয়াখালীর সেনবাগ থেকে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পা ভেঙে গেছে। গত এক মাসের অধিক সময়ে অন্তত চারবার রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে এসে ফিরে গেছেন, সিট খালি নেই বলে ভর্তি দেওয়া হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার ভর্তি হতে পারবেন বলে সব প্রস্তুতি নিয়ে সকালে এসেছেন হাসপাতালে। সঙ্গে আসা মা-বাবা মাদুর পেতে ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে বসে আছেন, ট্রলিতে শুয়ে আছেন আফরিন। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) বা পঙ্গু হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা যায় এমন চিত্র। এসময় কথা হয় আফরিনের বাবা সাহেব উল্যাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘চার তারিখ (চার দফা) ঘোরানোর পর আজ ভর্তি দিবে বলছে। সকাল সকাল গাড়ি নিয়ে এসে বসে আছি। এ পর্যন্ত চারবার আসতে গাড়ি ভাড়ায় ৫০ হাজার টাকা চলে গেছে। এরপর চিকিৎসার কী হয় আল্লাহ জানেন। পাশেই হুইল চেয়ারে বসা সুজন।

আরও পড়ুনঃ  গণভোটের গণরায় পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধন নয়: ১১ দলীয় ঐক্য

 

 

এসেছেন শরীয়তপুর থেকে। রাজমিস্ত্রী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে রডের বাড়ি খেয়ে পা ভেঙে গেছে। তিনিও এক সপ্তাহ আগে আসছিলেন। তখন এক সপ্তাহ পর আসতে বলা হয়। আজ আবার এসে সিরিয়ালে আছেন। তবে ভর্তির বিষয়ে নিশ্চিত নন। ডাক্তার কোনো বৈঠকে আছেন। বৈঠক থেকে এসে দেখে সিদ্ধান্ত দেবেন। কখনো সরকারি হাসপাতালে আসিনি। আজ অসহায় অবস্থায় আসছি। সকাল থেকে ট্রলিতেই লাইন ধরে আছি। খুবই লজ্জা লাগছে। নিজের অসহায়ত্ব আর হাসপাতালের পরিস্থিতি খুব ভয়াবহ।- ভর্তির অপেক্ষায় থাকা খোরশেদ আলম আরেকটু এগিয়ে হাসপাতালের নিচতলার আউটডোরের দেখা গেলো শত শত রোগীর অপেক্ষা। এদের একজন ট্রলিতে বসে আছেন, নাম খোরশেদ আলম। বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। কর্মসূত্রে থাকেন চট্টগ্রামে। সেখানেই তার মোটরসাইকেলে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় ট্রাক। এতে সড়কে ছিটকে পড়ে পা ভেঙে গেছে। বেসরকারি এক হাসপাতালে অপারেশন করলেও এখনো ঠিক হয়নি। পরিচিত চিকিৎসকের পরামর্শে নিটোর বা পঙ্গু হাসপাতালে এসেছেন। আনুমানিক চল্লিশ বছর বয়সী খোরশেদ আলম বলেন, ‘কখনো সরকারি হাসপাতালে আসিনি। গতকাল অসহায় অবস্থায় আসছি।

আরও পড়ুনঃ  সরকারের বড় সাফল্য নির্ভর করছে স্বাস্থ্যখাতের ওপর: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

 

 

সকাল থেকে ট্রলিতেই লাইন ধরে আছি। খুবই লজ্জা লাগছে। নিজের অসহায়ত্ব আর হাসপাতালের পরিস্থিতি খুব ভয়াবহ। শুধু আফরিন, সুজন বা খোরশেদ আলম নন; বৃষ্টিভেজা দিনেই রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে এক হাজার ১৮৮ জন রোগী এসেছেন। সবারই একই অবস্থা। অধিকাংশই ভর্তি থেকে অপারেশন প্রয়োজন। দূর-দূরান্ত থেকে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। সিরিয়ালে সময় তো লাগবেই। অপারেশনের জন্য রোগীকে প্রস্তুত করতে হয়। যারা আগে ভর্তি হয়, তাদের আগে অপারেশন করতে হয়। ভর্তির জন্য সিট খালি থাকে না, তখন ভর্তি করবো কীভাবে? যখন রোগীর ভর্তি হওয়ার দরকার ২০০, সিট আছে ফাঁকা ৫০টা।- নিটোরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কেনান একই চিত্র হাসপাতালের ভেতরেও। একাধিক ভর্তি রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানে ভর্তি হতে যেমন যুদ্ধ, আবার ভর্তির পর অপারেশনের সিরিয়ালেও আরেক যুদ্ধ। সিরিয়াল সহসা পাওয়া যায় না। ১৫ দিন থেকে এক মাসও অপেক্ষা করা লাগে। এক রোগীর স্বজন শাহে আলম বলেন, ‘আমরা গত সপ্তাহে ভর্তি হয়েছি। এখনো অপারেশনের সিরিয়াল পাইনি। যারা সিরিয়াল পায়, তাদেরও সময় লাগে। অনেক সময় সিরিয়াল পাওয়ার পরও ঠিক থাকে না, পিছিয়ে দেয় তারিখ।

আরও পড়ুনঃ  ইরান, গাজা, ইউক্রেন ঘিরে উত্তপ্ত থাকবে জাতিসংঘ অধিবেশন

 

 

এসব অভিযোগ স্বীকার করে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কেনান বলেন, ‘সিরিয়ালে সময় তো লাগবেই। অপারেশনের জন্য রোগীকে প্রস্তুত করতে হয়। যারা আগে ভর্তি হয়, তাদের আগে অপারেশন করতে হয়। সময় তো লাগবেই। ভর্তির জন্য সিট খালি থাকে না, তখন ভর্তি করবো কীভাবে? এটা তো সারা বাংলাদেশের সাধারণ চিত্র। যখন রোগীর ভর্তি হওয়ার দরকার ২০০, সিট আছে ফাঁকা ৫০টা। তো এরকম তো প্রতিদিনই ফেরত যায়, প্রতিদিনই আবার আসে। প্রায়োরিটি ভিত্তিতে ভর্তি করতে হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রকল্প নিচ্ছি, আরও ৫০০ শয্যা বাড়ানোর। এটা হলে কষ্টটা আরেকটু কমবে। এছাড়া হাসপাতালের ভেতরের ইন্সট্রুমেন্টাল ফ্যাসিলিটি বাড়াতে চেষ্টা করছি। এ জন্য বারবার লিখছি। সরকার বাজেট দেবে। তবে সাধারণত সরকারি কাজে একটু সময় লাগে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বিদ্যুৎ গেলেই অন্ধকারে কুলাউড়া৫০ শয্যা হাসপাতাল

পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তিযুদ্ধ মাস কেটে যায় একটি সিটের জন্য

আপডেটের সময়: ০৭:১২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুপুর ১২টা। রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালের টিকিট কাউন্টার পেরিয়ে আউটডোরের আগে করিডরে বিছানা পেতে বসে আছে ১২ থেকে ১৫টি পরিবার। তাদের একজন আফরিন সুলতানা ( ৩২)। এসেছেন নোয়াখালীর সেনবাগ থেকে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পা ভেঙে গেছে। গত এক মাসের অধিক সময়ে অন্তত চারবার রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে এসে ফিরে গেছেন, সিট খালি নেই বলে ভর্তি দেওয়া হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার ভর্তি হতে পারবেন বলে সব প্রস্তুতি নিয়ে সকালে এসেছেন হাসপাতালে। সঙ্গে আসা মা-বাবা মাদুর পেতে ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে বসে আছেন, ট্রলিতে শুয়ে আছেন আফরিন। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) বা পঙ্গু হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা যায় এমন চিত্র। এসময় কথা হয় আফরিনের বাবা সাহেব উল্যাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘চার তারিখ (চার দফা) ঘোরানোর পর আজ ভর্তি দিবে বলছে। সকাল সকাল গাড়ি নিয়ে এসে বসে আছি। এ পর্যন্ত চারবার আসতে গাড়ি ভাড়ায় ৫০ হাজার টাকা চলে গেছে। এরপর চিকিৎসার কী হয় আল্লাহ জানেন। পাশেই হুইল চেয়ারে বসা সুজন।

আরও পড়ুনঃ  শজিমেকে পূর্ণাঙ্গ হৃদরোগ সার্জারি ইউনিট চালুর দাবি

 

 

এসেছেন শরীয়তপুর থেকে। রাজমিস্ত্রী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে রডের বাড়ি খেয়ে পা ভেঙে গেছে। তিনিও এক সপ্তাহ আগে আসছিলেন। তখন এক সপ্তাহ পর আসতে বলা হয়। আজ আবার এসে সিরিয়ালে আছেন। তবে ভর্তির বিষয়ে নিশ্চিত নন। ডাক্তার কোনো বৈঠকে আছেন। বৈঠক থেকে এসে দেখে সিদ্ধান্ত দেবেন। কখনো সরকারি হাসপাতালে আসিনি। আজ অসহায় অবস্থায় আসছি। সকাল থেকে ট্রলিতেই লাইন ধরে আছি। খুবই লজ্জা লাগছে। নিজের অসহায়ত্ব আর হাসপাতালের পরিস্থিতি খুব ভয়াবহ।- ভর্তির অপেক্ষায় থাকা খোরশেদ আলম আরেকটু এগিয়ে হাসপাতালের নিচতলার আউটডোরের দেখা গেলো শত শত রোগীর অপেক্ষা। এদের একজন ট্রলিতে বসে আছেন, নাম খোরশেদ আলম। বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। কর্মসূত্রে থাকেন চট্টগ্রামে। সেখানেই তার মোটরসাইকেলে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় ট্রাক। এতে সড়কে ছিটকে পড়ে পা ভেঙে গেছে। বেসরকারি এক হাসপাতালে অপারেশন করলেও এখনো ঠিক হয়নি। পরিচিত চিকিৎসকের পরামর্শে নিটোর বা পঙ্গু হাসপাতালে এসেছেন। আনুমানিক চল্লিশ বছর বয়সী খোরশেদ আলম বলেন, ‘কখনো সরকারি হাসপাতালে আসিনি। গতকাল অসহায় অবস্থায় আসছি।

আরও পড়ুনঃ  যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ শর্ত ইরানের না মানলে চূড়ান্ত যুদ্ধের হুমকি

 

 

সকাল থেকে ট্রলিতেই লাইন ধরে আছি। খুবই লজ্জা লাগছে। নিজের অসহায়ত্ব আর হাসপাতালের পরিস্থিতি খুব ভয়াবহ। শুধু আফরিন, সুজন বা খোরশেদ আলম নন; বৃষ্টিভেজা দিনেই রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে এক হাজার ১৮৮ জন রোগী এসেছেন। সবারই একই অবস্থা। অধিকাংশই ভর্তি থেকে অপারেশন প্রয়োজন। দূর-দূরান্ত থেকে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। সিরিয়ালে সময় তো লাগবেই। অপারেশনের জন্য রোগীকে প্রস্তুত করতে হয়। যারা আগে ভর্তি হয়, তাদের আগে অপারেশন করতে হয়। ভর্তির জন্য সিট খালি থাকে না, তখন ভর্তি করবো কীভাবে? যখন রোগীর ভর্তি হওয়ার দরকার ২০০, সিট আছে ফাঁকা ৫০টা।- নিটোরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কেনান একই চিত্র হাসপাতালের ভেতরেও। একাধিক ভর্তি রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানে ভর্তি হতে যেমন যুদ্ধ, আবার ভর্তির পর অপারেশনের সিরিয়ালেও আরেক যুদ্ধ। সিরিয়াল সহসা পাওয়া যায় না। ১৫ দিন থেকে এক মাসও অপেক্ষা করা লাগে। এক রোগীর স্বজন শাহে আলম বলেন, ‘আমরা গত সপ্তাহে ভর্তি হয়েছি। এখনো অপারেশনের সিরিয়াল পাইনি। যারা সিরিয়াল পায়, তাদেরও সময় লাগে। অনেক সময় সিরিয়াল পাওয়ার পরও ঠিক থাকে না, পিছিয়ে দেয় তারিখ।

আরও পড়ুনঃ  আড্ডা মাদক দাপটে কিশোর হয়ে উঠছে অপরাধী

 

 

এসব অভিযোগ স্বীকার করে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কেনান বলেন, ‘সিরিয়ালে সময় তো লাগবেই। অপারেশনের জন্য রোগীকে প্রস্তুত করতে হয়। যারা আগে ভর্তি হয়, তাদের আগে অপারেশন করতে হয়। সময় তো লাগবেই। ভর্তির জন্য সিট খালি থাকে না, তখন ভর্তি করবো কীভাবে? এটা তো সারা বাংলাদেশের সাধারণ চিত্র। যখন রোগীর ভর্তি হওয়ার দরকার ২০০, সিট আছে ফাঁকা ৫০টা। তো এরকম তো প্রতিদিনই ফেরত যায়, প্রতিদিনই আবার আসে। প্রায়োরিটি ভিত্তিতে ভর্তি করতে হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রকল্প নিচ্ছি, আরও ৫০০ শয্যা বাড়ানোর। এটা হলে কষ্টটা আরেকটু কমবে। এছাড়া হাসপাতালের ভেতরের ইন্সট্রুমেন্টাল ফ্যাসিলিটি বাড়াতে চেষ্টা করছি। এ জন্য বারবার লিখছি। সরকার বাজেট দেবে। তবে সাধারণত সরকারি কাজে একটু সময় লাগে।