
কাজী আন্নিল তানভীর, স্টাফ রিপোর্টার
দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে নতুন গতি ফিরেছে ঢাকা জেলা পরিষদের নির্মাণাধীন ২০ তলা আধুনিক বহুতল বাণিজ্যিক ভবন (ঢাকা জেলা পরিষদ টাওয়ার) প্রকল্পে। আজ থেকে ভবনের পূর্ববর্তী ঠিকাদার মেসার্স তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোং লিমিটেড কর্তৃক সম্পাদিত নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক যৌথ পরিমাপ (Joint Measurement) ও যৌথ জরিপ (Joint Survey) কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
একই সঙ্গে ভবনটির কারিগরি স্থায়িত্ব ও মান যাচাইয়ের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) ‘Technical Verification’ ও ‘Technical Certification’ কার্যক্রম শুরু করেছে।
মাঠে নেমেছে উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি
ঢাকা জেলা পরিষদের অফিস আদেশ অনুযায়ী গঠিত যৌথ পরিমাপ কমিটিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। কমিটিতে রয়েছেন:
গণপূর্ত অধিদপ্তর: জনাব মোঃ রকিবুল ইসলাম (উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, সিভিল, ঢাকা গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৮)
এলজিইডি: জনাব বিভূতি মোহন পাল (নিবাহী প্রকৌশলী, Building Design)
জেলা প্রশাসন, ঢাকা: জনাব জাকিয়া মুমতাহিনা (সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট)
অন্যান্য: মেসার্স তমা কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধি এবং ঢাকা জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী।
আগামী কয়েকদিন এই যৌথ জরিপ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ সময় এ পর্যন্ত সম্পাদিত কাজের পরিমাণ, নির্মাণমান, বিদ্যমান কাঠামোর বর্তমান অবস্থা এবং অসমাপ্ত কাজের প্রকৃত চিত্র নিরূপণ করা হবে। এলজিইডির কারিগরি দল বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করে একটি পূর্ণাঙ্গ কারিগরি প্রত্যয়ন (Technical Certification) প্রদান করবে, যা পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন সাপেক্ষে সরকারি ক্রয়বিধি (PPR) অনুসরণ করে অবশিষ্ট কাজের জন্য দ্রুতই পুনঃদরপত্র (Re-tender) আহ্বান করা হবে।
উত্তরা থেকে আবার পুরান ঢাকায় ফিরবে জেলা পরিষদ
ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক জনাব ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ বলেন, “ঢাকা জেলা পরিষদ টাওয়ার শুধু একটি ভবন নয়; এটি আমাদের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকা এই প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করতে বর্তমান প্রশাসন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।”
তিনি জানান, ভবনটিতে ২টি বেইজমেন্ট, ২০টি ফ্লোর, প্রতি তলায় প্রায় ১৫ হাজার বর্গফুট ব্যবহারযোগ্য বাণিজ্যিক স্পেস এবং একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম রয়েছে। একসময় এই স্থানেই জেলা পরিষদের নিজস্ব কার্যালয় ছিল। বর্তমানে জেলা পরিষদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে উত্তরা সেক্টর-৬ থেকে পরিচালিত হচ্ছে, যা সেবাগ্রহীতাদের জন্য বেশ অসুবিধাজনক। তাই ভবনটির নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রথম অগ্রাধিকার হবে জেলা পরিষদের নিজস্ব কার্যালয় এখানে ফিরিয়ে আনা। পরবর্তীতে পুরান ঢাকার আদালত ও ডিসি অফিস এলাকার আইনজীবীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বাণিজ্যিক স্পেসগুলো ধাপে ধাপে লিজ দেওয়া হবে।
নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ জোর: অবশিষ্ট নির্মাণকাজে Fire Compliance, Structural Safety, Electrical Safety, Building Code, Accessibility এবং অন্যান্য সকল প্রযোজ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।
’ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা’ থেকে কাজ করছেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
সদ্য দায়িত্ব নেওয়া ঢাকা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) মোঃ বদরুদ্দোজা শুভ, বিসিএস (প্রশাসন) বলেন, “২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (ADC) হিসেবে কাজ করার সময় প্রতিদিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা এই বিশাল ভবনটির অসমাপ্ত অবস্থা দেখে ব্যথিত হতাম। আজ সরাসরি এই প্রকল্প নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাওয়ায় এটিকে আমি একটি ব্যক্তিগত দায়িত্ব হিসেবে দেখছি।”
তিনি করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আইনজীবী এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ভবনের বাণিজ্যিক স্পেস লিজ প্রদানের কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে, যা ঢাকা জেলা পরিষদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করবে এবং পুরান ঢাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
প্রকল্পের পটভূমি
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে ঢাকা জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে এই মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত জটিলতায় কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমান প্রশাসক জনাব ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদ দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রকল্পটি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, পুনঃদরপত্র প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলে বহু বছর ধরে আটকে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি দ্রুত আলোর মুখ দেখবে।
প্রতিবেদকের নাম 



















