
(এস কে শুভ) স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর: গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৭ (কোনাবাড়ী) আঞ্চলিক কার্যালয়ে সক্রিয় একটি দালাল চক্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সরকারি সেবাকে জিম্মি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্সসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে এসে প্রতিদিনই সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি, অযৌক্তিক কাগজপত্রের চাপ এবং অযথা বিলম্বের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। আজ সোমবার (২৭ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রবেশপথ ও আশপাশে কয়েকজন ব্যক্তি অবস্থান নিয়ে সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন। তারা নিজেদের মাধ্যমে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ দাবি করছেন। অভিযোগ রয়েছে, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন কিংবা নতুন লাইসেন্স করতে আসা ব্যক্তিদের টার্গেট করে এসব দালাল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, আলমগীর হোসেনসহ কয়েকজন দালাল দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক কার্যালয়ের ট্রেড লাইসেন্স শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে যাদের নাম এসেছে তারা হলেন, মাস্টার রুলে নিয়োগ প্রাপ্ত ট্রেড লাইসেন্স সহকারী রাসেল হোসেন, বিল্লাল হোসেন, মতিউর রহমান, দেলোয়ার হোসেন এবং অফিস সহকারী সিদ্দিক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, গত মঙ্গলবার সকালে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের জন্য কোনাবাড়ী আঞ্চলিক কার্যালয়ে গেলে গেটের সামনে সাবেক সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরের সচিব পরিচয়দানকারী আলমগীর হোসেন তাকে পাশের একটি অফিসে নিয়ে যান।
সেখানে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। ভুক্তভোগীর ভাষ্য, “সরকারি ফি যেখানে প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা, সেখানে অতিরিক্ত টাকা কেন দিতে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা লাইসেন্সে স্বাক্ষর করবেন তাদের দিতে হবে। টাকা না দিলে বিভিন্ন কাগজপত্র চেয়ে হয়রানি করা হবে, আর বেশি টাকা দিলে কোনো ঝামেলা হবে না। আরেক ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন অভিযোগ করেন, তার দোকানের নতুন ট্রেড লাইসেন্স করতে সরকারি নির্ধারিত ফি প্রায় ১ হাজার ৬৫৪ টাকা হলেও তাকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। অথচ সরকারি রসিদে উল্লেখ রয়েছে মাত্র ১ হাজার ৬৫৪ টাকা। তিনি আরও বলেন, “দুই দিনের মধ্যে লাইসেন্স দেওয়ার কথা থাকলেও এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়েছে। মনে হয়েছে, দালাল ছাড়া এখানে কোনো কাজ সহজে হয় না। অভিযোগ রয়েছে, দালালদের মাধ্যমে কাজ করালে দ্রুত সেবা মিললেও সরাসরি আবেদন করলে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়। এতে সরকারি সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এবিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৭ এর কর কর্মকর্তা (লাইসেন্স) মো. মোস্তফা কামাল বলেন, “কয়েকদিন আগে প্রশাসনের এক কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছিলেন, আমাদের কার্যালয়ের পাশে দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে। আপনার মাধ্যমেও বিষয়টি জানতে পারলাম।
বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং দালাল চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অঞ্চল-৭-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা নাজরাতুন নাঈম বলেন, “আলমগীর হোসেন নামে যার কথা বলা হচ্ছে, তার বেতন ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে তিনি আমাদের কর্মচারী নন এবং অফিসেও আসেন না। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অফিসের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গণমাধ্যম বা ভুক্তভোগীরা তথ্য দিলে আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সেবাপ্রার্থীদের দাবি, দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে সরাসরি নাগরিক সেবা প্রদান, সিসিটিভির আওতায় সেবা কার্যক্রম পরিচালনা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তাদের মতে, এতে যেমন হয়রানি কমবে, তেমনি সরকারি সেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও ফিরে আসবে।
প্রতিবেদকের নাম 


















