
মোঃ আলমগীর হোসাইন কুড়িগ্রাম জেলা,প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নে একটি সেতু ধসের ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচগাছী, যাত্রাপুর ও বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলাখ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণকাজ ও দীর্ঘদিন অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ( (২৫ মে) দুপুরে সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ট্রাক্টর সেতুর ওপর ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই সেটি হঠাৎ ভেঙে নিচে পড়ে যায়। মুহূর্তেই ট্রাক্টরে থাকা কয়েকজন যাত্রী ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যান। আহতদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। আহত অন্য পাঁচজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, ২০০৩ সালে নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো সংস্কার বা বিকল্প ব্যবস্থা নেয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতুটি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়া নিম্নমানের নির্মাণকাজেরই প্রতিফলন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা সেতু নির্মাণে জড়িত ঠিকাদার ও তৎকালীন এলজিইডি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সেতুটি ধসে পড়ায় তিনটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাঁচগাছী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন জানান, দুর্ঘটনার পরপরই বিষয়টি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, সেতুটি আগে থেকেই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ছিল এবং সেখানে ভারী যানবাহন চলাচল না করার জন্য স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছিল। আপাতত বন্যা শেষে সেখানে মাটির রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া জরুরি যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে সোমবারের মধ্যে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এলজিইডির এমন বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা সেতুটি নিয়ে আগেভাগে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং দ্রুত বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর দাবিতে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রতিবেদকের নাম 


















