
ধামরাই উপজেলা প্রতিনিধি: সোহেল আমিন
ঢাকা জেলার ঐতিহ্যবাহী ধামরাই থানায় দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। গত কয়েক দিন ধরে হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ অস্বাভাবিক কমে যাওয়া ও বহু এলাকায় পুরোপুরি বন্ধ থাকার কারণে নেমে এসেছে হাহাকার। ২৮/০৭/২৬ (রোজ মঙ্গলবার) আমরা সরজমিনে গিয়ে দেখতে পারি এই সংকট এখনো কাটিনি ফলে আবাসিক গ্রাহক, গ্যাসচালিত পরিবহনমালিক এবং গ্যাসনির্ভর মিল-কারখানার শ্রমিক ও মালিকেরা পড়েছেন চরম বিপাকে।
থমকে গেছে পরিবহন ও অর্থনীতি
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন সিএনজি চালিত চালক ও পরিবহনমালিকেরা। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে গাড়িগুলোকে। এতে কমে গেছে আয়-রোজগার।
হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ধামরাইয়ের এক গ্যাসচালিত পরিবহনমালিক বলেন,
“গ্যাসের যে অবস্থা, গাড়ির চাকা ঘোরে না। আয়-রোজগার না থাকায় পরিবার চালানোই এখন দায় হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন পেটের তাগিদে বের হয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। আমরা এখন কী করব, ভেবে পাচ্ছি না।”
ভোগান্তির শেষ নেই বাসাবাড়ি ও কারখানায়
কেবল পরিবহনই নয়, গ্যাস সংকটের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে ধামরাইয়ের আবাসিক এলাকাগুলোতেও। সকাল থেকেই চুলা না জ্বলায় চরম বিপাকে পড়েছেন গৃহিণীরা। রান্না বান্না বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার গ্যাস বা লাকড়ির চুলা ব্যবহার করতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, ধামরাই উপজেলার শিল্পাঞ্চল ও গ্যাসনির্ভর মিল-কারখানাগুলোতে কাঙ্ক্ষিত চাপের (প্রেসার) অভাবে উৎপাদন নেমে এসেছে তলানিতে। এতে লোকসানের মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা, শঙ্কা দেখা দিয়েছে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়েও।
দ্রুত সমাধানের আকুল আবেদন
এলাকাবাসী, পরিবহনমালিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একটাই দাবি— কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত এই সংকটের কারণ চিহ্নিত করে ধামরাইয়ে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা। অনতিবিলম্বে সরকারি ও সংশ্লিষ্ট তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণের অন্য কোনো উপায় দেখছেন না ধামরাইবাসী।
প্রতিবেদকের নাম 



















