
এস কে সাগর মির্জা, জেলা প্রতিনিধি বগুড়া: কখনো হাতে কোদাল, কখনো ফগার মেশিন, আবার কখনো কাঁধে ঢোল নিয়ে জনসচেতনতার প্রচারণা ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে মাঠে নেমেছে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোশারফ হোসেন। শনিবার ১২সেপ্টেম্বর নন্দীগ্রাম পৌর এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে নিজেই বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন তিনি। তার এমন সরাসরি অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। অভিযানের শুরুতেই এমপি মোশারফ হোসেনকে হাতে কোদাল নিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিতে দেখা যায়। পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল পরিষ্কারে তিনি অন্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন।
এরপর হাতে তুলে নেন ফগার মেশিন। পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে মশক নিধনে নিজেই কীটনাশক স্প্রে করেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা অংশগ্রহণকারীরাও বিভিন্ন এলাকায় মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ফগিং কার্যক্রম পরিচালনা করেন। শুধু পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধনেই থেমে থাকেননি এমপি মোশারফ। সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধের সচেতনতা বাড়াতে কাঁধে ঢোল তুলে নিয়ে প্রচারণাতেও অংশ নেন তিনি। তার এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এ সময় নাগরিকদের বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে বাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশ, পরিত্যক্ত জায়গা, ডাবের খোসা, পুরোনো টায়ার, বিভিন্ন পাত্র ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এমপি মোশারফ হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।শুধু মশক নিধন করলেই হবে না, প্রত্যেক নাগরিককে নিজের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে দ্রুত তা অপসারণ করতে হবে এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। তিনি আরও বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা গেলে ডেঙ্গুসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগের বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এ জন্য প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিক সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন সরকার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল মাহমুদ লিটন, নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলামসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, স্কাউট ও গার্লস গাইডের সদস্য এবং শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে নন্দীগ্রাম পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা, মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত ও পরিষ্কার এবং ফগিংয়ের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হয়। একই সঙ্গে নাগরিকদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।
প্রতিবেদকের নাম 



















