Dhaka ০৮:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃ স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টঃ উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক পরিষদ গঠিত বৃষ্টি ছাড়াই বজ্রপাত, ঠাকুরগাঁওয়ে গরুর মৃত্যু মোংলায় ভুয়া র‍্যাব পরিচয়কারী আটক গোবিন্দগঞ্জে মাদকসহ ২ জন কে ৩৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বগুড়ার সাবেক পৌর প্রশাসক রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ ভোলায় ফ্ল্যাট থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক কাউনিয়ার কুর্শায় নারী কৃষকদের উৎপাদিত দেশি হাঁস-মুরগি ও ডিমের হাট উদ্বোধন হামে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আড়াই মাসে প্রাণ গেল ৬০৫ জনের বন্ধ কারখানায় বিনিয়োগ টানতে রোড শো করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ভারত বা পাকিস্তান, কোনো বলয়ে যেতে চায় না বাংলাদেশের মানুষ: মির্জা ফখরুল

ইরানের নতুন রণকৌশল ফাঁদে যুক্তরাষ্ট্র

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৮:০১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ১৩৭ সময় দেখুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের শাসনব্যবস্থা উপড়ে ফেলার যে লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ অভিযান শুরু করেছিল, যুদ্ধের চতুর্থ দিনে এসে সেই সমীকরণ অনেকটাই পাল্টে গেছে। তেহরানে জনরোষ তৈরি করে অভ্যন্তরীণ ধস নামানোর পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়ে উল্টো যুদ্ধের পরিধি নতুন নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যূহ ভেদ করে ইরানের পাল্টা আঘাত এবং ইসলামি শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতা এখন তেল আবিব ও ওয়াশিংটনকে তাদের পুরনো হিসাব নতুন করে মেলাতে বাধ্য করছে। প্রাথমিক ‘শক অ্যান্ড অউ’ (আকস্মিক প্রচণ্ড আঘাত) কৌশল প্রত্যাশিত সাফল্য না আনায় মার্কিন প্রশাসনে এখন উদ্বেগের সুর। পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা যেখানে একে সীমিত যুদ্ধ বলতে চেয়েছিলেন, এখন তারাই অতিরিক্ত প্রাণহানি ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এখন শাসন পরিবর্তনের চেয়ে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সম্পূর্ণ নির্মূল করাকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তবে এই লক্ষ্য অর্জন যে সময়ের ব্যাপার, তা স্পষ্ট।

আরও পড়ুনঃ  বিদ্যুতের দাম বাড়লো

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণের পর ইরান আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করে এক সুচিন্তিত সামরিক কৌশলে হাঁটছে। বড় কোনো একক হামলার বদলে তারা এখন ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে টানা হামলা চালাচ্ছে। তেহরানের মূল লক্ষ্য হলো পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া। আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এখন আগের চেয়ে সুসংহত এবং তারা আগামী কয়েক মাস এই প্রতিরোধ বজায় রাখার সক্ষমতা রাখে। ইরান এই সংঘাতকে কেবল নিজেদের সীমান্তে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন নিরাপত্তা বলয়কে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো দেশে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলো হামলার শিকার হওয়ায় আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বন্ধ কারখানায় বিনিয়োগ টানতে রোড শো করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও জ্বালানি খাতে হামলার হুমকিতে বিশ্ববাজারে তেল-গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। সৌদি আরব ও কাতার ইতিমধ্যে তাদের গুরুত্বপূর্ণ শোধনাগার ও এলএনজি কেন্দ্র বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। ইসরায়েল এখন দাবি করছে যে, শাসন পরিবর্তন করতে হলে শেষ পর্যন্ত স্থল অভিযানের প্রয়োজন হতে পারে। ওয়াশিংটন সরাসরি স্থল যুদ্ধের কথা অস্বীকার করলেও কুর্দি গোষ্ঠী বা ইরানি বিরোধীদের ব্যবহারের মতো বিকল্প পথ খোলা রাখছে। তবে ইরানের ‘সহ্যের পরীক্ষা’ নেওয়ার এই কৌশল মার্কিন বিশ্বাসের ভিত নাড়িয়ে দিচ্ছে। যুদ্ধের ব্যয় যত বাড়ছে, আলোচনার টেবিলে ইরানের পাল্লা ততই ভারী হচ্ছে, যা ওয়াশিংটনের জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ফ্ল্যাটে মায়ের নিঃসঙ্গ মৃত্যু ছেলে সেই যুগ্মসচিবকে প্রত্যাহার
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃ স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টঃ উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক পরিষদ গঠিত

ইরানের নতুন রণকৌশল ফাঁদে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটের সময়: ০৮:০১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের শাসনব্যবস্থা উপড়ে ফেলার যে লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ অভিযান শুরু করেছিল, যুদ্ধের চতুর্থ দিনে এসে সেই সমীকরণ অনেকটাই পাল্টে গেছে। তেহরানে জনরোষ তৈরি করে অভ্যন্তরীণ ধস নামানোর পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়ে উল্টো যুদ্ধের পরিধি নতুন নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যূহ ভেদ করে ইরানের পাল্টা আঘাত এবং ইসলামি শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতা এখন তেল আবিব ও ওয়াশিংটনকে তাদের পুরনো হিসাব নতুন করে মেলাতে বাধ্য করছে। প্রাথমিক ‘শক অ্যান্ড অউ’ (আকস্মিক প্রচণ্ড আঘাত) কৌশল প্রত্যাশিত সাফল্য না আনায় মার্কিন প্রশাসনে এখন উদ্বেগের সুর। পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা যেখানে একে সীমিত যুদ্ধ বলতে চেয়েছিলেন, এখন তারাই অতিরিক্ত প্রাণহানি ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এখন শাসন পরিবর্তনের চেয়ে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সম্পূর্ণ নির্মূল করাকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তবে এই লক্ষ্য অর্জন যে সময়ের ব্যাপার, তা স্পষ্ট।

আরও পড়ুনঃ  কুলিয়ারচরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী ও একজন সিএনজি চালক নিহত

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণের পর ইরান আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করে এক সুচিন্তিত সামরিক কৌশলে হাঁটছে। বড় কোনো একক হামলার বদলে তারা এখন ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে টানা হামলা চালাচ্ছে। তেহরানের মূল লক্ষ্য হলো পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া। আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এখন আগের চেয়ে সুসংহত এবং তারা আগামী কয়েক মাস এই প্রতিরোধ বজায় রাখার সক্ষমতা রাখে। ইরান এই সংঘাতকে কেবল নিজেদের সীমান্তে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন নিরাপত্তা বলয়কে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো দেশে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলো হামলার শিকার হওয়ায় আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বিএনপির অশিক্ষিত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত: আসিফ মাহমুদ

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও জ্বালানি খাতে হামলার হুমকিতে বিশ্ববাজারে তেল-গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। সৌদি আরব ও কাতার ইতিমধ্যে তাদের গুরুত্বপূর্ণ শোধনাগার ও এলএনজি কেন্দ্র বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। ইসরায়েল এখন দাবি করছে যে, শাসন পরিবর্তন করতে হলে শেষ পর্যন্ত স্থল অভিযানের প্রয়োজন হতে পারে। ওয়াশিংটন সরাসরি স্থল যুদ্ধের কথা অস্বীকার করলেও কুর্দি গোষ্ঠী বা ইরানি বিরোধীদের ব্যবহারের মতো বিকল্প পথ খোলা রাখছে। তবে ইরানের ‘সহ্যের পরীক্ষা’ নেওয়ার এই কৌশল মার্কিন বিশ্বাসের ভিত নাড়িয়ে দিচ্ছে। যুদ্ধের ব্যয় যত বাড়ছে, আলোচনার টেবিলে ইরানের পাল্লা ততই ভারী হচ্ছে, যা ওয়াশিংটনের জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ফ্ল্যাটে মায়ের নিঃসঙ্গ মৃত্যু ছেলে সেই যুগ্মসচিবকে প্রত্যাহার