
স্টাফ রিপোর্টার, আব্দুর রহমান মোল্লা:দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের গোলাম বাজার সংলগ্ন এলাকা। ইট-পাথরের দালান, দোকানপাট আর মাথার উপরে বিশালাকার বৈদ্যুতিক টাওয়ার আর তারের কুন্ডলী—এটাই এই অঞ্চলের নিত্যদিনের চিত্র। কিন্তু আজ বিকেলের আকাশ ধারণ করেছিল এক ভিন্ন রূপ। তপ্ত রোদের গ্লানি মুছে দিতে আকাশে ছিল মেঘের ঘনঘটা। আর সেই গুরুগুরু মেঘের গর্জন ছাপিয়ে হঠাৎ ঝমঝমিয়ে নামা বৃষ্টির ধারায় মুহূর্তেই পাল্টে যায় গোলাম বাজারের দৃশ্যপট।
শৈশবের বাঁধভাঙা আনন্দগোলাম বাজারের মতো ব্যস্ত এলাকার এই বৃষ্টি কোনো সাধারণ আবহাওয়া পরিবর্তন নয়, বরং স্থানীয় “পোলাপাইন” ও কচিকাঁচাদের জন্য ছিল এক পরম পাওয়া বা ‘অর্জনের’ মহাউৎসব। সরেজমিনে দেখা যায়, মেঘের গর্জন উপেক্ষা করে বৃষ্টি নামার সাথে সাথেই ঘরবন্দী শিশুরা মেতে উঠেছে বাঁধভাঙা উল্লাসে। ব্যস্ত দোকানপাটের সামনের গলি আর কর্দমাক্ত খালি জায়গা মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে এক একটি ফুটবল খেলার স্টেডিয়ামে। বড় বড় দালানকোঠার ফাঁকে, বৈদ্যুতিক টাওয়ারের নিচে এই জনপদে বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা শিশুদের মনে জাগিয়ে তুলেছে অফুরন্ত প্রাণচাঞ্চল্য। তাদের সমস্বরে করা চিৎকার আর হাসাহাসি ছাপিয়ে যাচ্ছিল আকাশের ডাককেও।
এক পশলা বৃষ্টিতে স্বস্তিগত কয়েকদিনের অসহ্য গুমোট গরমের পর আজকের এই বৃষ্টি গোলাম বাজার এবং এর আশেপাশের এলাকার জনজীবনে দারুণ স্বস্তি নিয়ে এসেছে। বড়রা যখন বৃষ্টির কারণে ঘরমুখী বা কাজে কিছুটা স্থবির, দোকানগুলোতে যখন খরিদ্দারের ভিড় কিছুটা কম, ছোটরা তখন মেতে আছে জলকেলি আর কাদা-মাখা খেলায়। তাদের এই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসকে এলাকাবাসীরা বলছেন “বৃষ্টির এক অনন্য অর্জন”।
স্থানীয়দের ভাষ্যগোলাম বাজার এলাকার এক প্রবীণ দোকানদার হাসিমুখে বলেন, “পড়াশোনা আর ব্যস্ত জীবনের চাপ ভুলে পোলাপাইনগুলো আজ মন খুলে খেলছে। এই দৃশ্য দেখে নিজেদের ছোটবেলার কথা মনে পড়ে যায়। মেঘের ডাক ওদের ভয় দেখাতে পারেনি, উল্টো আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।”
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আকাশ এখন ধূসর মেঘে ঢাকা থাকলেও, শিশুদের এই মহাউৎসব গোলাম বাজার এলাকার পরিবেশে এক রঙিন আমেজ ছড়িয়ে দিয়েছে। ইট-পাথরের এই ব্যস্ত নগরে বৃষ্টির ছন্দ আর শিশুদের কলকাকলি মিলেমিশে তৈরি হয়েছে এক অভাবনীয় মায়াবী মুহূর্ত।
প্রতিবেদকের নাম 

















