Dhaka ০৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রায়গঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ সিরাজগঞ্জে ৪৭তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে গাছের ডালে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার দাম বেড়ে অকটেন ১৪০, পেট্রোল ১৩৫, ডিজেল ১১৫ টাকা ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলাকালীন যানচলাচল সম্পর্কিত ডিএমপির নির্দেশনাবলী প্রকাশ চিলমারীতে বাড়ির পাশেই মিলল শিশু আয়শার ক্ষতবিক্ষত নিথর মৃত দেহ যোগ্যদের স্বীকৃতি দিতে পেরে গর্বিত” চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন লক্ষ্মীপুরে ফোর লেন সড়ক প্রকল্পের কাজ ২০২৯ সালে শেষ হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী আফমি প্লাজা ঈদ বিক্রয় উৎসব, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা সম্পন্ন বায়েজিদে প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে চেক ছিনতাই, উল্টো মামলা ও হয়রানির শিকার রেমিটেন্স যোদ্ধা

সুন্দরবনে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে কোস্টগার্ড

শেখ রাফসান, মোংলা প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোস্টগার্ড সদস্যদের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র পুনরায় সুন্দরবনের সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।

মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ এর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এ সকল বনদস্যুদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন।

রবিবার ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দেশের উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, বনজ ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যু দমন এবং জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কোস্ট গার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গত দেড় বছরে করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ ও আসাবুর বাহিনী সহ বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর সর্বমোট ৬১ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এসময় ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার এবং ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ৯৪৪ কেজি হরিণের মাংস, ৯০০টি ফাঁদসহ বিপুল অবৈধ সামগ্রী জব্দ এবং ২৯ জন শিকারিকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা সমমূল্যের অবৈধ জাল ও বিপুল রেণুপোনা জব্দ করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে আমরা বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে যৌথ অভিযান “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন”এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শীল্ড” পরিচালনা করেছি। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা ও জেলে বাওয়ালিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাম্প্রতিক সময়ে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, বন বিভাগ এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে বিভিন্ন সময় সমন্বয় সভা করা হয়েছে যা ফলপ্রসু হয়েছে বলে প্রতিয়মান। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসাথে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  ৮ দলীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন জয়মনি উইনার্স ক্লাব

বনদস্যু বিরোধী সাঁড়াশি অভিযানের অংশ হিসাবে হারবারিয়া, কৈখালী, কয়রা, নলিয়ান, মান্দারবাড়ি ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর সহ সমগ্র সুন্দরবন এলাকায় বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোস্ট গার্ডের কার্যকর অভিযানের ফলে মৎস্যজীবী, বাওয়ালি ও স্থানীয় জনগণের ওপর দস্যুদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যহারে কমে এসেছে এবং চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অপরাধ ব্যাপকহারে হ্রাস পাচ্ছে। নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে সুন্দরবন এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হচ্ছে এবং জনগণের মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি ফিরে এসেছে।তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার জনগণের নিরাপত্তা, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং জনগণের জানমাল রক্ষায় কোস্ট গার্ড সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে এবং দস্যু চক্রসমূহকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  মৌলভীবাজারে আগ্নেয়াস্ত্র পাইপগান ও কুখ্যাত ডাকাত রুবেল সহ গ্রেফতার ৩
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

রায়গঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

সুন্দরবনে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে কোস্টগার্ড

আপডেটের সময়: ০৬:৫৪:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

শেখ রাফসান, মোংলা প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোস্টগার্ড সদস্যদের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র পুনরায় সুন্দরবনের সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।

মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ এর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এ সকল বনদস্যুদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন।

রবিবার ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দেশের উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, বনজ ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যু দমন এবং জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কোস্ট গার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গত দেড় বছরে করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ ও আসাবুর বাহিনী সহ বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর সর্বমোট ৬১ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এসময় ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার এবং ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ৯৪৪ কেজি হরিণের মাংস, ৯০০টি ফাঁদসহ বিপুল অবৈধ সামগ্রী জব্দ এবং ২৯ জন শিকারিকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা সমমূল্যের অবৈধ জাল ও বিপুল রেণুপোনা জব্দ করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে আমরা বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে যৌথ অভিযান “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন”এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শীল্ড” পরিচালনা করেছি। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা ও জেলে বাওয়ালিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাম্প্রতিক সময়ে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, বন বিভাগ এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে বিভিন্ন সময় সমন্বয় সভা করা হয়েছে যা ফলপ্রসু হয়েছে বলে প্রতিয়মান। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসাথে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  সেলিমাবাদ উপজেলা চাই সংসদে এমপি অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম

বনদস্যু বিরোধী সাঁড়াশি অভিযানের অংশ হিসাবে হারবারিয়া, কৈখালী, কয়রা, নলিয়ান, মান্দারবাড়ি ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর সহ সমগ্র সুন্দরবন এলাকায় বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোস্ট গার্ডের কার্যকর অভিযানের ফলে মৎস্যজীবী, বাওয়ালি ও স্থানীয় জনগণের ওপর দস্যুদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যহারে কমে এসেছে এবং চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অপরাধ ব্যাপকহারে হ্রাস পাচ্ছে। নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে সুন্দরবন এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হচ্ছে এবং জনগণের মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি ফিরে এসেছে।তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার জনগণের নিরাপত্তা, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং জনগণের জানমাল রক্ষায় কোস্ট গার্ড সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে এবং দস্যু চক্রসমূহকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  ফিসনেট প্রকল্প এর সহযোগীতায় তালতলী উপজেলায় সমুদ্রগামী ট্রলারে জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম বিতরণ