Dhaka ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ধামইরহাটে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে হোপীরহাট বর্ণালী ক্লাবের আয়োজনে ফুটবল খেলার শুভ উদ্বোধন ধুনট বেলকুচি ইয়াং স্টার ক্লাবের আয়োজনে মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত দৌলতখানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ, একজনকে জরিমানা তারাগঞ্জে বড় বোনের বাসা থেকে ছোট বোনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ফরিদপুরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ১১ রোগী ভর্তি, এক নারীর মৃত্যু মারিয়াম রামলা পুরান ঢাকার লেখিকা ভারতের জনপ্রিয় ম্যাগাজিনে স্থান পেলেন ময়লার ভাগাড় থেকে প্রাণ ফিরছে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলে নাটোরে জুয়ার আসর থেকে ৩৯ হাজার টাকাসহ চারজন আটক নারায়ণগঞ্জে ইজিবাইক গ্যারেজ ও ঝুটের গুদামে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই ৭টি প্রতিষ্ঠান

সরকারের নিষেধাজ্ঞার এক বছরেও বাগাতিপাড়ায় অপসারণ হয়নি আকাশমনি গাছের ৩৭০০ চারা

লালপুর উপজেলা (নাটোর) প্রতিনিধিঃ সরকারের নিষেধাজ্ঞার প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সরকারি সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে অপসারণ করা হয়নি আগ্রাসী প্রজাতির আকাশমনি গাছের হাজারো চারা। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ প্রজাতির চারা রোপণ, উৎপাদন, উত্তোলন ও বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও সরকারি নার্সারিতে এখনও দুই সারিতে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৭০০টি আকাশমনি চারা। ফলে নিষেধাজ্ঞার প্রায় এক বছর পরও সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। তবে বন বিভাগের দাবি, চারাগুলোর বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং তালিকা বন অধিদপ্তরে পাঠানো হলেও অপসারণ বা নিষ্পত্তির বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায় আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) সরকারি সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছের চারার পাশাপাশি দুই সারিতে বিপুল পরিমাণ আকাশমনি গাছের চারা রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  চিকিৎসা অবহেলায় মায়ের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

 

নার্সারিতে বর্তমানে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির চারা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৭০০টি আকাশমনি গাছের চারা এখনো সংরক্ষিত রয়েছে। গত বছরের তুলনায় চারাগুলো আকারে আরও বড় ও হৃষ্টপুষ্ট হয়ে উঠেছে। স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহলের দাবি, সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এমন দীর্ঘসূত্রিতা গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি নার্সারিতে নিষিদ্ধ প্রজাতির চারা সংরক্ষিত থাকলে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যায়। তাই বন অধিদপ্তরের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে এসব চারা অপসারণ বা যথাযথভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। জানা গেছে, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে সরকার আগ্রাসী প্রজাতির ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছের চারা রোপণ, উৎপাদন, উত্তোলন ও বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এসব প্রজাতির পরিবর্তে সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তি পর্যায়ে দেশীয় ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরিবেশবিদদের মতে, আকাশমনি ও ইউক্যালিপটাস দ্রুত বর্ধনশীল হলেও এসব গাছ অতিরিক্ত পানি শোষণ করে এবং মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণেই সরকার এসব প্রজাতির চারা উৎপাদন ও রোপণ নিরুৎসাহিত করে নিষিদ্ধ করেছে। চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারি সিদ্ধান্তের পরেও সরকারি নার্সারিতে নিষিদ্ধ প্রজাতির গাছের চারা থাকাটা দুঃখজনক। আবার নার্সারির বাইরেও অনেকেই গোপনে নিষিদ্ধ ইউক্যালিপটাসের চারা বিক্রি করছেন। এটা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় হুমকি।

আরও পড়ুনঃ  লোডশেডিংয়ে কমেছে চা উৎপাদন, ক্ষতির মুখে বাগান মালিকরা

 

তিনি দ্রুত নিষিদ্ধ গাছের চারা অপসারণ ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে সবাইকে পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ডা. ভবসিন্ধু রায় বলেন, আকাশমনি ও ইউক্যালিপটাস দ্রুত বর্ধনশীল গাছ হলেও পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর এর বিরূপ প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এসব প্রজাতির চারা রোপণ ও উৎপাদন নিষিদ্ধ করেছে। বন বিভাগের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি। উপজেলা বন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, নিষিদ্ধ আকাশমনি চারাগুলোর তালিকা বন অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। চারাগুলো গত বছরের উৎপাদিত। বর্তমানে এগুলো বিক্রি করা হচ্ছে না। তবে কীভাবে চারাগুলো নিষ্পত্তি করা হবে, সে বিষয়ে অধিদপ্তর থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। নির্দেশনা পেলেই সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সময়ের প্রয়োজন। তবে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন জেলা থেকে এসব গাছ অপসারণ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বাগাতিপাড়ার চারাগুলোও অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ বসাক বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিষিদ্ধ প্রজাতির চারা উৎপাদন, রোপণ ও বিক্রির সুযোগ নেই। সরকারি নার্সারিতে এমন চারা সংরক্ষিত থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ  ভাঙ্গুড়ায় অটোবোরাকের চাপায় পথচারীর মৃত্যু
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ধামইরহাটে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

সরকারের নিষেধাজ্ঞার এক বছরেও বাগাতিপাড়ায় অপসারণ হয়নি আকাশমনি গাছের ৩৭০০ চারা

আপডেটের সময়: ০৬:৪৮:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

লালপুর উপজেলা (নাটোর) প্রতিনিধিঃ সরকারের নিষেধাজ্ঞার প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সরকারি সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে অপসারণ করা হয়নি আগ্রাসী প্রজাতির আকাশমনি গাছের হাজারো চারা। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ প্রজাতির চারা রোপণ, উৎপাদন, উত্তোলন ও বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও সরকারি নার্সারিতে এখনও দুই সারিতে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৭০০টি আকাশমনি চারা। ফলে নিষেধাজ্ঞার প্রায় এক বছর পরও সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। তবে বন বিভাগের দাবি, চারাগুলোর বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং তালিকা বন অধিদপ্তরে পাঠানো হলেও অপসারণ বা নিষ্পত্তির বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায় আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) সরকারি সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছের চারার পাশাপাশি দুই সারিতে বিপুল পরিমাণ আকাশমনি গাছের চারা রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি, লাজ ফার্মাকে অর্থদণ্ড

 

নার্সারিতে বর্তমানে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির চারা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৭০০টি আকাশমনি গাছের চারা এখনো সংরক্ষিত রয়েছে। গত বছরের তুলনায় চারাগুলো আকারে আরও বড় ও হৃষ্টপুষ্ট হয়ে উঠেছে। স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহলের দাবি, সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এমন দীর্ঘসূত্রিতা গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি নার্সারিতে নিষিদ্ধ প্রজাতির চারা সংরক্ষিত থাকলে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যায়। তাই বন অধিদপ্তরের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে এসব চারা অপসারণ বা যথাযথভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। জানা গেছে, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে সরকার আগ্রাসী প্রজাতির ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছের চারা রোপণ, উৎপাদন, উত্তোলন ও বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এসব প্রজাতির পরিবর্তে সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তি পর্যায়ে দেশীয় ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরিবেশবিদদের মতে, আকাশমনি ও ইউক্যালিপটাস দ্রুত বর্ধনশীল হলেও এসব গাছ অতিরিক্ত পানি শোষণ করে এবং মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণেই সরকার এসব প্রজাতির চারা উৎপাদন ও রোপণ নিরুৎসাহিত করে নিষিদ্ধ করেছে। চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারি সিদ্ধান্তের পরেও সরকারি নার্সারিতে নিষিদ্ধ প্রজাতির গাছের চারা থাকাটা দুঃখজনক। আবার নার্সারির বাইরেও অনেকেই গোপনে নিষিদ্ধ ইউক্যালিপটাসের চারা বিক্রি করছেন। এটা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় হুমকি।

আরও পড়ুনঃ  ভাঙ্গুড়ায় অটোবোরাকের চাপায় পথচারীর মৃত্যু

 

তিনি দ্রুত নিষিদ্ধ গাছের চারা অপসারণ ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে সবাইকে পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ডা. ভবসিন্ধু রায় বলেন, আকাশমনি ও ইউক্যালিপটাস দ্রুত বর্ধনশীল গাছ হলেও পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর এর বিরূপ প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এসব প্রজাতির চারা রোপণ ও উৎপাদন নিষিদ্ধ করেছে। বন বিভাগের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি। উপজেলা বন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, নিষিদ্ধ আকাশমনি চারাগুলোর তালিকা বন অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। চারাগুলো গত বছরের উৎপাদিত। বর্তমানে এগুলো বিক্রি করা হচ্ছে না। তবে কীভাবে চারাগুলো নিষ্পত্তি করা হবে, সে বিষয়ে অধিদপ্তর থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। নির্দেশনা পেলেই সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সময়ের প্রয়োজন। তবে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন জেলা থেকে এসব গাছ অপসারণ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বাগাতিপাড়ার চারাগুলোও অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ বসাক বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিষিদ্ধ প্রজাতির চারা উৎপাদন, রোপণ ও বিক্রির সুযোগ নেই। সরকারি নার্সারিতে এমন চারা সংরক্ষিত থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ  চন্দনাইশের দোহাজারীতে স্বামীর কোদালের কোপে স্ত্রীর মৃত্যু