Dhaka ০৫:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
অনিয়মের অভিযোগে ফুলবাড়ী সমাজসেবা অফিস পরিদর্শনে এমপি ড. আতিক মুজাহিদ পতেঙ্গা প্রাইম এগ্রোতে সুলভে গরু-ছাগল বিক্রয় করা হচ্ছে জামালপুরের মাদারগঞ্জে, নারী সহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটক পন্ডিত নিরোদ লীলা গীতা বিদ্যাপিঠে গীতা প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত, মোহাম্মদ আলী শাহ রোড এলাকায় মাদক বিরোধী সমাবেশ ও মানববন্ধন নলছিটিতে শ্রমিক দল নেতা মিজানের বিরুদ্ধে গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে মামলা রামিশা হত্যার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন, ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জমজমাট জিনজিরা পশুর হাট: শুরু হয়েছে কোরবানির পশু কেনাবেচা রাসিক সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীদের ঈদ উপহারের চেক প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী যৌথ মানবিক সহায়তা পরিকল্পনায় স্থানীয়দের জন্য বরাদ্দ ৫% আর রোহিঙ্গাদের বরাদ্দ  ৯৫% হয়েছে

লামা পৌরসভায় এডিবির প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম

মোঃরাসেল বিষেশ প্রতিনিধি: সরকার এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB)-এর যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে সমন্বিত ও টেকসই পৌর পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন’ মেগা প্রকল্পে কাজ শুরুর শুরুতেই ব্যাপক অনিয়ম, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং উপকারভোগীদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বান্দরবান জেলার লামা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডে চলমান প্রথম ধাপের কাজে ইতিমধ্যে ৭ থেকে ৮টি টয়লেট নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অত্যন্ত নিম্নমানের পচা ইটের কংকর (খোয়া) দিয়ে ঢালাই সম্পন্ন করা হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, এলাকাটি প্লাবনপ্রবণ এবং বর্ষাকালে এখানে বন্যার পানি ওঠে। বর্ষার পানির প্রবল চাপ এবং আবহাওয়া বিবেচনায় এই স্যানিটেশন প্রকল্পগুলো অত্যন্ত মজবুত ও টেকসই খোয়া দিয়ে নির্মাণ করার স্পষ্ট সিডিউল রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একেবারে ভঙ্গুর ও মাটির সমতুল্য রাবিশ ব্যবহার করে তড়িঘড়ি করে ৭/৮টি টয়লেট ঢালাই করে ফেলেছে, যা আগামী বর্ষার পানির চাপেই ধসে পড়ার বা ভেঙে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
শুধু নিম্নমানের সামগ্রীই নয়, যার বাড়িতে এই টয়লেট নির্মাণের কাজ চলছে, তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক মালামাল পরিবহন খরচ, রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিকদের নাস্তা এবং দুপুরের ভাত খাওয়ার খরচ আদায় করা হচ্ছে। সরকারি ও আন্তর্জাতিক তহবিলের সম্পূর্ণ ফ্রি বা বিনামূল্যে পাওয়ার যোগ্য এই প্রকল্পে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এভাবে অতিরিক্ত টাকা ও সুবিধা আদায় করায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা’ প্রতিপাদ্যে রাজশাহীতে ৩ দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা শুরু

লামা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের এই প্রথম চলমান কাজেই যদি এমন চরম দুর্নীতি ও লুটপাট চলে, তবে পৌরসভার বাকি ৮টি ওয়ার্ডে পরবর্তীতে যে কাজগুলো করা হবে, সেগুলোর মান কেমন হবে এবং সেখানে সাধারণ মানুষ কতটা জুলুমের শিকার হবে—তা নিয়ে পুরো পৌর এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র শঙ্কা ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের আশঙ্কা, শুরুতেই শক্ত লাগাম না টানলে বাকি ৮টি ওয়ার্ডের পুরো সরকারি বরাদ্দই এভাবে লুটপাট হয়ে যাবে। সরেজমিনে প্রকল্পের নির্মাণ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ৩নং ওয়ার্ডের চলমান কাজের জন্য এখনও স্তূপ করে রাখা হয়েছে লালচে রঙের মাটির মতো গুঁড়ো ও অত্যন্ত ভঙ্গুর তিন নম্বর বা পচা ইটের রাবিশ। ব্যবহৃত সিংহভাগ কংকরের অংশ হাত দিয়ে সামান্য চাপ দিলেই মাটির মতো গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বর্ষাকালে আমাদের এখানে পানি ওঠে জেনেও এই পচা রাবিশ খোয়া দিয়ে তৈরি স্যানিটেশন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এগুলো কয়েক মাসও টিকবে না এবং সরকারের মূল উদ্দেশ্য ভেস্তে যাবে। আমরা চাই ইতিমধ্যে ঢালাই করা ৭/৮টি টয়লেট ভেঙে আবার নতুন করে ভালো কংকর দিয়ে সিডিউল অনুযায়ী মজবুতভাবে তৈরি করা হোক এবং বাকি ওয়ার্ডগুলোর কাজ শুরুর আগেই যেন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়।” প্রকল্পের এই গুরুতর অনিয়ম, উপকারভোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়া এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে সরাসরি জানতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুল রাজ্জাক-এর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি ঘটনার বিবরণ শুনে কোনো মন্তব্য না করেই সরাসরি জনের সংযোগ কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার তার নাম্বারে কল করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুনঃ  রায়পুরে দুই প্রাইভেট হাসপাতালে জরিমানা

এলাকাবাসীর দাবি, আন্তর্জাতিক তহবিলের এই গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে যেন কোনো ধরণের নয়ছয় বা আর্থিক লুটপাট না হয়, সে জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসনের অনতিবিলম্বে এই ৩নং ওয়ার্ডের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করা উচিত। একই সাথে ভুক্তভোগীদের হয়রানি বন্ধ করে নিম্নমানের রাবিশ সামগ্রী দিয়ে করা ঢালাই ভেঙে পুনরায় সিডিউল অনুযায়ী গুণগত মানসম্পন্ন কাজ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  সাপাহারে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

অনিয়মের অভিযোগে ফুলবাড়ী সমাজসেবা অফিস পরিদর্শনে এমপি ড. আতিক মুজাহিদ

লামা পৌরসভায় এডিবির প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম

আপডেটের সময়: ০৮:১৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

মোঃরাসেল বিষেশ প্রতিনিধি: সরকার এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB)-এর যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে সমন্বিত ও টেকসই পৌর পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন’ মেগা প্রকল্পে কাজ শুরুর শুরুতেই ব্যাপক অনিয়ম, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং উপকারভোগীদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বান্দরবান জেলার লামা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডে চলমান প্রথম ধাপের কাজে ইতিমধ্যে ৭ থেকে ৮টি টয়লেট নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অত্যন্ত নিম্নমানের পচা ইটের কংকর (খোয়া) দিয়ে ঢালাই সম্পন্ন করা হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, এলাকাটি প্লাবনপ্রবণ এবং বর্ষাকালে এখানে বন্যার পানি ওঠে। বর্ষার পানির প্রবল চাপ এবং আবহাওয়া বিবেচনায় এই স্যানিটেশন প্রকল্পগুলো অত্যন্ত মজবুত ও টেকসই খোয়া দিয়ে নির্মাণ করার স্পষ্ট সিডিউল রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একেবারে ভঙ্গুর ও মাটির সমতুল্য রাবিশ ব্যবহার করে তড়িঘড়ি করে ৭/৮টি টয়লেট ঢালাই করে ফেলেছে, যা আগামী বর্ষার পানির চাপেই ধসে পড়ার বা ভেঙে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
শুধু নিম্নমানের সামগ্রীই নয়, যার বাড়িতে এই টয়লেট নির্মাণের কাজ চলছে, তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক মালামাল পরিবহন খরচ, রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিকদের নাস্তা এবং দুপুরের ভাত খাওয়ার খরচ আদায় করা হচ্ছে। সরকারি ও আন্তর্জাতিক তহবিলের সম্পূর্ণ ফ্রি বা বিনামূল্যে পাওয়ার যোগ্য এই প্রকল্পে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এভাবে অতিরিক্ত টাকা ও সুবিধা আদায় করায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  হোসেনপুরে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা শুরু

লামা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের এই প্রথম চলমান কাজেই যদি এমন চরম দুর্নীতি ও লুটপাট চলে, তবে পৌরসভার বাকি ৮টি ওয়ার্ডে পরবর্তীতে যে কাজগুলো করা হবে, সেগুলোর মান কেমন হবে এবং সেখানে সাধারণ মানুষ কতটা জুলুমের শিকার হবে—তা নিয়ে পুরো পৌর এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র শঙ্কা ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের আশঙ্কা, শুরুতেই শক্ত লাগাম না টানলে বাকি ৮টি ওয়ার্ডের পুরো সরকারি বরাদ্দই এভাবে লুটপাট হয়ে যাবে। সরেজমিনে প্রকল্পের নির্মাণ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ৩নং ওয়ার্ডের চলমান কাজের জন্য এখনও স্তূপ করে রাখা হয়েছে লালচে রঙের মাটির মতো গুঁড়ো ও অত্যন্ত ভঙ্গুর তিন নম্বর বা পচা ইটের রাবিশ। ব্যবহৃত সিংহভাগ কংকরের অংশ হাত দিয়ে সামান্য চাপ দিলেই মাটির মতো গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বর্ষাকালে আমাদের এখানে পানি ওঠে জেনেও এই পচা রাবিশ খোয়া দিয়ে তৈরি স্যানিটেশন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এগুলো কয়েক মাসও টিকবে না এবং সরকারের মূল উদ্দেশ্য ভেস্তে যাবে। আমরা চাই ইতিমধ্যে ঢালাই করা ৭/৮টি টয়লেট ভেঙে আবার নতুন করে ভালো কংকর দিয়ে সিডিউল অনুযায়ী মজবুতভাবে তৈরি করা হোক এবং বাকি ওয়ার্ডগুলোর কাজ শুরুর আগেই যেন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়।” প্রকল্পের এই গুরুতর অনিয়ম, উপকারভোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়া এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে সরাসরি জানতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুল রাজ্জাক-এর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি ঘটনার বিবরণ শুনে কোনো মন্তব্য না করেই সরাসরি জনের সংযোগ কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার তার নাম্বারে কল করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুনঃ  মোহাম্মদ আলী শাহ রোড এলাকায় মাদক বিরোধী সমাবেশ ও মানববন্ধন

এলাকাবাসীর দাবি, আন্তর্জাতিক তহবিলের এই গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে যেন কোনো ধরণের নয়ছয় বা আর্থিক লুটপাট না হয়, সে জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসনের অনতিবিলম্বে এই ৩নং ওয়ার্ডের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করা উচিত। একই সাথে ভুক্তভোগীদের হয়রানি বন্ধ করে নিম্নমানের রাবিশ সামগ্রী দিয়ে করা ঢালাই ভেঙে পুনরায় সিডিউল অনুযায়ী গুণগত মানসম্পন্ন কাজ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ সদস্য অপহরণকান্ডের ভেতরের গল্প