Dhaka ০২:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাতকানিয়ায় চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত, ১আসামী গ্রেপ্তার ভূরুঙ্গামারীতে যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে ফুটবল উপহার দিল মানব ও সমাজ কল্যাণ ক্লাব ৩৯ নং দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডে দুঃস্থদের মাঝে কুরবানির গোস্ত বিতরণ কাহালুতে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩ ঈদ উপলক্ষ্যে সম্প্রীতির চিলমারী এর টি-২০ ক্রিকেট টূর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত নোয়াপাড়া মিনি ফুচকা পার্কে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়! শুভাঢ্যা ইউনিয়নে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখতে ঈদের দ্বিতীয় দিনেও দর্শনার্থীদের ঢল কক্সবাজার ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে , বাড়ছে পর্যটকের ভিড় চকরিয়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অফিসে লুটপাট মামলার এজাহারভুক্ত আসামী গ্রেফতার

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মুসলিমদের ঐক্য ও উন্নতির জন্য দোয়া তীব্র গরম। তার ওপর মরুর সূর্য তাপমাত্রা দিয়ে যাচ্ছিল প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর মধ্যে আরাফাতের ময়দানে লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্ক, লা শারিকা লাক’- ধ্বনিতে মুখরিত হলো। লাখো হজযাত্রীর সমস্বরে এ উচ্চারণে ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দান প্রকম্পিত হলো। এখানেই খুতবায় মুসলিম ঐক্য ও উম্মাহর উন্নত পরিস্থিতির জন্য দোয়া করলেন মসজিদে নববীর ইমাম শেখ আলি আল-হুদাইফি। গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকেই পবিত্র মিনা থেকে দলে দলে হজযাত্রীরা সমবেত হতে থাকেন আরাফাতের ময়দানে। সেখানে ইমাম শেখ আলি আল-হুদাইফির খুতবায় একসঙ্গে হজযাত্রীরা যোহর ও আছরের নামাজ আদায় করেন। খুতবা শেষে ইমাম আবেগঘন দোয়া করেন যাতে হাজিদের ইবাদত কবুল হয়, মুসলিম বিশ্বের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তারা নিরাপদে নিজ নিজ ঘরে ফিরতে পারেন। তিনি বলেন- হে আল্লাহ, মুসলমানদের অবস্থার উন্নতি করো, তাদের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করো এবং তাদের সত্যের পথে পরিচালিত করো। খুতবার সময় শেখ আল-হুদাইফি বলেন, হজ ইসলাম ধর্মের একটি মৌলিক স্তম্ভ, যা একত্ববাদ এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের ওপর ভিত্তি করে চর্চিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই পবিত্র যাত্রা মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়, সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে, যেখানে বিভিন্ন জাতি ও পটভূমির মুসলমান একত্রিত হন। খুতবায় ইসলামের প্রধান স্তম্ভগুলো, আল্লাহভীতি (তাকওয়া) এবং মুমিনদের জন্য আল্লাহর সাহায্যের সার্বজনীন বিধান নিয়েও আলোচনা করা হয় বলে সৌদি প্রেস এজেন্সি জানায়।

আরও পড়ুনঃ  সুন্দরবনে বাঘের চেয়েও বনদস্যুর ভয় বেশি

 

শেখ আল হুদাইফি বলেন, একটি সঠিক হজ পালনের জন্য উত্তম আচরণ, সত্য কথা বলা এবং পাপ, বিরোধ, দলীয় বা রাজনৈতিক স্লোগান থেকে দূরে থাকা জরুরি। খুতবায় আরও বলা হয়, প্রকৃত সম্মান আল্লাহভীতি, আন্তরিকতা এবং এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের (তাওহিদ) মধ্যেই নিহিত। এতে শিরক বা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরিক করার বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়। শেখ আল-হুদাইফি মুসলমানদের বিভেদ, মিথ্যা, গিবত ও ঘৃণা পরিত্যাগ করে ভ্রাতৃত্ব, ধৈর্য ও ন্যায়পরায়ণতা শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। মঙ্গলবার ভোর থেকেই হাজার হাজার সাদা পোশাকধারী মুসল্লি মক্কার কাছে ৭০ মিটার উঁচু পাথুরে পাহাড়ে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করতে থাকেন। এই আরাফাতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তার শেষ খুতবা দিয়েছেন। খুতবা শেষে হাজিরা যোহর ও আসরের নামাজ একসাথে সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করেন। এই জামাতি নামাজ ও খুতবায় মক্কার ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মিশাল বিন আবদুলআজিজ এবং সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালেহ আল-ফাওজানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আরাফাতের পর হাজিরা মুজদালিফায় রাত কাটাবেন এবং সেখানে পাথর সংগ্রহ করবেন, যা বুধবার মিনায় শয়তানকে প্রতীকীভাবে নিক্ষেপ করার রীতিতে ব্যবহৃত হবে।

আরও পড়ুনঃ  ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন: নাহিদ ইসলাম
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সাতকানিয়ায় চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত, ১আসামী গ্রেপ্তার

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত

আপডেটের সময়: ০৮:৩৬:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মুসলিমদের ঐক্য ও উন্নতির জন্য দোয়া তীব্র গরম। তার ওপর মরুর সূর্য তাপমাত্রা দিয়ে যাচ্ছিল প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর মধ্যে আরাফাতের ময়দানে লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্ক, লা শারিকা লাক’- ধ্বনিতে মুখরিত হলো। লাখো হজযাত্রীর সমস্বরে এ উচ্চারণে ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দান প্রকম্পিত হলো। এখানেই খুতবায় মুসলিম ঐক্য ও উম্মাহর উন্নত পরিস্থিতির জন্য দোয়া করলেন মসজিদে নববীর ইমাম শেখ আলি আল-হুদাইফি। গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকেই পবিত্র মিনা থেকে দলে দলে হজযাত্রীরা সমবেত হতে থাকেন আরাফাতের ময়দানে। সেখানে ইমাম শেখ আলি আল-হুদাইফির খুতবায় একসঙ্গে হজযাত্রীরা যোহর ও আছরের নামাজ আদায় করেন। খুতবা শেষে ইমাম আবেগঘন দোয়া করেন যাতে হাজিদের ইবাদত কবুল হয়, মুসলিম বিশ্বের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তারা নিরাপদে নিজ নিজ ঘরে ফিরতে পারেন। তিনি বলেন- হে আল্লাহ, মুসলমানদের অবস্থার উন্নতি করো, তাদের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করো এবং তাদের সত্যের পথে পরিচালিত করো। খুতবার সময় শেখ আল-হুদাইফি বলেন, হজ ইসলাম ধর্মের একটি মৌলিক স্তম্ভ, যা একত্ববাদ এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের ওপর ভিত্তি করে চর্চিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই পবিত্র যাত্রা মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়, সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে, যেখানে বিভিন্ন জাতি ও পটভূমির মুসলমান একত্রিত হন। খুতবায় ইসলামের প্রধান স্তম্ভগুলো, আল্লাহভীতি (তাকওয়া) এবং মুমিনদের জন্য আল্লাহর সাহায্যের সার্বজনীন বিধান নিয়েও আলোচনা করা হয় বলে সৌদি প্রেস এজেন্সি জানায়।

আরও পড়ুনঃ  ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন: নাহিদ ইসলাম

 

শেখ আল হুদাইফি বলেন, একটি সঠিক হজ পালনের জন্য উত্তম আচরণ, সত্য কথা বলা এবং পাপ, বিরোধ, দলীয় বা রাজনৈতিক স্লোগান থেকে দূরে থাকা জরুরি। খুতবায় আরও বলা হয়, প্রকৃত সম্মান আল্লাহভীতি, আন্তরিকতা এবং এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের (তাওহিদ) মধ্যেই নিহিত। এতে শিরক বা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরিক করার বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়। শেখ আল-হুদাইফি মুসলমানদের বিভেদ, মিথ্যা, গিবত ও ঘৃণা পরিত্যাগ করে ভ্রাতৃত্ব, ধৈর্য ও ন্যায়পরায়ণতা শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। মঙ্গলবার ভোর থেকেই হাজার হাজার সাদা পোশাকধারী মুসল্লি মক্কার কাছে ৭০ মিটার উঁচু পাথুরে পাহাড়ে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করতে থাকেন। এই আরাফাতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তার শেষ খুতবা দিয়েছেন। খুতবা শেষে হাজিরা যোহর ও আসরের নামাজ একসাথে সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করেন। এই জামাতি নামাজ ও খুতবায় মক্কার ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মিশাল বিন আবদুলআজিজ এবং সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালেহ আল-ফাওজানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আরাফাতের পর হাজিরা মুজদালিফায় রাত কাটাবেন এবং সেখানে পাথর সংগ্রহ করবেন, যা বুধবার মিনায় শয়তানকে প্রতীকীভাবে নিক্ষেপ করার রীতিতে ব্যবহৃত হবে।

আরও পড়ুনঃ  সুন্দরবনে বাঘের চেয়েও বনদস্যুর ভয় বেশি