Dhaka ০৭:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মনোনয়ন নিয়ে আইনি লড়াই ঝিরি থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন: ধসে যাচ্ছে রাস্তার ভিত্তি, ঝুঁকিতে জনপদ স্বস্তির বৃষ্টিতে ভিজল কেরানীগঞ্জ: জনজীবনে প্রশান্তি, জনপদে স্বস্তি পতেঙ্গায় এস এস সি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান চৌধুরী কূপতলা ইউনিয়নে বন্যা ঝুঁকি ও মোকাবেলায় সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ‎ জৈন্তাপুরে বিজিবির উদ্যোগ: সচেতনতামূলক সভা ও ফ্রি চিকিৎসাসেবা আয়োজন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায়-রাশেদুল হাসান রঞ্জন এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী ফের পাকিস্তানে যাচ্ছে ইরানি প্রতিনিধিদল প্রখ্যাত ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের স্মরণে ‘সড়ক’-এর শুভ উদ্বোধন করলেন ডিএসসিসি প্রশাসক

রোয়াংছড়িতে পিআইও পদ শূন্য: প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

মাসুদ রানা মাসুম পার্বত্য ব্যুরো: বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পদ প্রায় বছরখানিক ধরে শূন্য থাকায় নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ধীরগতি তৈরি হওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
এ উপজলায় বান্দরবান সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ায় একইসঙ্গে দুই উপজেলায় দায়িত্ব পালন করাতে দৈনন্দিন দাপ্তরিক কার্যক্রম ও চলতি অর্থবছরে প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নে ব্যাঘাত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ পরিস্থিতি চলমান থাকলে ২০২৫/২৬ইং অর্থবছরে প্রকল্পসমূহ শুল্ক মৌসুমে যদি শতভাগ বাস্তবায়ন করা না হলে বর্ষা মৌসুমে কাজ করা পাহড়ি এলাকার জন্য কঠিন হয়ে পরবে এবং সঠিক সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজমিন আলম তুলি বলেন, রোয়াংছড়ি উপজেলায় ত্রাণ শাখায় পিআইও অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকায় তিনি সদর উপজেলা থেকে এসে বিভিন্ন সভা, গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রকল্পের সাইটগুলো নিয়মিত তদারকি করা কঠিন হয়ে পরে। তাই নতুন পিআইও অতিশীঘ্র পদায়ন করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  নাগরপুরে এলামিন-শামসুল হক সেতুর টোল বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

 

তিনি আরো জানান, এক্ষেত্রে দাপ্তরিক সই স্বাক্ষরের জন্য অফিস স্টাফ দিয়ে বান্দরবার সদর উপজেলায় বিভিন্ন নথিপত্র নিয়ে যেতে হচ্ছে, এতে নিয়মিত অফিসিয়াল কার্যক্রমে চরম বিঘ্ন ঘটছে। সাম্প্রতিক ২২ এপ্রিল ২০২৬ইং মাসের মাসিক সভাতেও তিনি সদর উপজেলায় বিভিন্ন ব্যস্ততার কারনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি এমনটা হতে পারে। এতে তার বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক অগ্রগতি পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভায় ৩নং আলেক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রকল্প কাজ সমূহ শুল্ক মৌসুমে বাস্তবায়ন করা না হলে বর্ষা মৈসুমে কাজ করতে যাতায়াত ও পরিবহনের খরচ অনেকগুণ বৃদ্ধি পাবে এতে প্রকল্পের কাজের মান ১০০% বাস্তবায়ন করা যাবে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, দায়িত্ব ঘাটতির কারণে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাঘাত হচ্ছে এবং দ্রুত স্থায়ী পিআইও পদায়নের দাবি জানান তারা।
অন্যদিকে, বান্দরবান সদর উপজেলা পিআইও ও রোয়াংছড়ির অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব মিলটন দস্তিদার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাসিক সভার দিন তিনি শারিরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। একইসঙ্গে দুটি উপজেলায় দায়িত্ব পালনের তার কোন সমস্যা সৃষ্টি বা নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রমের ব্যাঘাত হচ্ছে না বলে জানান।
অথচ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য ঠিক উল্টো মত প্রকাশ করেন। তাই দ্রুত রোয়াংছড়ি উপজেলায় স্থায়ী পিআইও নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করা না হলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও ব্যাঘাত হবে এবং জনদুর্ভোগ বাড়বে।

আরও পড়ুনঃ  নাগরপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চুড়ান্ত গোল্ডকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত 
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মনোনয়ন নিয়ে আইনি লড়াই

রোয়াংছড়িতে পিআইও পদ শূন্য: প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

আপডেটের সময়: ০১:০০:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

মাসুদ রানা মাসুম পার্বত্য ব্যুরো: বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পদ প্রায় বছরখানিক ধরে শূন্য থাকায় নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ধীরগতি তৈরি হওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
এ উপজলায় বান্দরবান সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ায় একইসঙ্গে দুই উপজেলায় দায়িত্ব পালন করাতে দৈনন্দিন দাপ্তরিক কার্যক্রম ও চলতি অর্থবছরে প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নে ব্যাঘাত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ পরিস্থিতি চলমান থাকলে ২০২৫/২৬ইং অর্থবছরে প্রকল্পসমূহ শুল্ক মৌসুমে যদি শতভাগ বাস্তবায়ন করা না হলে বর্ষা মৌসুমে কাজ করা পাহড়ি এলাকার জন্য কঠিন হয়ে পরবে এবং সঠিক সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজমিন আলম তুলি বলেন, রোয়াংছড়ি উপজেলায় ত্রাণ শাখায় পিআইও অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকায় তিনি সদর উপজেলা থেকে এসে বিভিন্ন সভা, গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রকল্পের সাইটগুলো নিয়মিত তদারকি করা কঠিন হয়ে পরে। তাই নতুন পিআইও অতিশীঘ্র পদায়ন করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  পর্যটক সীমিত রুমা: বিপাকে গাইড ও ব্যবসায়ীরা, ঘুরে দাঁড়ানোর আশা ঈদ মৌসুমে

 

তিনি আরো জানান, এক্ষেত্রে দাপ্তরিক সই স্বাক্ষরের জন্য অফিস স্টাফ দিয়ে বান্দরবার সদর উপজেলায় বিভিন্ন নথিপত্র নিয়ে যেতে হচ্ছে, এতে নিয়মিত অফিসিয়াল কার্যক্রমে চরম বিঘ্ন ঘটছে। সাম্প্রতিক ২২ এপ্রিল ২০২৬ইং মাসের মাসিক সভাতেও তিনি সদর উপজেলায় বিভিন্ন ব্যস্ততার কারনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি এমনটা হতে পারে। এতে তার বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক অগ্রগতি পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভায় ৩নং আলেক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রকল্প কাজ সমূহ শুল্ক মৌসুমে বাস্তবায়ন করা না হলে বর্ষা মৈসুমে কাজ করতে যাতায়াত ও পরিবহনের খরচ অনেকগুণ বৃদ্ধি পাবে এতে প্রকল্পের কাজের মান ১০০% বাস্তবায়ন করা যাবে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, দায়িত্ব ঘাটতির কারণে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাঘাত হচ্ছে এবং দ্রুত স্থায়ী পিআইও পদায়নের দাবি জানান তারা।
অন্যদিকে, বান্দরবান সদর উপজেলা পিআইও ও রোয়াংছড়ির অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব মিলটন দস্তিদার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাসিক সভার দিন তিনি শারিরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। একইসঙ্গে দুটি উপজেলায় দায়িত্ব পালনের তার কোন সমস্যা সৃষ্টি বা নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রমের ব্যাঘাত হচ্ছে না বলে জানান।
অথচ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য ঠিক উল্টো মত প্রকাশ করেন। তাই দ্রুত রোয়াংছড়ি উপজেলায় স্থায়ী পিআইও নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করা না হলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও ব্যাঘাত হবে এবং জনদুর্ভোগ বাড়বে।

আরও পড়ুনঃ  ঝিরি থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন: ধসে যাচ্ছে রাস্তার ভিত্তি, ঝুঁকিতে জনপদ