Dhaka ০২:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গোপালগঞ্জ মহাসড়কে বাসচাপায় ৫ জন নিহত ঈশ্বরদীতে পদ্মায় জেলেদের ওপর সশস্ত্র হামলা, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৪ জয়পুরহাট সীমান্তে তিনজনকে বাংলাদেশ ডোকানোর চেস্টা ব্যর্থ: বিএসএফ টানা বর্ষণে পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে যুবদল নেতা ইউছুপ চৌধুরী জাতীয় পর্যায় শ্রেষ্ঠ হলেন প্রধান শিক্ষক মো. হেদায়েত হোসেন দিনাজপুর সীমান্তে ৪ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা চট্টগ্রামে বন্যাদুর্গত ও পানিবন্দি মানুষের পাশে বাংলাদেশ নৌবাহিনী বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, দ্রুত বিচারের দাবি পরিবারের নাগেশ্বরীতে জাতীয় ডেঙ্গু নির্দেশিকা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত চিলমারীতে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের অভিষেক অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত

বন্যার শুরু থেকেই দুর্গত মানুষের পাশে ডা. আসিফুল হক, সহায়তা পেল ১২০০ পরিবার

তৌহিদ-উল বারী, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার শুরু থেকেই মানবিক সহায়তা নিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে রয়েছেন ডা. আসিফুল হক। সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই তিনি নিজ উদ্যোগে একদল স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়ে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে জরুরি খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন।

দেশের পাশাপাশি দুবাই ও সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত এই মানবিক কার্যক্রমে ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবারের কাছে রান্না করা খাবার ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বন্যার পানিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পরিবারগুলোর কাছে নৌকা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে এসব ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  কক্সবাজারে রামু উপজেলা ইয়াবাসহ স্বামী স্ত্রী চট্টগ্রামে গ্রেফতার

ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত এলাকার মধ্যে রয়েছে পশ্চিম ছনুয়া, শেখেরখীল, সরল, পশ্চিম চাম্বলের মুন্সীখীল, কাথারিয়া, মানিক পাঠানপাড়া, চাপাছড়ি, বাহারছড়াসহ বাঁশখালীর বিভিন্ন বন্যাকবলিত জনপদ। প্রতিটি এলাকায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করে তাদের হাতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

ডা. আসিফুল হকের নেতৃত্বে পরিচালিত এই কার্যক্রমে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। খাদ্য প্রস্তুত, প্যাকেটজাতকরণ, পরিবহন এবং দুর্গত মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়ার পুরো কার্যক্রমে তারা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করছেন।

এ মানবিক উদ্যোগে সালমা আদিল ফাউন্ডেশন প্রায় ৫০ হাজার টাকার ত্রাণসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করেছে। পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসী নিয়মিত অর্থ সহায়তা প্রদান করে কার্যক্রমটি সচল রাখতে ভূমিকা রাখছেন।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামে বন্যাদুর্গত ও পানিবন্দি মানুষের পাশে বাংলাদেশ নৌবাহিনী

ডা. আসিফুল হক বলেন, বন্যার শুরু থেকেই আমরা চেষ্টা করছি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে। আমাদের সঙ্গে একদল স্বেচ্ছাসেবী দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। প্রবাসী ভাইদের আন্তরিক সহযোগিতায় আমরা এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবারের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। যতদিন আমাদের তহবিলে অর্থ থাকবে, ততদিন এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, আমি সকল সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানাই- নিজ নিজ অবস্থান থেকে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ান। কোনো একটি সংগঠনের পক্ষে এত বড় দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সবাই মিলে কাজ করলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুনঃ  তারাগঞ্জে ডিবি পুলিশের জোরদার অভিযান, হেরোইন ও ট্যাপেনটাডলসহ গ্রেপ্তার ২

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যার প্রথম দিক থেকেই ডা. আসিফুল হক ও তাঁর স্বেচ্ছাসেবী দল দুর্গম এলাকায় পৌঁছে ক্ষুধার্ত মানুষের হাতে রান্না করা খাবার ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দিচ্ছেন। অনেক এলাকায় সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর আগেই তারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবী দলের সদস্যরা জানান, শুধু তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তাই নয়, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য দেশ-বিদেশের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতাও কামনা করেছেন তারা।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গোপালগঞ্জ মহাসড়কে বাসচাপায় ৫ জন নিহত

বন্যার শুরু থেকেই দুর্গত মানুষের পাশে ডা. আসিফুল হক, সহায়তা পেল ১২০০ পরিবার

আপডেটের সময়: ১২:৫৩:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

তৌহিদ-উল বারী, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার শুরু থেকেই মানবিক সহায়তা নিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে রয়েছেন ডা. আসিফুল হক। সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই তিনি নিজ উদ্যোগে একদল স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়ে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে জরুরি খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন।

দেশের পাশাপাশি দুবাই ও সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত এই মানবিক কার্যক্রমে ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবারের কাছে রান্না করা খাবার ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বন্যার পানিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পরিবারগুলোর কাছে নৌকা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে এসব ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  কক্সবাজারে রামু উপজেলা ইয়াবাসহ স্বামী স্ত্রী চট্টগ্রামে গ্রেফতার

ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত এলাকার মধ্যে রয়েছে পশ্চিম ছনুয়া, শেখেরখীল, সরল, পশ্চিম চাম্বলের মুন্সীখীল, কাথারিয়া, মানিক পাঠানপাড়া, চাপাছড়ি, বাহারছড়াসহ বাঁশখালীর বিভিন্ন বন্যাকবলিত জনপদ। প্রতিটি এলাকায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করে তাদের হাতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

ডা. আসিফুল হকের নেতৃত্বে পরিচালিত এই কার্যক্রমে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। খাদ্য প্রস্তুত, প্যাকেটজাতকরণ, পরিবহন এবং দুর্গত মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়ার পুরো কার্যক্রমে তারা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করছেন।

এ মানবিক উদ্যোগে সালমা আদিল ফাউন্ডেশন প্রায় ৫০ হাজার টাকার ত্রাণসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করেছে। পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসী নিয়মিত অর্থ সহায়তা প্রদান করে কার্যক্রমটি সচল রাখতে ভূমিকা রাখছেন।

আরও পড়ুনঃ  তারাগঞ্জে ডিবি পুলিশের জোরদার অভিযান, হেরোইন ও ট্যাপেনটাডলসহ গ্রেপ্তার ২

ডা. আসিফুল হক বলেন, বন্যার শুরু থেকেই আমরা চেষ্টা করছি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে। আমাদের সঙ্গে একদল স্বেচ্ছাসেবী দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। প্রবাসী ভাইদের আন্তরিক সহযোগিতায় আমরা এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবারের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। যতদিন আমাদের তহবিলে অর্থ থাকবে, ততদিন এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, আমি সকল সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানাই- নিজ নিজ অবস্থান থেকে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ান। কোনো একটি সংগঠনের পক্ষে এত বড় দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সবাই মিলে কাজ করলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুনঃ  পারিবারিক বিরোধের জের চকরিয়ায় ভাতিজাদের ছুরিকাঘাতে আহত চাচার মৃত্যু

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যার প্রথম দিক থেকেই ডা. আসিফুল হক ও তাঁর স্বেচ্ছাসেবী দল দুর্গম এলাকায় পৌঁছে ক্ষুধার্ত মানুষের হাতে রান্না করা খাবার ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দিচ্ছেন। অনেক এলাকায় সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর আগেই তারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবী দলের সদস্যরা জানান, শুধু তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তাই নয়, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য দেশ-বিদেশের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতাও কামনা করেছেন তারা।