Dhaka ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চট্টগ্রামে ২ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে হামলা, ৩৫ লাখ টাকা লুট ভোলায় সমাজসেবার প্রশিক্ষণে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও ঘুস-বাণিজ্যের অভিযোগ বদলগাছীতে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা জনগণ সংস্কার চায় প্রতীকী প্রচারণা নয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শিবগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান, ড্রেজার ও পাইপ পুড়িয়ে ধ্বংস যাত্রাবাড়ীতে প্রাইভেটকারে ৪৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার, আটক ৩ লালমোহনে কাঁচা সড়কে যাতায়াতে চরম ঝুঁকি একতা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়ে ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের সব যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে মাগুরার শ্রীপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে উপবৃত্তি বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিন বিতরণ ডিমলায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে বুড়ি তিস্তায় গোসলে নেমে ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীর মৃত্যু মাধবপুরে শতভাগ ছানিমুক্ত নোয়াপাড়া ইউনিয়ন বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

পথ হারিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকছে রাজধানীর অধিকাংশ সড়কে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আকাশে মেঘ জমলেই এখন ঢাকাবাসীর মনও আঁধারে ঢাকে। ঘণ্টাখানেক ভারী বৃষ্টি হলেই ডুবে যায় রাজধানীর অধিকাংশ সড়ক। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও আবার জমে কোমরসমান। বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। কর্মজীবী মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী– সবাইকে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। গতকাল রোববার (১২ জুলাই) টানা বৃষ্টিতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পানির নিচে তলিয়ে যায় বিভিন্ন মোড়, অলিগলি ও নিম্নাঞ্চল। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে যানবাহন, কোথাও বিকল হয়ে পড়ে ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহন। আজ সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা পুরোপুরি কাটেনি। এই জলাবদ্ধতার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বৃষ্টির পানির স্বাভাবিক প্রবাহপথ হারিয়ে যাওয়া। একসময় রাজধানীর অসংখ্য খাল, জলাশয় ও প্রাকৃতিক নালা দিয়ে বৃষ্টির পানি দ্রুত নদীতে নেমে যেত। কিন্তু বছরের পর বছর দখল, ভরাট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং কার্যকর ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক গড়ে না ওঠায় সেই পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি কোন পথে নদী-খালে যাবে সে পথটিই যেন হারিয়ে গেছে! ফলে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পানি আটকে থেকে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। নগরবাসীর প্রশ্ন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই কেন একই চিত্র দেখা যায়? বছরের পর বছর খোঁড়াখুঁড়ি, ড্রেন পরিষ্কার, খাল খনন ও নানা প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও কেন রাজধানী জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাচ্ছে না কিন্তু নাগরিকদের এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি)। নাগরিকদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশন জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে প্রতি বছরে শত শত কোটি টাকা জলে ফেলছে। তারা কাজের কাজ কিছুই করছে না। ফলে প্রতিবছর বর্ষায় তার খেসারত দিচ্ছেন নাগরের বাসিন্দারা। এ সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি।

 

তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্টদের দাবি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল দখল ও ভরাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি ক্রমেই আরও জটিল হয়ে উঠছে। এ সমস্যা নিরসনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নানান উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু ড্রেন পরিষ্কার বা বর্ষাকালে খোঁড়াখুঁড়ি করে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ঢাকার প্রাকৃতিক খাল ও জলাধার সংরক্ষণ, সমন্বিত ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন, পানি নিষ্কাশনের নতুন আউটলেট নির্মাণ এবং সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। অন্যথায় ঢাকাকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা কঠিন। ঢাকার জলাবদ্ধতার কারণ: ডিএসসিসি সূত্র জানায়, ১০৯ দশমিক ২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এখানে ৭৫টি ওয়ার্ডে প্রায় দেড় কোটি মানুষের বাস। অথচ ওয়ার্ডগুলোর পানি নিষ্কাশনে মাত্র চারটি আউটলেট আছে। এর মধ্যে মালিবাগ, শান্তিনগর, পল্টন ও মতিঝিল এলাকার পানি টিটিপাড়া পাম্প স্টেশনের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়। ধোলাইখাল-সূত্রাপুর হয়ে বুড়িগঙ্গায় যায় পুরান ঢাকা, আজিমপুর, গুলিস্তান ও হাজারীবাগ এলাকার পানি। গ্রিন রোড, তল্লাবাগ ও পান্থপথ এলাকার পানি হাতিরঝিল হয়ে রামপুরা পাম্প স্টেশনে যায়। এছাড়া যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, জুরাইন ও ডিএনডি এলাকার কিছু অংশের পানি শিমরাইল পাম্প স্টেশনের মাধ্যমে শীতলক্ষ্যা নদীতে নিষ্কাশন করা হয়। ফলে ঢাকায় টানা এক ঘণ্টা বৃষ্টি হলে ওই পানি একসঙ্গে মাত্র চারটি আউটলেট দিয়ে নিষ্কাশন সম্ভব নয়। বৃষ্টির পানি যেসব স্থানে জমে, সেগুলো দ্রুত সময়ে অপসারণে আমরা চেষ্টা করছি। তবে আমাদের পানি নদীতে নামার পথ কম। সেগুলো আমি বাড়াতে চেষ্টা করছি। এটা আমি করপোরেশনে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বলেছি। এ বছর কতটা সুযোগ দিতে পারবো জানি না। তবে আগামী বছর হয়তো অনেকটা সুযোগ আসবে। ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুস সালাম ঢাকার বৃষ্টিপাতের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৯৫৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নগরীর বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাত ২ হাজার ১৭ দশমিক ৭ মিলিমিটার। বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাত ও দৈনিক সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা সামান্য কমলেও বৃষ্টিপাতের অনিয়মিত প্রকৃতি এবং তীব্র বৃষ্টিপাতের ঘটনা বেড়েছে। ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ ৩৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ২০০৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর।

আরও পড়ুনঃ  পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান ডিসি ফরিদা খানমের

 

একই সময়ে দুদিনে সর্বোচ্চ ৪৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, যা অস্বাভাবিক হিসেবে বিবেচিত। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৫৩ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে ৪৭ বছরে মাত্র তিনবার একদিনে ২৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছিল। অথচ ২০০১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মাত্র ২৪ বছরে একই মাত্রার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয় তিনবার। ১৯৮৮ সালে ওই জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকার ২৬টি খালের দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসাকে দেয় সরকার। তারপরও নগরের খালগুলো ক্রমেই বেদখল হয়ে যায়। অনেক খাল ভরাট করে গড়ে ওঠে বহুতল ভবন। পরিস্থিতির বেগতিক দেখে ২০২১ সালের ওই খালগুলো সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করে ওয়াসা। কিন্তু এখন পর্যন্ত খালগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারেনি ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি। ফলে বৃষ্টি হলে শহরের পানি বের হওয়ার পথ খুঁজে পায় না। জানতে চাইলে নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, আগে ঢাকার ভেতর অসংখ্য জলাশয় ছিল। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে একে একে তা দখল, ভরাট হয়ে গেছে। এখন বৃষ্টির পানি যাওয়ার জায়গা নেই। আবার গত ২০ বছরের মধ্যে ১৬ বছর ঢাকার খালগুলোর ওয়াসার অধীনে ছিল; পরে চার বছর সিটি করপোরেশনের কাছে। তারা জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্লু নেটওয়ার্কটা তৈরি করেনি। ওপর থেকে রহমতের বৃষ্টি পড়বে। এটা গড়িয়ে গড়িয়ে খাল হয়ে নদীতে যাবে; এটাই স্বাভাবিক।

আরও পড়ুনঃ  তীব্র বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তিতে রাজধানীবাসী

 

কিন্তু পানি বের হওয়ার পথ খুঁজে পায় না। তাই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে ব্লু নেটওয়ার্ক তৈরির বিকল্প নেই। ডিএসসিসির জলাবদ্ধতার হটস্পট ও তা নিরসনে উদ্যোগ ডিএসসিসিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করে সংস্থাটির প্রকৌশল বিভাগ। সম্প্রতি তারা ডিএসসিসির জলাবদ্ধতাপ্রবণ ২৯টি গুরুত্বপূর্ণ হটস্পট চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ধানমন্ডি-২৭, গ্রিন রোড, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, নায়েম রোড, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, পলাশী এস এম হলের সামনে, সাকুরা মার্কেট এলাকা, মোকাররম ভবনের সামনে, পশ্চিম মালিবাগ, খিলগাঁও ফ্লাইওভার থেকে মালিবাগ কমিউনিটি সেন্টার, মানিকনগর টিটিপাড়া পাম্পের সামনে, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, কমলাপুর রেলস্টেশন, শাপলা চত্বর, নটর ডেম কলেজ এলাকা, পল্টন, দৈনিক বাংলা, ফকিরাপুল, চানমারির মোড়, শান্তিবাগ, আলমবাগ, পশ্চিম জুরাইন এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সড়ক অন্যতম। গতকাল টানা বৃষ্টিতে ওই ২৯টি হটস্পট ছাড়াও আরও শতাধিক জায়গায় জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। পুরানা পল্টনের বাসিন্দা আসাদ তালুকদার বলেন, গতকাল বৃষ্টিতে পল্টনের প্রায় সব সড়ক ডুবে যায়। পানির পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল, নৌকা চলবে। একটি দেশের রাজধানীর চিত্র এমন হতে পারে না। সরকারকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিকল্পনা নিতে হবে। গত ৬ জুন রাজধানীর একটি হোটেলে ডিএসসিসির উদ্যোগে ‘নাগরিক ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনার হয়।

আরও পড়ুনঃ  মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি নির্দেশনা

 

সেমিনারের প্রথম সেশনের বিষয় ছিল ঢাকা দক্ষিণের জলাবদ্ধতা: বাস্তবতা ও করণীয়’, যেখানে নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার কারণ, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং সমাধানের উপায় নিয়ে। ওই সেমিনারের মূল প্রবন্ধে নগরে জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিএসসিসি স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানায়। কিন্তু এতে সব উদ্যোগের পরও কেন বৃষ্টিতে ঢাকা ডুবে তা জানতে চাইলে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, ‘বর্ষায় প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে আমরা পারবো না। এখন যেটা হলো, বৃষ্টির পানি ব্যাপারে আমরা বহুবার বলছি, ঢাকা শহরে খাল-বিলগুলো নেই, বন্ধ হয়ে গেছে। কাজেরই ওপেন নিষ্কাশনের পানি অপসারণে সময় লাগে। তিনি বলেন এখন বৃষ্টির পানি যেসব স্থানে জমে, সেগুলো দ্রুত সময়ে অপসারণে আমরা চেষ্টা করছি। তবে আমাদের পানি নদীতে নামার পথ কম। সেগুলো আমি বাড়াতে চেষ্টা করছি। এটা আমি করপোরেশনে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বলেছি। এ বছর কতটা সুযোগ দিতে পারবো জানি না। তবে আগামী বছর হয়তো অনেকটা সুযোগ আসবে।

 

ডিএনসিসিতে জলাবদ্ধতার স্থান পুনরাবৃত্তি ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবছর জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি দেখা যায়। এর মধ্যে মিরপুরের বিভিন্ন অংশ, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, কালশী, আগারগাঁও, মহাখালী, বনানী, বাড্ডা, ভাটারা, নিকুঞ্জ, খিলক্ষেত, উত্তরা ও আবদুল্লাহপুরের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির সময় পানি জমে থাকে। নিচু এলাকা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ এবং খাল-সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এসব স্থানে পানি দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়। রোববারের বৃষ্টিতে ডিএনসিসির শতাধিক এলাকার সড়কে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। আজ সোমবার (১৩ জুলাই) বনানীসহ ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। কিন্তু ড্রেন ও ম্যানহলের মুখ পরিষ্কার ছাড়া সিটি করপোরেশনের তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন-নালা পরিষ্কারসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে ডিএনসিসি। জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি নিয়ে রোববার (১২ জুলাই) বিশেষ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। ওই বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে ডিএনসিসি খাল পুনরুদ্ধার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিয়মিত খাল ও নালা পরিষ্কার এবং আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

চট্টগ্রামে ২ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে হামলা, ৩৫ লাখ টাকা লুট

পথ হারিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকছে রাজধানীর অধিকাংশ সড়কে

আপডেটের সময়: ০৫:১২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আকাশে মেঘ জমলেই এখন ঢাকাবাসীর মনও আঁধারে ঢাকে। ঘণ্টাখানেক ভারী বৃষ্টি হলেই ডুবে যায় রাজধানীর অধিকাংশ সড়ক। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও আবার জমে কোমরসমান। বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। কর্মজীবী মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী– সবাইকে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। গতকাল রোববার (১২ জুলাই) টানা বৃষ্টিতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পানির নিচে তলিয়ে যায় বিভিন্ন মোড়, অলিগলি ও নিম্নাঞ্চল। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে যানবাহন, কোথাও বিকল হয়ে পড়ে ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহন। আজ সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা পুরোপুরি কাটেনি। এই জলাবদ্ধতার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বৃষ্টির পানির স্বাভাবিক প্রবাহপথ হারিয়ে যাওয়া। একসময় রাজধানীর অসংখ্য খাল, জলাশয় ও প্রাকৃতিক নালা দিয়ে বৃষ্টির পানি দ্রুত নদীতে নেমে যেত। কিন্তু বছরের পর বছর দখল, ভরাট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং কার্যকর ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক গড়ে না ওঠায় সেই পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি কোন পথে নদী-খালে যাবে সে পথটিই যেন হারিয়ে গেছে! ফলে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পানি আটকে থেকে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। নগরবাসীর প্রশ্ন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই কেন একই চিত্র দেখা যায়? বছরের পর বছর খোঁড়াখুঁড়ি, ড্রেন পরিষ্কার, খাল খনন ও নানা প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও কেন রাজধানী জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাচ্ছে না কিন্তু নাগরিকদের এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি)। নাগরিকদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশন জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে প্রতি বছরে শত শত কোটি টাকা জলে ফেলছে। তারা কাজের কাজ কিছুই করছে না। ফলে প্রতিবছর বর্ষায় তার খেসারত দিচ্ছেন নাগরের বাসিন্দারা। এ সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি।

 

তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্টদের দাবি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল দখল ও ভরাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি ক্রমেই আরও জটিল হয়ে উঠছে। এ সমস্যা নিরসনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নানান উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু ড্রেন পরিষ্কার বা বর্ষাকালে খোঁড়াখুঁড়ি করে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ঢাকার প্রাকৃতিক খাল ও জলাধার সংরক্ষণ, সমন্বিত ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন, পানি নিষ্কাশনের নতুন আউটলেট নির্মাণ এবং সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। অন্যথায় ঢাকাকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা কঠিন। ঢাকার জলাবদ্ধতার কারণ: ডিএসসিসি সূত্র জানায়, ১০৯ দশমিক ২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এখানে ৭৫টি ওয়ার্ডে প্রায় দেড় কোটি মানুষের বাস। অথচ ওয়ার্ডগুলোর পানি নিষ্কাশনে মাত্র চারটি আউটলেট আছে। এর মধ্যে মালিবাগ, শান্তিনগর, পল্টন ও মতিঝিল এলাকার পানি টিটিপাড়া পাম্প স্টেশনের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়। ধোলাইখাল-সূত্রাপুর হয়ে বুড়িগঙ্গায় যায় পুরান ঢাকা, আজিমপুর, গুলিস্তান ও হাজারীবাগ এলাকার পানি। গ্রিন রোড, তল্লাবাগ ও পান্থপথ এলাকার পানি হাতিরঝিল হয়ে রামপুরা পাম্প স্টেশনে যায়। এছাড়া যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, জুরাইন ও ডিএনডি এলাকার কিছু অংশের পানি শিমরাইল পাম্প স্টেশনের মাধ্যমে শীতলক্ষ্যা নদীতে নিষ্কাশন করা হয়। ফলে ঢাকায় টানা এক ঘণ্টা বৃষ্টি হলে ওই পানি একসঙ্গে মাত্র চারটি আউটলেট দিয়ে নিষ্কাশন সম্ভব নয়। বৃষ্টির পানি যেসব স্থানে জমে, সেগুলো দ্রুত সময়ে অপসারণে আমরা চেষ্টা করছি। তবে আমাদের পানি নদীতে নামার পথ কম। সেগুলো আমি বাড়াতে চেষ্টা করছি। এটা আমি করপোরেশনে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বলেছি। এ বছর কতটা সুযোগ দিতে পারবো জানি না। তবে আগামী বছর হয়তো অনেকটা সুযোগ আসবে। ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুস সালাম ঢাকার বৃষ্টিপাতের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৯৫৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নগরীর বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাত ২ হাজার ১৭ দশমিক ৭ মিলিমিটার। বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাত ও দৈনিক সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা সামান্য কমলেও বৃষ্টিপাতের অনিয়মিত প্রকৃতি এবং তীব্র বৃষ্টিপাতের ঘটনা বেড়েছে। ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ ৩৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ২০০৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর।

আরও পড়ুনঃ  মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি নির্দেশনা

 

একই সময়ে দুদিনে সর্বোচ্চ ৪৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, যা অস্বাভাবিক হিসেবে বিবেচিত। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৫৩ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে ৪৭ বছরে মাত্র তিনবার একদিনে ২৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছিল। অথচ ২০০১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মাত্র ২৪ বছরে একই মাত্রার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয় তিনবার। ১৯৮৮ সালে ওই জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকার ২৬টি খালের দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসাকে দেয় সরকার। তারপরও নগরের খালগুলো ক্রমেই বেদখল হয়ে যায়। অনেক খাল ভরাট করে গড়ে ওঠে বহুতল ভবন। পরিস্থিতির বেগতিক দেখে ২০২১ সালের ওই খালগুলো সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করে ওয়াসা। কিন্তু এখন পর্যন্ত খালগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারেনি ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি। ফলে বৃষ্টি হলে শহরের পানি বের হওয়ার পথ খুঁজে পায় না। জানতে চাইলে নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, আগে ঢাকার ভেতর অসংখ্য জলাশয় ছিল। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে একে একে তা দখল, ভরাট হয়ে গেছে। এখন বৃষ্টির পানি যাওয়ার জায়গা নেই। আবার গত ২০ বছরের মধ্যে ১৬ বছর ঢাকার খালগুলোর ওয়াসার অধীনে ছিল; পরে চার বছর সিটি করপোরেশনের কাছে। তারা জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্লু নেটওয়ার্কটা তৈরি করেনি। ওপর থেকে রহমতের বৃষ্টি পড়বে। এটা গড়িয়ে গড়িয়ে খাল হয়ে নদীতে যাবে; এটাই স্বাভাবিক।

আরও পড়ুনঃ  বন্যায় একটি মানুষকেও ক্ষুধার অভাবে মরতে দেওয়া যাবে না: ডিসি ফরিদা

 

কিন্তু পানি বের হওয়ার পথ খুঁজে পায় না। তাই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে ব্লু নেটওয়ার্ক তৈরির বিকল্প নেই। ডিএসসিসির জলাবদ্ধতার হটস্পট ও তা নিরসনে উদ্যোগ ডিএসসিসিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করে সংস্থাটির প্রকৌশল বিভাগ। সম্প্রতি তারা ডিএসসিসির জলাবদ্ধতাপ্রবণ ২৯টি গুরুত্বপূর্ণ হটস্পট চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ধানমন্ডি-২৭, গ্রিন রোড, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, নায়েম রোড, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, পলাশী এস এম হলের সামনে, সাকুরা মার্কেট এলাকা, মোকাররম ভবনের সামনে, পশ্চিম মালিবাগ, খিলগাঁও ফ্লাইওভার থেকে মালিবাগ কমিউনিটি সেন্টার, মানিকনগর টিটিপাড়া পাম্পের সামনে, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, কমলাপুর রেলস্টেশন, শাপলা চত্বর, নটর ডেম কলেজ এলাকা, পল্টন, দৈনিক বাংলা, ফকিরাপুল, চানমারির মোড়, শান্তিবাগ, আলমবাগ, পশ্চিম জুরাইন এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সড়ক অন্যতম। গতকাল টানা বৃষ্টিতে ওই ২৯টি হটস্পট ছাড়াও আরও শতাধিক জায়গায় জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। পুরানা পল্টনের বাসিন্দা আসাদ তালুকদার বলেন, গতকাল বৃষ্টিতে পল্টনের প্রায় সব সড়ক ডুবে যায়। পানির পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল, নৌকা চলবে। একটি দেশের রাজধানীর চিত্র এমন হতে পারে না। সরকারকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিকল্পনা নিতে হবে। গত ৬ জুন রাজধানীর একটি হোটেলে ডিএসসিসির উদ্যোগে ‘নাগরিক ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনার হয়।

আরও পড়ুনঃ  বৈধভাবে ক্রয়কৃত এবং ভোগদখলীয় জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ

 

সেমিনারের প্রথম সেশনের বিষয় ছিল ঢাকা দক্ষিণের জলাবদ্ধতা: বাস্তবতা ও করণীয়’, যেখানে নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার কারণ, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং সমাধানের উপায় নিয়ে। ওই সেমিনারের মূল প্রবন্ধে নগরে জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিএসসিসি স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানায়। কিন্তু এতে সব উদ্যোগের পরও কেন বৃষ্টিতে ঢাকা ডুবে তা জানতে চাইলে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, ‘বর্ষায় প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে আমরা পারবো না। এখন যেটা হলো, বৃষ্টির পানি ব্যাপারে আমরা বহুবার বলছি, ঢাকা শহরে খাল-বিলগুলো নেই, বন্ধ হয়ে গেছে। কাজেরই ওপেন নিষ্কাশনের পানি অপসারণে সময় লাগে। তিনি বলেন এখন বৃষ্টির পানি যেসব স্থানে জমে, সেগুলো দ্রুত সময়ে অপসারণে আমরা চেষ্টা করছি। তবে আমাদের পানি নদীতে নামার পথ কম। সেগুলো আমি বাড়াতে চেষ্টা করছি। এটা আমি করপোরেশনে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বলেছি। এ বছর কতটা সুযোগ দিতে পারবো জানি না। তবে আগামী বছর হয়তো অনেকটা সুযোগ আসবে।

 

ডিএনসিসিতে জলাবদ্ধতার স্থান পুনরাবৃত্তি ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবছর জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি দেখা যায়। এর মধ্যে মিরপুরের বিভিন্ন অংশ, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, কালশী, আগারগাঁও, মহাখালী, বনানী, বাড্ডা, ভাটারা, নিকুঞ্জ, খিলক্ষেত, উত্তরা ও আবদুল্লাহপুরের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির সময় পানি জমে থাকে। নিচু এলাকা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ এবং খাল-সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এসব স্থানে পানি দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়। রোববারের বৃষ্টিতে ডিএনসিসির শতাধিক এলাকার সড়কে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। আজ সোমবার (১৩ জুলাই) বনানীসহ ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। কিন্তু ড্রেন ও ম্যানহলের মুখ পরিষ্কার ছাড়া সিটি করপোরেশনের তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন-নালা পরিষ্কারসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে ডিএনসিসি। জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি নিয়ে রোববার (১২ জুলাই) বিশেষ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। ওই বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে ডিএনসিসি খাল পুনরুদ্ধার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিয়মিত খাল ও নালা পরিষ্কার এবং আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ গ্রহণ করছে।