Dhaka ০৮:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নগরকান্দায় লীজকৃত জমি নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচারের অভিযোগে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন মেঘনা নদীর তীর ধসে নিখোঁজ দুই বন্ধুর একজনের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ১ জন দাগনভূঞা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত জনমত যাচাই শেষে বিএনপির একক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে: ফারুক ঢাকার উত্তরে বিএনপির নগরপিতা হচ্ছেন কে? বাংলাদেশিদের ভাত খাওয়া কমছে বাড়ছে মাছ-মাংস-ফল মাদক ব্যবসা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার পদ স্থগিত গ্যাস-বিদ্যুৎ ও আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকবে বিরোধী দল: নাহিদ ইসলাম দিনাজপুরে ৬৫৭ বস্তা সার জব্দ,দুই ডিলারকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহারে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৬:২৮:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২০ সময় দেখুন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ মিলেছে বলে জানিয়েছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক আখতারুল ইসলাম। ওই বক্তব্য প্রত্যাহারে তাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনি এ নোটিশ পাঠান। আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এনসিপির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে আখতারুল ইসলাম আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানান। তার এ বক্তব্যের পর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। এ বিষয়ে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, কোনও ধরনের তদন্ত বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার ওই বক্তব্যের কারণে তাকে ঘিরে ব্যাপক মিডিয়া ট্রায়াল শুরু হয়। এতে অভিযোগগুলো যেন ইতোমধ্যেই প্রমাণিত; জনমনে এমন একটি ধারণা তৈরি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

আরও পড়ুনঃ  ঢাকা দক্ষিণের ভোটার হলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

 

পরে সাংবাদিকদের দুদক বিটের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আখতারুল ইসলাম তার ওই বক্তব্যকে ভুলবশত দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে একটি বার্তা দেন। একইসঙ্গে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে ‘প্রাথমিক সত্যতা’র বিষয়টি বাদ দিতে সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন। তবে প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি। ফলে বক্তব্যটির ভিত্তিতে সৃষ্ট মিডিয়া ট্রায়াল ও জনমনে তৈরি নেতিবাচক ধারণা অব্যাহত থাকে।
তিনি জানান, আইনি নোটিশে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর তথ্যগত অসঙ্গতিও তুলে ধরা হয়েছে। ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের অভিযোগ করা হলেও বাস্তবে ১১২ জন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় তাদের চলতি দায়িত্ব বাতিলের সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে। এছাড়া, ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি সংক্রান্ত অভিযোগে আসিফ মাহমুদকে জড়ানোও ভিত্তিহীন। আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির ঘটনাটি ঘটে ১১ মে, ২০২৬। অর্থাৎ, পদোন্নতির ঘটনাটি ঘটে তাঁর পদত্যাগের পাঁচ মাস পরে এবং বিএনপি সরকার গঠনের তিন মাসের মাথায়।

আরও পড়ুনঃ  ঢাকা উত্তর সিটিতে প্রার্থী হচ্ছেন আসিফ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

 

এই অবস্থায়, আইনি নোটিশে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তাকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তার বক্তব্য ১৫ দিনের মধ্যে একইভাবে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে যাচাই করা ও প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ওই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন আসিফ।

আরও পড়ুনঃ  দুর্নীতির অভিযোগ এনে মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে মানহানি করা হচ্ছে: আসিফ মাহমুদ
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নগরকান্দায় লীজকৃত জমি নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচারের অভিযোগে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহারে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

আপডেটের সময়: ০৬:২৮:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ মিলেছে বলে জানিয়েছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক আখতারুল ইসলাম। ওই বক্তব্য প্রত্যাহারে তাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনি এ নোটিশ পাঠান। আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এনসিপির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে আখতারুল ইসলাম আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানান। তার এ বক্তব্যের পর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। এ বিষয়ে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, কোনও ধরনের তদন্ত বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার ওই বক্তব্যের কারণে তাকে ঘিরে ব্যাপক মিডিয়া ট্রায়াল শুরু হয়। এতে অভিযোগগুলো যেন ইতোমধ্যেই প্রমাণিত; জনমনে এমন একটি ধারণা তৈরি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

আরও পড়ুনঃ  ঢাকার উত্তরে বিএনপির নগরপিতা হচ্ছেন কে?

 

পরে সাংবাদিকদের দুদক বিটের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আখতারুল ইসলাম তার ওই বক্তব্যকে ভুলবশত দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে একটি বার্তা দেন। একইসঙ্গে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে ‘প্রাথমিক সত্যতা’র বিষয়টি বাদ দিতে সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন। তবে প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি। ফলে বক্তব্যটির ভিত্তিতে সৃষ্ট মিডিয়া ট্রায়াল ও জনমনে তৈরি নেতিবাচক ধারণা অব্যাহত থাকে।
তিনি জানান, আইনি নোটিশে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর তথ্যগত অসঙ্গতিও তুলে ধরা হয়েছে। ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের অভিযোগ করা হলেও বাস্তবে ১১২ জন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় তাদের চলতি দায়িত্ব বাতিলের সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে। এছাড়া, ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি সংক্রান্ত অভিযোগে আসিফ মাহমুদকে জড়ানোও ভিত্তিহীন। আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির ঘটনাটি ঘটে ১১ মে, ২০২৬। অর্থাৎ, পদোন্নতির ঘটনাটি ঘটে তাঁর পদত্যাগের পাঁচ মাস পরে এবং বিএনপি সরকার গঠনের তিন মাসের মাথায়।

আরও পড়ুনঃ  আমরা জাতীয় পার্টির মতো পোষা বিরোধী দল হবো না: সারজিস

 

এই অবস্থায়, আইনি নোটিশে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তাকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তার বক্তব্য ১৫ দিনের মধ্যে একইভাবে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে যাচাই করা ও প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ওই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন আসিফ।

আরও পড়ুনঃ  দারিদ্র্য বিমোচনে বিএনপি সবসময় চ্যাম্পিয়ন: রিজভী