Dhaka ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
হারানো বিজ্ঞপ্তিঃ- সরিষাবাড়িতে মাকে বাড়ী থেকে বের করে দেওয়ার মামলায়, প্রকৌশলী ছেলে গ্রেফতার পারিবারিক বিরোধের জের চকরিয়ায় ভাতিজাদের ছুরিকাঘাতে আহত চাচার মৃত্যু পাহাড়ি ঢলে ছড়ার গর্ভে বিলীন নালকাটা-শুকনাছড়ি সড়ক কিছুটা কমতে শুরু করেছে সাঙ্গুর পানি, স্বস্তি ফিরছে বান্দরবান-রুমা-থানছিতে বিয়ের দাবিতে ৬০ বছরের বৃদ্ধের বাড়িতে নারীর অনেশন সবুজ ঢাকার অঙ্গীকার, আজকের বৃক্ষ আগামী নিশ্বাস: কদমতলীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান ডিসি ফরিদা খানমের আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’: ভোলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপিত দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে ১৬টি আশ্রয় কেন্দ্রের ৭৫১জন বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

কিছুটা কমতে শুরু করেছে সাঙ্গুর পানি, স্বস্তি ফিরছে বান্দরবান-রুমা-থানছিতে

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৬:০০:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ১৪ সময় দেখুন

মাসুদ রানা মাসুম পার্বত্য ব্যুরো
টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির পর অবশেষে স্বস্তির খবর মিলেছে বান্দরবানে। জেলার প্রাণপ্রবাহ সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি থেমে গিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। এতে বান্দরবান সদর, রুমা ও থানছি উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে। গত চারদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করে। বান্দরবান শহরের হাফেজঘোনা, কাশেমপাড়া, বালাঘাটা, আমবাগানসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে এবং শত শত পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন ২২০টির বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করে এবং কয়েক হাজার মানুষ সেখানে আশ্রয় নেন।
তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হতে শুরু করেছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষণ ও প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সাঙ্গু নদীর পানি আর বাড়ছে না; বরং ধীরে ধীরে ভাটির দিকে নেমে যাচ্ছে। ফলে রুমা ও থানছি উপজেলার মানুষ, যারা ২০২৩ সালের ভয়াবহ বন্যার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কায় ছিলেন, তারা এখন অনেকটাই স্বস্তি অনুভব করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৩ সালের ভয়াবহ বন্যার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সেই সময় দীর্ঘস্থায়ী অতি ভারী বর্ষণ ও ব্যাপক উজানি ঢলের কারণে সাঙ্গু নদীর পানি অস্বাভাবিক উচ্চতায় পৌঁছেছিল। এবারও নদী বিপদসীমা অতিক্রম করলেও পরিস্থিতি ছিল মূলত মৌসুমি পাহাড়ি ঢলকেন্দ্রিক এবং স্বল্পমেয়াদি। এদিকে আবহাওয়ার পরিস্থিতিও কিছুটা অনুকূলে এসেছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে পশ্চিমদিকে সরে যাওয়ায় অতিভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমেছে। বর্তমানে অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলেও তা নতুন করে বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করার মতো নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নদীর পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক রয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের এখনো সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। সাঙ্গুর পানি কমতে শুরু করায় বান্দরবানের থানছি রুমা রোয়াংছড়ি উপজেলার পাহাড়ি জনপদে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

আরও পড়ুনঃ  দীঘিনালায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

হারানো বিজ্ঞপ্তিঃ-

কিছুটা কমতে শুরু করেছে সাঙ্গুর পানি, স্বস্তি ফিরছে বান্দরবান-রুমা-থানছিতে

আপডেটের সময়: ০৬:০০:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

মাসুদ রানা মাসুম পার্বত্য ব্যুরো
টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির পর অবশেষে স্বস্তির খবর মিলেছে বান্দরবানে। জেলার প্রাণপ্রবাহ সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি থেমে গিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। এতে বান্দরবান সদর, রুমা ও থানছি উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে। গত চারদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করে। বান্দরবান শহরের হাফেজঘোনা, কাশেমপাড়া, বালাঘাটা, আমবাগানসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে এবং শত শত পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন ২২০টির বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করে এবং কয়েক হাজার মানুষ সেখানে আশ্রয় নেন।
তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হতে শুরু করেছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষণ ও প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সাঙ্গু নদীর পানি আর বাড়ছে না; বরং ধীরে ধীরে ভাটির দিকে নেমে যাচ্ছে। ফলে রুমা ও থানছি উপজেলার মানুষ, যারা ২০২৩ সালের ভয়াবহ বন্যার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কায় ছিলেন, তারা এখন অনেকটাই স্বস্তি অনুভব করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৩ সালের ভয়াবহ বন্যার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সেই সময় দীর্ঘস্থায়ী অতি ভারী বর্ষণ ও ব্যাপক উজানি ঢলের কারণে সাঙ্গু নদীর পানি অস্বাভাবিক উচ্চতায় পৌঁছেছিল। এবারও নদী বিপদসীমা অতিক্রম করলেও পরিস্থিতি ছিল মূলত মৌসুমি পাহাড়ি ঢলকেন্দ্রিক এবং স্বল্পমেয়াদি। এদিকে আবহাওয়ার পরিস্থিতিও কিছুটা অনুকূলে এসেছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে পশ্চিমদিকে সরে যাওয়ায় অতিভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমেছে। বর্তমানে অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলেও তা নতুন করে বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করার মতো নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নদীর পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক রয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের এখনো সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। সাঙ্গুর পানি কমতে শুরু করায় বান্দরবানের থানছি রুমা রোয়াংছড়ি উপজেলার পাহাড়ি জনপদে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

আরও পড়ুনঃ  দীঘিনালায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত