Dhaka ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি প্রজ্ঞাপন অমান্য করে চলছে টেংরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০২:০৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২ সময় দেখুন

ইয়ামিন হোসাইন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য সরকার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ৯টার মধ্যে পাঠদান শুরু এবং বিকাল ৪টা থেকে ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই প্রজ্ঞাপন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে সব বিদ্যালয়ে পৌঁছালেও বাস্তবে অনেক জায়গায় এর যথাযথ বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। এরই একটি উদাহরণ সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার টেংরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিকা আকলিমা আজীম নিজেই সরকারি নির্দেশনা মানছেন না। তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং প্রায়ই অসুস্থতার অজুহাতে ছুটিতে থাকেন।

আরও পড়ুনঃ  সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে গাছের ডালে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

 

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষিকা অনুপস্থিত থাকায় সহকারী শিক্ষিকা সুবর্না সরকার সকাল ৯টার পর জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর শামীমা খাতুন সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে এবং মোছাঃ ফাতিমা খাতুন সকাল ১০টা ৫ মিনিটে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। শিক্ষার্থীদের দাবি, নিয়মিত ক্লাস শুরু হয় সকাল ১০টার দিকে। এদিকে, শিক্ষক হাজিরা খাতায় প্রতিদিন সকাল ৯টার সময় স্বাক্ষর দেওয়া থাকলেও বাস্তব উপস্থিতির সঙ্গে তার মিল পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কথা বলতে সহকারী শিক্ষিকারা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকদের প্রভাবিত করার চেষ্টাও করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষিকা আকলিমা আজীমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অসুস্থতার কারণে ছুটিতে রয়েছেন। তার ঘন ঘন ছুটি নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “অসুস্থ হলে তো ছুটি নিতেই হয়।” সহকারী শিক্ষিকাদের দেরিতে আসা প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “৫-১০ মিনিট দেরি সবারই হয়।” তবে কোনো সহকারী শিক্ষিকা তার কাছ থেকে ছুটি নেয়নি বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  নাগরপুরে এলামিন-শামসুল হক সেতুর টোল বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

 

 

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে শেখ মুজিবুর রহমান-এর ছবি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে, যা শিক্ষিকারা যত্নসহকারে রক্ষণাবেক্ষণ করছেন। এ বিষয়ে কামারখন্দ উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবু সাঈদ বলেন, “আপনারা তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যান, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।” বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এমন অনিয়মিত উপস্থিতি ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হোক।

আরও পড়ুনঃ  চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সরকারি প্রজ্ঞাপন অমান্য করে চলছে টেংরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

আপডেটের সময়: ০২:০৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ইয়ামিন হোসাইন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য সরকার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ৯টার মধ্যে পাঠদান শুরু এবং বিকাল ৪টা থেকে ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই প্রজ্ঞাপন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে সব বিদ্যালয়ে পৌঁছালেও বাস্তবে অনেক জায়গায় এর যথাযথ বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। এরই একটি উদাহরণ সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার টেংরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিকা আকলিমা আজীম নিজেই সরকারি নির্দেশনা মানছেন না। তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং প্রায়ই অসুস্থতার অজুহাতে ছুটিতে থাকেন।

আরও পড়ুনঃ  ধামইরহাটে ১৫১৭১ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

 

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষিকা অনুপস্থিত থাকায় সহকারী শিক্ষিকা সুবর্না সরকার সকাল ৯টার পর জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর শামীমা খাতুন সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে এবং মোছাঃ ফাতিমা খাতুন সকাল ১০টা ৫ মিনিটে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। শিক্ষার্থীদের দাবি, নিয়মিত ক্লাস শুরু হয় সকাল ১০টার দিকে। এদিকে, শিক্ষক হাজিরা খাতায় প্রতিদিন সকাল ৯টার সময় স্বাক্ষর দেওয়া থাকলেও বাস্তব উপস্থিতির সঙ্গে তার মিল পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কথা বলতে সহকারী শিক্ষিকারা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকদের প্রভাবিত করার চেষ্টাও করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষিকা আকলিমা আজীমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অসুস্থতার কারণে ছুটিতে রয়েছেন। তার ঘন ঘন ছুটি নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “অসুস্থ হলে তো ছুটি নিতেই হয়।” সহকারী শিক্ষিকাদের দেরিতে আসা প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “৫-১০ মিনিট দেরি সবারই হয়।” তবে কোনো সহকারী শিক্ষিকা তার কাছ থেকে ছুটি নেয়নি বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  জৈন্তাপুরে ভুগলিখাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী 

 

 

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে শেখ মুজিবুর রহমান-এর ছবি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে, যা শিক্ষিকারা যত্নসহকারে রক্ষণাবেক্ষণ করছেন। এ বিষয়ে কামারখন্দ উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবু সাঈদ বলেন, “আপনারা তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যান, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।” বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এমন অনিয়মিত উপস্থিতি ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হোক।

আরও পড়ুনঃ  নাগরপুরে এলামিন-শামসুল হক সেতুর টোল বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন