Dhaka ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

নওগাঁ নিয়ামতপুর সম্পত্তির লোভে নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা

আব্দুস সালাম : নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুর ২টার সময় নওগাঁর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।গত সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—হাবিবুর রহমান (৩৫), তাঁর স্ত্রী পপি সুলতানা এবং তাঁদের দুই সন্তান পারভেজ রহমান (৯) ও সাদিয়া আক্তার (৩)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- হাবিবুর রহমানের বোন শিরিন আক্তারের স্বামী শহিদুল ইসলাম (৩০), তাঁর ভাগনে সবুজ রানা (২০) ও শাহিন হোসেন। তাঁদের সবার বাড়ি একই গ্রামে।

আরও পড়ুনঃ  বায়েজিদে প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে চেক ছিনতাই, উল্টো মামলা ও হয়রানির শিকার রেমিটেন্স যোদ্ধা

 

 

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। হাবিবুর রহমান ছয় ভাই-বোনের মধ্যে একমাত্র ছেলে। সম্প্রতি তাঁর বাবা ১৭ বিঘা জমির মধ্যে বসতবাড়িসহ ১৩ বিঘা জমি হাবিবুরের নামে লিখে দেন এবং বাকি জমি মেয়েদের মধ্যে ভাগ করে দেন। এতে অসন্তোষ তৈরি হয় বোন ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং গ্রাম্য সালিসও হয়েছিল।পুলিশ জানায়, এই বিরোধের জের ধরে হাবিবুরকে হত্যার পরিকল্পনা করে তাঁর ভগ্নিপতি শহিদুল ইসলাম, ভাগনে সবুজ রানা ও শাহিনসহ আরও কয়েকজন। ঘটনার দিন বিকেলে হাবিবুর তার ভাগনে সবুজ রানাকে নিয়ে গরু কিনতে বাজারে যান। পরে বাড়িতে ফিরে রাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযুক্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে।প্রথমে তারা বাড়ির অন্য সদস্যদের অচল করে দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় হাবিবুর রহমানকে গলা কেটে হত্যা করে। পরে তার স্ত্রী পপি সুলতানাকে আক্রমণ করে হত্যা করা হয়। এরপর পরিবারের সবাইকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে তাদের দুই শিশুসন্তানকেও গলা কেটে হত্যা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  ফটিকছড়ি উপজেলা “ক”জোনের আওতাধীন সকল শাখা কমিটির সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

 

 

পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামি শহিদুল ও সবুজ রানা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাসুয়া ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।তিনি আরও জানান, পুরো পরিবারকে হত্যা করলে হাবিবুরের সম্পত্তির ভাগ নিজেদের মধ্যে নেওয়া সহজ হবে-এমন ধারণা থেকেই তারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায়।এ ঘটনায় নিহত পপি সুলতানার বাবা বাদী হয়ে নিয়ামতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

গাইবান্ধায় মজুত ডিজেলে ডুবে শিশুর মৃত্যু

নওগাঁ নিয়ামতপুর সম্পত্তির লোভে নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা

আপডেটের সময়: ০৫:৩১:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

আব্দুস সালাম : নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুর ২টার সময় নওগাঁর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।গত সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—হাবিবুর রহমান (৩৫), তাঁর স্ত্রী পপি সুলতানা এবং তাঁদের দুই সন্তান পারভেজ রহমান (৯) ও সাদিয়া আক্তার (৩)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- হাবিবুর রহমানের বোন শিরিন আক্তারের স্বামী শহিদুল ইসলাম (৩০), তাঁর ভাগনে সবুজ রানা (২০) ও শাহিন হোসেন। তাঁদের সবার বাড়ি একই গ্রামে।

আরও পড়ুনঃ  বায়েজিদে প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে চেক ছিনতাই, উল্টো মামলা ও হয়রানির শিকার রেমিটেন্স যোদ্ধা

 

 

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। হাবিবুর রহমান ছয় ভাই-বোনের মধ্যে একমাত্র ছেলে। সম্প্রতি তাঁর বাবা ১৭ বিঘা জমির মধ্যে বসতবাড়িসহ ১৩ বিঘা জমি হাবিবুরের নামে লিখে দেন এবং বাকি জমি মেয়েদের মধ্যে ভাগ করে দেন। এতে অসন্তোষ তৈরি হয় বোন ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং গ্রাম্য সালিসও হয়েছিল।পুলিশ জানায়, এই বিরোধের জের ধরে হাবিবুরকে হত্যার পরিকল্পনা করে তাঁর ভগ্নিপতি শহিদুল ইসলাম, ভাগনে সবুজ রানা ও শাহিনসহ আরও কয়েকজন। ঘটনার দিন বিকেলে হাবিবুর তার ভাগনে সবুজ রানাকে নিয়ে গরু কিনতে বাজারে যান। পরে বাড়িতে ফিরে রাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযুক্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে।প্রথমে তারা বাড়ির অন্য সদস্যদের অচল করে দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় হাবিবুর রহমানকে গলা কেটে হত্যা করে। পরে তার স্ত্রী পপি সুলতানাকে আক্রমণ করে হত্যা করা হয়। এরপর পরিবারের সবাইকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে তাদের দুই শিশুসন্তানকেও গলা কেটে হত্যা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  পর্যটক সীমিত রুমা: বিপাকে গাইড ও ব্যবসায়ীরা, ঘুরে দাঁড়ানোর আশা ঈদ মৌসুমে

 

 

পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামি শহিদুল ও সবুজ রানা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাসুয়া ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।তিনি আরও জানান, পুরো পরিবারকে হত্যা করলে হাবিবুরের সম্পত্তির ভাগ নিজেদের মধ্যে নেওয়া সহজ হবে-এমন ধারণা থেকেই তারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায়।এ ঘটনায় নিহত পপি সুলতানার বাবা বাদী হয়ে নিয়ামতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন