
মাসুদ রানা মাসুম পার্বত্য ব্যুরো,: দীর্ঘ ২৮ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম, মামলা-হামলা, রাজপথের লড়াই—সবকিছুর পরও “সঠিক মূল্যায়ন” না পাওয়ার আক্ষেপ তুলে সরব হয়েছেন জেলা বিএনপির মহিলা নেত্রী উম্মে কুলসুম লীনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি নিজের ত্যাগ-সংগ্রামের হিসাব তুলে ধরে দলের কাছে ন্যায্য স্বীকৃতি দাবি করেছেন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
লীনা বলেন, ১৯৯৮ থেকে আজ পর্যন্ত বিএনপির পতাকা বুকে ধারণ করেছি। দুঃসময়ে সামনের সারিতে থেকেছি, মামলা হামলা মাথায় নিয়েছি। কিন্তু প্রতিদান চাই না, চাই শুধু সঠিক মূল্যায়ন।”তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—দলীয় পদ বা মনোনয়নের চেয়েও তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি ও মর্যাদা।ত্যাগ বনাম ‘হাইব্রিড’ বিতর্কে বান্দরবান বিএনপির অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরেই ‘ত্যাগী’ ও ‘হাইব্রিড’ নেতাকর্মী ইস্যুতে চাপা অসন্তোষ রয়েছে। লীনার বক্তব্য সেই বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তিনি সরাসরি ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, “ত্যাগের খাতা খুলে দেখুন। কোন হাইব্রিড নয়, ত্যাগী নেতা-নেত্রীদের মূল্যায়ন চাই বা দিতে হবে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে দলে নতুন যোগ দেওয়া বা প্রভাবশালী কিছু নেতা নেত্রীর কারণে পুরনো কর্মীদের মধ্যে বঞ্চনার অনুভূতি বাড়ছে। বাড়ছে চাপা অসন্তোষ।
যা তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে চরম হতাশার বার্তা বহন করছে বলে মনে করেন অনেকেই।তাছাড়া স্থানীয় অধিকাংশ সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের মতে, লীনার এই স্ট্যাটাস শুধু ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয় বরং তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশের মনের কথা, মনের ভাষা, মনের অনুভূতি ও ত্যাগী আবেগ । দীর্ঘদিন রাজপথে থাকা অনেক নেতাকর্মীই দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে বলছেন , দলে তাদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত করা হচ্ছে না।একজন তৃণমূল কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দুঃসময়ে যারা ছিলো, তাদের আজ মূল্যায়ন করা হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন প্রকাশ্য বক্তব্য দলীয়ভাবে সঠিক মর্যাদা না পাওয়ার প্রশ্ন তুললেও এটি একইসাথে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের একটি অশনি এক সংকেত। তৃণমূলের এই অসন্তোষ যদি দ্রুত সমাধান না করা হয়, তাহলে তা ভবিষ্যতে সাংগঠনিক দুর্বলতায় রূপ নিতে পারে নিঃসন্দেহে।উম্মে কুলসুম লীনার শেষ বার্তাটি যেন পুরো বিষাদ এর ত্যাগী বঞ্চনার আর্তনাদ। “২৮ বছরের ত্যাগ, একটাই দাবি, সঠিক মূল্যায়ন। দল অভিভাবক, বিচার আপনারাই করুন।
এখন দেখার বিষয়, বান্দরবান বিএনপির সিনিয়র নেতৃত্বগন এই বার্তাকে কীভাবে নেয়—ব্যক্তিগত আবেগ হিসেবে, নাকি তৃণমূলের বাস্তব বিষাদী সংকেত হিসেবে।
কেননা বাংলাদেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলো এরআগেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে মামলা হামলা জোর জুলুম ও নির্যাতন শিকার হওয়া তৃণমূল কর্মীদের অবহেলার ঘটনা হরহামেশাই ঘটিয়েছে। যা নতুন নয়। যার ফলে তৃণমূলের কর্মীদের অবহেলা কারণে বড় দলগুলো পতন হতেও তেমন সময়ের প্রয়োজন হয়নি। ৩৭ বছর আগে এরশাদ সরকারের বিদায় এবং সাম্প্রতিক সময়ে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের হটাৎ পলায়ন ও পতন, বড় এক উদাহরণ।
প্রতিবেদকের নাম 


















