Dhaka ০৬:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মৌলভীবাজারে ইনসানিয়া স্পেশালাইজড হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন শিপিং সেক্টরে নতুন বাজার সৃষ্টিতে নাবিকগণ দূত হিসেবে কাজ করবে: নৌপরিবহন মন্ত্রী সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, ৫১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নদীর পাড়ে মাদক সেবন, আটক -১ পুলিশের বিশেষ অভিযান: সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত ১২ আসামী গ্রেফতার বান্দরবান এলজিইডি’তে লুটপাটের ‘হরিলুট নিশ্চুপ নির্বাহী প্রকৌশলী, রাজবাড়ীতে ১০ টি ফিলিং স্টেশনের একটিতেও তেল না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালক গাইবান্ধায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন, সমুদ্রপথে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ২০২৫ ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর: ইউএনএইচসিআর ফটিকছড়ি উপজেলা “ক”জোনের আওতাধীন সকল শাখা কমিটির সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

সমুদ্রপথে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ২০২৫ ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর: ইউএনএইচসিআর

মোঃ আমজাদ হোসেন: আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ২০২৫ সালে প্রায় ৯০০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রাণ হারিয়েছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রপথে চলাচলের ইতিহাসে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী বছর।

সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ৬,৫০০-এরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যাত্রীদের মধ্যে প্রতি সাতজনে একজন মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন—যা বর্তমানে বিশ্বের যেকোনো প্রধান সমুদ্রপথের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুহার।

আরও পড়ুনঃ  বর্ণাঢ্য আয়োজনে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন

উদ্বেগজনক তথ্য হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বিপজ্জনক পথে যাত্রা করা শরণার্থীদের অর্ধেকেরও বেশি ছিলেন নারী ও শিশু। মৃত্যুর এই মিছিল ২০২৬ সালেও থামেনি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যেই ২,৮০০-এরও বেশি রোহিঙ্গা একই ধরনের বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করেছেন।

গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশ থেকে ছেড়ে যাওয়া অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি নৌকা আন্দামান সাগরে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। উত্তাল সমুদ্রে ঘটা ওই দুর্ঘটনায় আনুমানিক ২৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দীর্ঘ সময় পর ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছ থেকে মাত্র নয়জন জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। ইউএনএইচসিআর বর্তমানে উদ্ধারকৃতদের চিকিৎসা ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা দিচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  পাঁচ গ্রামের মানুষের ভরসা ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের কালবার্ট,

মানব পাচার ও মৃত্যুর ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও কেন হাজার হাজার শরণার্থী এই পথ বেছে নিচ্ছেন—তার উত্তরে ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, অধিকাংশ রোহিঙ্গা নিজ দেশ মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সাথে ফিরতে চাইলেও সেখানে নাগরিকত্বহীনতা, সংঘাত ও নিপীড়নের কারণে ফেরার কোনো আশাই দেখছেন না।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য মানবিক সহায়তার তহবিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তহবিলের তীব্র সংকটে ক্যাম্পে অস্থিরতা, শিক্ষা ও জীবিকার সুযোগের অভাব শরণার্থীদের বাধ্য করছে এই মরণপণ যাত্রায় নামতে।

আরও পড়ুনঃ  ডলুপাড়ায় সাংগ্রাইয়ের জলকেলি: মন্ত্রী-এমপির উপস্থিতিতে সম্প্রীতির মহোৎসব

বর্তমানে এই অঞ্চলে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জেআরপি) মাত্র ৫৩ শতাংশ অর্থায়ন পেয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে আন্তর্জাতিক মহলের জরুরি সহায়তা কামনা করা হয়েছে।

সংস্থাটি রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো মোকাবিলা করে, নিরাপদ ও বৈধ পথ সম্প্রসারণ করে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে মানব পাচার প্রতিরোধ ও অমূল্য জীবন রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

মৌলভীবাজারে ইনসানিয়া স্পেশালাইজড হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন

সমুদ্রপথে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ২০২৫ ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর: ইউএনএইচসিআর

আপডেটের সময়: ০১:২২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

মোঃ আমজাদ হোসেন: আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ২০২৫ সালে প্রায় ৯০০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রাণ হারিয়েছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রপথে চলাচলের ইতিহাসে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী বছর।

সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ৬,৫০০-এরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যাত্রীদের মধ্যে প্রতি সাতজনে একজন মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন—যা বর্তমানে বিশ্বের যেকোনো প্রধান সমুদ্রপথের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুহার।

আরও পড়ুনঃ  বান্দরবানে প্রতিমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা: বিএনপির নেতৃবৃন্দের বরণ

উদ্বেগজনক তথ্য হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বিপজ্জনক পথে যাত্রা করা শরণার্থীদের অর্ধেকেরও বেশি ছিলেন নারী ও শিশু। মৃত্যুর এই মিছিল ২০২৬ সালেও থামেনি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যেই ২,৮০০-এরও বেশি রোহিঙ্গা একই ধরনের বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করেছেন।

গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশ থেকে ছেড়ে যাওয়া অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি নৌকা আন্দামান সাগরে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। উত্তাল সমুদ্রে ঘটা ওই দুর্ঘটনায় আনুমানিক ২৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দীর্ঘ সময় পর ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছ থেকে মাত্র নয়জন জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। ইউএনএইচসিআর বর্তমানে উদ্ধারকৃতদের চিকিৎসা ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা দিচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  বর্ণাঢ্য আয়োজনে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন

মানব পাচার ও মৃত্যুর ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও কেন হাজার হাজার শরণার্থী এই পথ বেছে নিচ্ছেন—তার উত্তরে ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, অধিকাংশ রোহিঙ্গা নিজ দেশ মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সাথে ফিরতে চাইলেও সেখানে নাগরিকত্বহীনতা, সংঘাত ও নিপীড়নের কারণে ফেরার কোনো আশাই দেখছেন না।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য মানবিক সহায়তার তহবিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তহবিলের তীব্র সংকটে ক্যাম্পে অস্থিরতা, শিক্ষা ও জীবিকার সুযোগের অভাব শরণার্থীদের বাধ্য করছে এই মরণপণ যাত্রায় নামতে।

আরও পড়ুনঃ  জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার স্মরণে বিএনপির উদ্যোগে ম্রো কমপ্লেক্সে ক্রীড়া সামগ্রী ও খাবার বিতরণ

বর্তমানে এই অঞ্চলে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জেআরপি) মাত্র ৫৩ শতাংশ অর্থায়ন পেয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে আন্তর্জাতিক মহলের জরুরি সহায়তা কামনা করা হয়েছে।

সংস্থাটি রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো মোকাবিলা করে, নিরাপদ ও বৈধ পথ সম্প্রসারণ করে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে মানব পাচার প্রতিরোধ ও অমূল্য জীবন রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে।