
মাসুদ রানা মাসুম, পার্বত্য ব্যুরো:বান্দরবানের উন্নয়ন প্রকল্পের নামে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) চলছে লুটপাটের মহোৎসব। জেলার লামা, রুমা ও আলীকদমসহ সাতটি উপজেলায় রাস্তার কাজে বালুর বদলে মাটি ব্যবহার এবং আংশিক কাজ করে পুরো বিল তুলে নেওয়ার মতো ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইলেও রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ রয়েছেন জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান।
সরেজমিনে এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, পাহাড়ের দুর্গম জনপদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য সরকার কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও তার বড় অংশই যাচ্ছে প্রভাবশালী ঠিকাদার ও দপ্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের পকেটে। রাস্তার বেইজ ঢালাই ও সিলকোটে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের চিত্র এখন ওপেন সিক্রেট। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ছে। সচেতন মহলের অভিযোগ, ঠিকাদাররা প্রভাব খাটিয়ে এসব অনিয়ম করলেও এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জেনেও যেন ‘অন্ধ’ সেজে বসে আছে।
অনিয়মের পাহাড় সমান অভিযোগের তীর এখন নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ানের দিকে। সাংবাদিকরা সুনির্দিষ্ট তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ নিয়ে বক্তব্য চাইতে গেলে তিনি মাসের পর মাস এড়িয়ে চলছেন। পেশাগত কাজে তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া সংবাদকর্মীদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। জেলাজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—এই বিশাল দুর্নীতির নেপথ্য প্রশ্রয়দাতা কে? কার শক্তিতে তিনি তথ্য গোপন করেন এবং সংবাদকর্মীদের সাথে এমন অপেশাদার আচরণ করার সাহস পান?
তাছাড়া বান্দরবানের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও সামাজিক মাধ্যমে এলজিইডির এই ‘উন্নয়ন হরিলুট’ নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন চরমে। স্থানীয় একাধিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সচেতন নাগরিকরা ধারাবাহিকভাবে এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কর্ণপাত করা হচ্ছে না। যা পুরো বিষয়টিকে এক গভীর রহস্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—বান্দরবান এলজিইডি কি কোনো প্রভাবশালী ‘নবাব’ বা অশুভ শক্তির হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে?
এসব গুরুতর অভিযোগের সত্যতার বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ানের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে নিউজ প্রকাশের আগে বারবার বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। পরবর্তীতে তাকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার এই টানা নীরবতাকে দুর্নীতির মৌন স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজ।
পার্বত্য অঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের লুটপাট বন্ধে এবং সংশ্লিষ্ট দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বান্দরবানের সর্বস্তরের জনগণ।
প্রতিবেদকের নাম 


















