
মো. রাসেল, বিশেষ প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডে ফোরকানিয়া পাঞ্জাখানা সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে একদিকে যেমন গ্রামীণ রাস্তাঘাট ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও পরিবেশগত ঝুঁকিতে ভুগছে স্থানীয় কোমলমতি শিশুসহ এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাঞ্জাখানা ও বসতবাড়ির একেবারে পাশেই ড্রেজার বসিয়ে গভীর গর্ত করে বালু তোলা হচ্ছে। বালু পরিবহনের জন্য ভারী ট্রাক ও ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে স্থানীয় এলজিইডি ও কাঁচা রাস্তাগুলো বড় বড় গর্তে পরিণত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির দিনে এসব রাস্তায় কাদা ও পিচ্ছিল হওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া ভারী যানের চাপে আশপাশের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত সীমানা প্রাচীরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ড্রেজারের বিকট শব্দ ও রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কারণে স্থানীয় শিশুরা ভয়ে পাঞ্জাখানায় পড়তে আসতে চাইছে না। ধুলোবালির কারণে বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণে ওই এলাকার পরিবেশ বিষিয়ে উঠেছে, যা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিরাপত্তাহীনতার কারণে ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, “বালু উত্তোলনের ফলে শুধু আমাদের রাস্তাঘাট নষ্ট হচ্ছে না, বরং নদীর পাড় ও বসতভিটা ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন শত শত ট্রাকে বালু নিয়ে যাওয়ায় গ্রামীণ জনপদের শান্ত পরিবেশ ও রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমরা বারবার নিষেধ করলেও বালু ব্যবসায়ীরা কোনো তোয়াক্কা করছে না।”
বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী, জনবসতিপূর্ণ এলাকা বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বালু উত্তোলন ও সড়ক নষ্ট করা দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু সরই ৪ নং ওয়ার্ডে এই আইনের কোনো প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না।
এই বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ড্রেজার জব্দ এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদকের নাম 




















