Dhaka ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ফটিকছড়ি উপজেলা “ক”জোনের আওতাধীন সকল শাখা কমিটির সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলন: রাস্তাঘাট ধ্বংস ও পরিবেশ বিপর্যয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত  ১০ দিন হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুমার পলিকা পাড়ায় সাংগ্রাই উৎসবে জলকেলির আনন্দে মুখর পাহাড় গাইবান্ধায় অর্থ আত্মসাতের মিথ্যা অপবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গ্রামাঞ্চলে তীব্র লোডশেডিং গরমে মানুষের হাঁসফাঁস বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ দেখতে গ্যালারিতে জাইমা রহমান সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার স্থায়ী যুদ্ধের অবসান চায় ইরান: উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জনগণকে গর্জে উঠতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান

অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলন: রাস্তাঘাট ধ্বংস ও পরিবেশ বিপর্যয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত 

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১০:৩৬:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৬ সময় দেখুন

মো. রাসেল, বিশেষ প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডে ফোরকানিয়া পাঞ্জাখানা সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে একদিকে যেমন গ্রামীণ রাস্তাঘাট ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও পরিবেশগত ঝুঁকিতে ভুগছে স্থানীয় কোমলমতি শিশুসহ এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাঞ্জাখানা ও বসতবাড়ির একেবারে পাশেই ড্রেজার বসিয়ে গভীর গর্ত করে বালু তোলা হচ্ছে। বালু পরিবহনের জন্য ভারী ট্রাক ও ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে স্থানীয় এলজিইডি ও কাঁচা রাস্তাগুলো বড় বড় গর্তে পরিণত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির দিনে এসব রাস্তায় কাদা ও পিচ্ছিল হওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া ভারী যানের চাপে আশপাশের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত সীমানা প্রাচীরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  জৈন্তাপুরে ৩২ লাখ টাকার ভারতীয় ঔষধসহ দুই যুবক আটক

ড্রেজারের বিকট শব্দ ও রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কারণে স্থানীয় শিশুরা ভয়ে পাঞ্জাখানায় পড়তে আসতে চাইছে না। ধুলোবালির কারণে বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণে ওই এলাকার পরিবেশ বিষিয়ে উঠেছে, যা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিরাপত্তাহীনতার কারণে ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  ফিসনেট প্রকল্প এর সহযোগীতায় তালতলী উপজেলায় সমুদ্রগামী ট্রলারে জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম বিতরণ

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, “বালু উত্তোলনের ফলে শুধু আমাদের রাস্তাঘাট নষ্ট হচ্ছে না, বরং নদীর পাড় ও বসতভিটা ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন শত শত ট্রাকে বালু নিয়ে যাওয়ায় গ্রামীণ জনপদের শান্ত পরিবেশ ও রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমরা বারবার নিষেধ করলেও বালু ব্যবসায়ীরা কোনো তোয়াক্কা করছে না।”

আরও পড়ুনঃ  পাঁচ গ্রামের মানুষের ভরসা ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের কালবার্ট,

বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী, জনবসতিপূর্ণ এলাকা বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বালু উত্তোলন ও সড়ক নষ্ট করা দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু সরই ৪ নং ওয়ার্ডে এই আইনের কোনো প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না।

এই বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ড্রেজার জব্দ এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ফটিকছড়ি উপজেলা “ক”জোনের আওতাধীন সকল শাখা কমিটির সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলন: রাস্তাঘাট ধ্বংস ও পরিবেশ বিপর্যয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত 

আপডেটের সময়: ১০:৩৬:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

মো. রাসেল, বিশেষ প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডে ফোরকানিয়া পাঞ্জাখানা সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে একদিকে যেমন গ্রামীণ রাস্তাঘাট ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও পরিবেশগত ঝুঁকিতে ভুগছে স্থানীয় কোমলমতি শিশুসহ এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাঞ্জাখানা ও বসতবাড়ির একেবারে পাশেই ড্রেজার বসিয়ে গভীর গর্ত করে বালু তোলা হচ্ছে। বালু পরিবহনের জন্য ভারী ট্রাক ও ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে স্থানীয় এলজিইডি ও কাঁচা রাস্তাগুলো বড় বড় গর্তে পরিণত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির দিনে এসব রাস্তায় কাদা ও পিচ্ছিল হওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া ভারী যানের চাপে আশপাশের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত সীমানা প্রাচীরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  পাঁচ গ্রামের মানুষের ভরসা ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের কালবার্ট,

ড্রেজারের বিকট শব্দ ও রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কারণে স্থানীয় শিশুরা ভয়ে পাঞ্জাখানায় পড়তে আসতে চাইছে না। ধুলোবালির কারণে বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণে ওই এলাকার পরিবেশ বিষিয়ে উঠেছে, যা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিরাপত্তাহীনতার কারণে ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  মৌলভীবাজারে আগ্নেয়াস্ত্র পাইপগান ও কুখ্যাত ডাকাত রুবেল সহ গ্রেফতার ৩

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, “বালু উত্তোলনের ফলে শুধু আমাদের রাস্তাঘাট নষ্ট হচ্ছে না, বরং নদীর পাড় ও বসতভিটা ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন শত শত ট্রাকে বালু নিয়ে যাওয়ায় গ্রামীণ জনপদের শান্ত পরিবেশ ও রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমরা বারবার নিষেধ করলেও বালু ব্যবসায়ীরা কোনো তোয়াক্কা করছে না।”

আরও পড়ুনঃ  ফিসনেট প্রকল্প এর সহযোগীতায় তালতলী উপজেলায় সমুদ্রগামী ট্রলারে জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম বিতরণ

বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী, জনবসতিপূর্ণ এলাকা বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বালু উত্তোলন ও সড়ক নষ্ট করা দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু সরই ৪ নং ওয়ার্ডে এই আইনের কোনো প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না।

এই বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ড্রেজার জব্দ এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।