Dhaka ০৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

দীর্ঘ একযুগের বেশি সময় ধরে বন্ধ উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি সাংস্কৃতিচর্চা বিলুপ্তির পথে

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৭:৪৮:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯৪ সময় দেখুন

নাজমুল হুদা নয়ন, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুর দীর্ঘ একযুগের বেশি সময় ধরে বন্ধ আছে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি। যেখানে একসময় নাটক, গান, আবৃত্তি ও নৃত্যচর্চার প্রাণকেন্দ্র ছিল, সেই স্থানটি এখন উপজেলা অফিসের স্টোর রুমে পরিনত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির ভবন না থাকায় কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও উপজেলার সাবেক নির্বাহী অফিসার আশিক খান পুরাতন হলরুমটি বরাদ্দ দিলেও তা স্টোর রুম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশাসনিক অবহেলা, জবাবদিহিতার অভাব এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয় সংস্কৃতি অঙ্গন আজ চরম সংকটে। দীর্ঘ এক যুগের স্থবিরতায় শেরপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গন কার্যত ‘মৃত’। এখানে শতাধিক শিল্পী, সংগীতশিল্পী, নাট্যকর্মী ও আবৃত্তিকার থাকলেও তাদের চর্চার কোনো সুযোগ নেই। লালন চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্র ভবের হাটের সভাপতি মোজাফফর আলী আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের শিশুরা পিছিয়ে গেছে। গত ১২ বছর এখানে সাংস্কৃতি চর্চা নেই। একাডেমি শুধু নামেই আছে, বাস্তবে মৃত।” বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে শিল্পকলার কমিটি গঠন করা কে কেন্দ্র করে একেক পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় পরবর্তিতে আর কমিটি করা হয়নি। সাবেক নির্বাহী অফিসার আশিক খান চলে যাওয়ার পূর্বমূহুর্তে উপজেলার অফিসারদের নিয়ে একটি কমিটি ঘোষনা দিলেও সেই কমিটির কোন কার্যক্রম এখন পর্যন্ত চোখে পরেনি।

আরও পড়ুনঃ  চিলমারীতে বাড়ির পাশেই মিলল শিশু আয়শার ক্ষতবিক্ষত নিথর মৃত দেহ

 

নৃতাঞ্জলী আর্টস একাডেমির পরিচালক কে এম কামরুল হাসান পাশা জানান, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি শুরুর পর থেকে দু-এক বছর কার্যক্রম চলমান ছিল কিন্তু তার পর থেকে আজ পর্যন্ত এর কোন কার্যক্রম নেই। পাশ্ববর্তী ধুনট উপজেলায় এর কার্যক্রম থাকলেও আমাদের এখানে নেই। ফলে স্থানীয় সংস্কৃতিক কর্মীরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন , প্রতি বছর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে বাজেট এলেও, সেই অর্থের কোনো স্বচ্ছ ব্যবহার হয় না। তৎকালীন ইউএনও আশিক খানের মাধ্যমে শেরপুর শিল্পকলা একাডেমির তথাকথিত “পকেট কমিটি”র সূচনা হয়। সেই থেকে আজও একাডেমির উন্নয়ন তহবিল সংস্কৃতি চর্চায় কাজে আসেনি। প্রকৃত সংস্কৃতিকর্মীদের বাদ দিয়ে উপজেলার অফিসারদের নিয়ে কমিটি গঠন করার কারনে এই একাডেমির কোন কার্যক্রম নেই বলে মনে করছেন উপজেলার সাংস্কৃতিক কর্মীরা।

আরও পড়ুনঃ  গাইবান্ধায় অর্থ আত্মসাতের মিথ্যা অপবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

 

চারটি হারমনিয়াম তিন সেট ডুগি তবলা একটি কীবোর্ড একটি গীটার সহ পর্যাপ্ত সরঞ্জামঅাদী রয়েছে। বিগত সময় এটার কার্যক্রম করা যায়নি তবে বর্তমানে নতুন ভাবে শিল্পকলার কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানান উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা।  এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি সভাপতি মো: সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, এই উপজেলাতে সবেমাত্র এসেছি। শিল্পকলার বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিতে পারিনি তবে এক তরফা কমিটি করার সুযোগ নেই। সকল সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিবর্গের উপস্থিতিতেই শিল্পকলার কার্যক্রম চালু করা হবে। একাডেমি নতুন করে সাজিয়ে সামনে পহেলা বৈশাখ থেকে কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুনঃ  নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা 
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

গাইবান্ধায় মজুত ডিজেলে ডুবে শিশুর মৃত্যু

দীর্ঘ একযুগের বেশি সময় ধরে বন্ধ উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি সাংস্কৃতিচর্চা বিলুপ্তির পথে

আপডেটের সময়: ০৭:৪৮:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

নাজমুল হুদা নয়ন, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুর দীর্ঘ একযুগের বেশি সময় ধরে বন্ধ আছে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি। যেখানে একসময় নাটক, গান, আবৃত্তি ও নৃত্যচর্চার প্রাণকেন্দ্র ছিল, সেই স্থানটি এখন উপজেলা অফিসের স্টোর রুমে পরিনত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির ভবন না থাকায় কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও উপজেলার সাবেক নির্বাহী অফিসার আশিক খান পুরাতন হলরুমটি বরাদ্দ দিলেও তা স্টোর রুম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশাসনিক অবহেলা, জবাবদিহিতার অভাব এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয় সংস্কৃতি অঙ্গন আজ চরম সংকটে। দীর্ঘ এক যুগের স্থবিরতায় শেরপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গন কার্যত ‘মৃত’। এখানে শতাধিক শিল্পী, সংগীতশিল্পী, নাট্যকর্মী ও আবৃত্তিকার থাকলেও তাদের চর্চার কোনো সুযোগ নেই। লালন চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্র ভবের হাটের সভাপতি মোজাফফর আলী আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের শিশুরা পিছিয়ে গেছে। গত ১২ বছর এখানে সাংস্কৃতি চর্চা নেই। একাডেমি শুধু নামেই আছে, বাস্তবে মৃত।” বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে শিল্পকলার কমিটি গঠন করা কে কেন্দ্র করে একেক পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় পরবর্তিতে আর কমিটি করা হয়নি। সাবেক নির্বাহী অফিসার আশিক খান চলে যাওয়ার পূর্বমূহুর্তে উপজেলার অফিসারদের নিয়ে একটি কমিটি ঘোষনা দিলেও সেই কমিটির কোন কার্যক্রম এখন পর্যন্ত চোখে পরেনি।

আরও পড়ুনঃ  আজকের জনবাণীতে সংবাদ প্রকাশের পর ৩ শিক্ষিকাকে শোকজ

 

নৃতাঞ্জলী আর্টস একাডেমির পরিচালক কে এম কামরুল হাসান পাশা জানান, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি শুরুর পর থেকে দু-এক বছর কার্যক্রম চলমান ছিল কিন্তু তার পর থেকে আজ পর্যন্ত এর কোন কার্যক্রম নেই। পাশ্ববর্তী ধুনট উপজেলায় এর কার্যক্রম থাকলেও আমাদের এখানে নেই। ফলে স্থানীয় সংস্কৃতিক কর্মীরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন , প্রতি বছর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে বাজেট এলেও, সেই অর্থের কোনো স্বচ্ছ ব্যবহার হয় না। তৎকালীন ইউএনও আশিক খানের মাধ্যমে শেরপুর শিল্পকলা একাডেমির তথাকথিত “পকেট কমিটি”র সূচনা হয়। সেই থেকে আজও একাডেমির উন্নয়ন তহবিল সংস্কৃতি চর্চায় কাজে আসেনি। প্রকৃত সংস্কৃতিকর্মীদের বাদ দিয়ে উপজেলার অফিসারদের নিয়ে কমিটি গঠন করার কারনে এই একাডেমির কোন কার্যক্রম নেই বলে মনে করছেন উপজেলার সাংস্কৃতিক কর্মীরা।

আরও পড়ুনঃ  নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা 

 

চারটি হারমনিয়াম তিন সেট ডুগি তবলা একটি কীবোর্ড একটি গীটার সহ পর্যাপ্ত সরঞ্জামঅাদী রয়েছে। বিগত সময় এটার কার্যক্রম করা যায়নি তবে বর্তমানে নতুন ভাবে শিল্পকলার কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানান উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা।  এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি সভাপতি মো: সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, এই উপজেলাতে সবেমাত্র এসেছি। শিল্পকলার বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিতে পারিনি তবে এক তরফা কমিটি করার সুযোগ নেই। সকল সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিবর্গের উপস্থিতিতেই শিল্পকলার কার্যক্রম চালু করা হবে। একাডেমি নতুন করে সাজিয়ে সামনে পহেলা বৈশাখ থেকে কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুনঃ  আফমি প্লাজা ঈদ বিক্রয় উৎসব, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা সম্পন্ন