
মোঃ রাসেল বিষেশ প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলায় জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল (JTI) সহ কয়েকটি তামাক কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে আজ বুধবার ২২/০৪/২০২৬ বিক্ষোভ করেছেন কয়েক হাজার তামাক চাষি। শুরুতে নানা প্রলোভন দেখিয়ে তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করলেও এখন তামাক সংগ্রহে কোম্পানিগুলোর অনীহা ও টালবাহানায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পাহাড়ের কৃষকরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আলীকদম ও লামার বিভিন্ন তামাক ক্রয় কেন্দ্রে শত শত চাষি তাদের উৎপাদিত তামাক নিয়ে ভিড় করছেন। কিন্তু কোম্পানিগুলো নানা অজুহাতে তামাক কেনা বন্ধ রেখেছে। কৃষকদের অভিযোগ, মৌসুমে শুরুতে সার, বীজ ও নগদ ঋণের প্রলোভন দিয়ে তাদের ধান ও অন্যান্য খাদ্যশস্যের বদলে তামাক চাষে বাধ্য করা হয়েছিল। এখন ফসল ঘরে তোলার পর কোম্পানিগুলো গ্রেড জালিয়াতি ও ওজনে কম দেওয়ার পাঁয়তারা করছে।
বিক্ষুব্ধ কৃষকরা জানান, কোম্পানিগুলো আগে থেকে কার্ডধারী চাষিদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ তামাক কেনার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন তারা মাত্র ১০-১২ বেলের বেশি তামাক নিতে চাচ্ছে না। এর ফলে কৃষকদের ঘরে বিপুল পরিমাণ তামাক অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে। অনেক কৃষক ব্যাংক ও চড়া সুদে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তামাক চাষ করেছিলেন। এখন তামাক বিক্রি করতে না পেরে তারা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছেন।
বিক্ষোভের খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী উর্বর জমিতে খাদ্যশস্যের বদলে তামাক চাষ করায় দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য সংকট ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জাপান টোব্যাকোর স্থানীয় প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ক্রয় কেন্দ্রের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা জানান, তামাকের গুণমান ঠিক না থাকায় কিছু ক্ষেত্রে ক্রয় ধীরগতিতে চলছে।
ভুক্তভোগী চাষিরা অবিলম্বে তামাকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং কোম্পানির প্রতারণা বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
প্রতিবেদকের নাম 



















