
মোহাম্মদ ইয়াসিন,সাভার:
সাভারের আমিনবাজারে এসআই আলতাব হোসেন হত্যা মামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে এবং ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে নাম আসা মোঃ নাহিদ হোসেন (২৫)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার(১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে এসআই আলতাব হত্যাকাণ্ডে জড়িত নাহিদ হোসেনের গ্রেপ্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম। গ্রেফতারকৃত নহিদ হোসেন ঢাকা জেলা সাভার থানাধীন বড়দেশী পশ্চিমপাড়া গ্রামের দুলালের ছেলে। প্রযুক্তি সহায়তায় নাহুদকে শেরপুর জেলার নকলা থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাহিদ এই হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১০ নম্বর আসামি লালনের ছোট ভাই।
এদিকে বড়দেশী পশ্চিমপাড়ায় নাহিদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সরবরাহ ও পৌঁছে দেওয়ার কাজে তারা জড়িত। এছাড়া গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে নিহতের পরিবার সাক্ষাৎ করতে এলে এসআই (নিরস্ত্র) মো. আলতাফ হোসেনের হত্যাকান্ডে জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারকে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের সর্বাত্মক আশ্বাস প্রদান করেন।
মন্ত্রী জানান, নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সার্বিক কল্যাণে এরই মধ্যে পুলিশ অধিদপ্তরের কল্যাণ তহবিল থেকে ৬ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিহতের পারিবারিক ব্যবসা সচল রাখার সুবিধার্থে ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’ থেকে প্রয়োজনীয় ঋণসহ সার্বিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মজীবনে আলতাফ হোসেনের নৈতিকতা ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে মরণোত্তর ‘পুলিশ পদক (পিপিএম)’ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি। মন্ত্রী এ সময় নিহতের স্ত্রী শিউলী পারভীনের হাতে অনুদানের টাকা তুলে দেন। উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী পশ্চিমপাড়ায় একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে সৃষ্ট তর্ক-বিতর্ক মেটাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে পড়েন এসআই আলতাফ হোসেন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি তার বড় ছেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিলে রাত ৮টা ১০ মিনিটে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে সেখানে বর্বর হামলা চালায়। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে তার ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
আলতাফ হোসেন ১৯৮৬ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে কনস্টেবল পদে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। দীর্ঘ ৪০ বছরের কর্মজীবনে তিনি ডিএমপি, রাঙ্গামাটি, আরআরএফ রাজশাহী, আরএমপি ও বরিশাল জেলায় অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সাল থেকে মৃত্যু অবধি তিনি স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), ঢাকায় কর্মরত ছিলেন।
প্রতিবেদকের নাম 



















