
মোঃ মিজানুর রহমান, রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে গাবতল ব্রিজের নিচে পুরোনো ব্রিজের ধ্বংসাবশেষ, মাটি ও আবর্জনা জমে ঘাগড়া খালের পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে বর্ষা ও পাহাড়ি ঢলের সময় পানির চাপ বেড়ে ব্রিজের দক্ষিণ পাশের গাইড ওয়াল ও সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ব্রিজের দক্ষিণ অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।
গাবতল টু মরিয়মনগর চৌমুহনী ডিসি সড়কের ওপর নির্মিত এ ব্রিজটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের নিচে ইট, পাথর, মাটি ও নানা ধরনের বর্জ্য জমে খালের পানি চলাচলের জায়গা অনেকটাই সংকুচিত হয়ে গেছে। ফলে অতিবৃষ্টি কিংবা পাহাড়ি ঢলের পানি স্বাভাবিক গতিতে নামতে না পেরে ব্রিজের দক্ষিণ দিকে প্রবল চাপ সৃষ্টি করছে।
সরেজমিনে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার, দেখা যায় এরই মধ্যে গাইড ওয়ালের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভেঙে পড়েছে। পাশাপাশি ব্রিজসংলগ্ন জমিতেও ভাঙন তীব্র হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে আগামী পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
ব্রিজের দক্ষিণ পাশের জমির মালিক মুহাম্মদ নজরু ইসলাম তালুকদার জানান, পুরোনো ব্রিজের বিভিন্ন অংশের ইট-পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ অপসারণ না করায় খালের পানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পানির স্রোতের কারণে গাইড ওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি গত প্রায় সাত বছরে তার দলিলভুক্ত প্রায় ৫০ শতক জমি ভাঙনের কবলে পড়েছে।
তিনি বলেন, একসময় ব্রিজের পশ্চিম পাশ দিয়ে মাস্টার বাড়ি এলাকার মানুষের চলাচলের একটি সড়ক ছিল। খালের ভাঙনে সড়কটি বিলীন হয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় প্রায় দেড় হাজার মানুষের যাতায়াতের কথা বিবেচনা করে তিনি নিজ জমি থেকে প্রায় ৪ শতক জায়গা রাস্তার জন্য দেন।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই জমির ওপর নির্মিত সড়কটি বর্তমানে প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত করা হয়েছে। ডাবল ব্রিকস দিয়ে সড়কটির উন্নয়নকাজে রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর সহযোগিতা ছিল বলেও জানান তারা। এতে এলাকার মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কিছুটা কমলেও খালের ভাঙনের কারণে এখন সড়কটির নিরাপত্তা নিয়েও নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গাবতল ব্রিজের নিচে জমে থাকা ইট-পাথর, মাটি ও আবর্জনা দ্রুত সরিয়ে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ব্রিজের দক্ষিণ পাশে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় দ্রুত ব্লক স্থাপন করা না হলে ব্রিজ, সড়ক, কৃষিজমি ও আশপাশের বসতবাড়ি ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
এ পরিস্থিতিতে পুরোনো ব্রিজের ধ্বংসাবশেষ ও ময়লা অপসারণ, খালের নাব্যতা ও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা এবং ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধক ব্লক স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তারা রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্থানীয়দের মতে, সময়মতো সংস্কার ও প্রতিরোধমূলক কাজ করা গেলে গাবতল ব্রিজ, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, কৃষিজমি ও বসতবাড়িকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। অন্যথায় বর্ষা ও পাহাড়ি ঢলের সময় ভাঙন আরও ভয়াবহ হয়ে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















