Dhaka ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
জয়পুরহাটে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল সমিতিরহাটের প্রবাসীর ঘরে সন্ত্রাসী হামলা: ভাংচুর-লুটপাট জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান মখলেছুর রহমান কামরুলকে জামায়াতের সংবর্ধনা কাউনিয়ায় বৃক্ষরোপণ প্রনোদনার চারা, জৈব সার ও বাঁশের খুটি বিতরণ যারা সরকারে আসে তারা ছেলের-নাতির নামে রাস্তা তৈরি করে: নাছির উদ্দীন পাটোয়ারী নলছিটিতে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত শ্রেষ্ঠ ইউএনও থেকে শ্রেষ্ঠ প্রশাসক: জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদকে সম্মানিত ঢাকার এডিসি ফারজানা রহমান কুলাউড়ায় মনু নদীর বিভিন্ন স্থানে বাঁধে ধস, আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ‘সবুজ বিদ্যালয়’ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির প্রাথমিক শিক্ষা পদক শুভ উদ্বোধন।

শ্রেষ্ঠ ইউএনও থেকে শ্রেষ্ঠ প্রশাসক: জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদকে সম্মানিত ঢাকার এডিসি ফারজানা রহমান

কাজী আন্নিল তানভীর, স্টাফ রিপোর্টার 

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এ বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সোনারগাঁ উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বর্তমানে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফারজানা রহমান। বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সোনারগাঁ উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসেবা, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এ সম্মাননা অর্জন করেন। দায়িত্ব পালনকালে ফারজানা রহমান উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে একটি সমন্বিত উন্নয়ন কাঠামোর আওতায় আনেন। তাঁর উদ্যোগে ১১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল কার্যক্রম চালু করা হয়। একই সঙ্গে ১৫টি বিদ্যালয়ে ওয়েবসাইট চালু করে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল করা হয় এবং ৪৫ জন শিক্ষার্থীকে মৌলিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে অনুশীলনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে ল্যাপটপও সরবরাহ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  ২০ বছর পর আমিনবাজার-হেমায়েতপুর সড়ক দুর্গন্ধমুক্ত ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, যুক্তিবোধ ও নেতৃত্বের বিকাশে আন্তঃপ্রাথমিক বিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এছাড়া প্রথম শ্রেণির প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্ড চালু করা হয়, যার মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অগ্রাধিকারভিত্তিক চিকিৎসা এবং কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। বিদ্যালয়ভিত্তিক বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাল্যবিবাহ, মাদকবিরোধী সচেতনতা, ভূমিসেবা এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। কুইজ, সেমিনার ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে অংশগ্রহণমূলক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা হয়। শিক্ষার্থীদের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যেন পড়াশোনা ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যে শতভাগ স্কুল ইউনিফর্ম নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় ইউনিফর্ম, জুতা, ব্যাগ, খাতা ও কলম বিতরণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ডাস্টবিন সরবরাহ, ফুল ও ফলজ গাছ রোপণ এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ‘সবুজ বিদ্যালয়’ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

এ ছাড়া অভিভাবকদের জন্য বিদ্যালয়ে ‘অভিভাবক ছায়াতল’ নির্মাণ, নিয়মিত ক্লাস্টারভিত্তিক বিদ্যালয় পরিদর্শন, মাঠ ভরাট, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, গাইড ওয়াল ও প্যালাসাইডিংসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম তাঁর নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হয়। খেলাধুলার প্রসারে বিদ্যালয়গুলোতে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ এবং ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য জার্সিও প্রদান করা হয়। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ফারজানা রহমানের উদ্ভাবনী ও জনমুখী প্রশাসনিক উদ্যোগ প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি কার্যকর মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে এই স্বীকৃতি তাঁর কর্মদক্ষতা ও শিক্ষাবান্ধব নেতৃত্বেরই প্রতিফলন।

আরও পড়ুনঃ  শিক্ষামন্ত্রীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

জয়পুরহাটে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল

শ্রেষ্ঠ ইউএনও থেকে শ্রেষ্ঠ প্রশাসক: জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদকে সম্মানিত ঢাকার এডিসি ফারজানা রহমান

আপডেটের সময়: ০৭:১৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

কাজী আন্নিল তানভীর, স্টাফ রিপোর্টার 

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এ বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সোনারগাঁ উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বর্তমানে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফারজানা রহমান। বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সোনারগাঁ উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসেবা, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এ সম্মাননা অর্জন করেন। দায়িত্ব পালনকালে ফারজানা রহমান উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে একটি সমন্বিত উন্নয়ন কাঠামোর আওতায় আনেন। তাঁর উদ্যোগে ১১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল কার্যক্রম চালু করা হয়। একই সঙ্গে ১৫টি বিদ্যালয়ে ওয়েবসাইট চালু করে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল করা হয় এবং ৪৫ জন শিক্ষার্থীকে মৌলিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে অনুশীলনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে ল্যাপটপও সরবরাহ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  ৭৯ হাজার শিক্ষার্থী পেল প্রাথমিক বৃত্তি, ট্যালেন্টপুল ৩২ হাজার ৯৬৫

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, যুক্তিবোধ ও নেতৃত্বের বিকাশে আন্তঃপ্রাথমিক বিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এছাড়া প্রথম শ্রেণির প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্ড চালু করা হয়, যার মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অগ্রাধিকারভিত্তিক চিকিৎসা এবং কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। বিদ্যালয়ভিত্তিক বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাল্যবিবাহ, মাদকবিরোধী সচেতনতা, ভূমিসেবা এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। কুইজ, সেমিনার ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে অংশগ্রহণমূলক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা হয়। শিক্ষার্থীদের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যেন পড়াশোনা ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যে শতভাগ স্কুল ইউনিফর্ম নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় ইউনিফর্ম, জুতা, ব্যাগ, খাতা ও কলম বিতরণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ডাস্টবিন সরবরাহ, ফুল ও ফলজ গাছ রোপণ এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  শিক্ষামন্ত্রীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

এ ছাড়া অভিভাবকদের জন্য বিদ্যালয়ে ‘অভিভাবক ছায়াতল’ নির্মাণ, নিয়মিত ক্লাস্টারভিত্তিক বিদ্যালয় পরিদর্শন, মাঠ ভরাট, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, গাইড ওয়াল ও প্যালাসাইডিংসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম তাঁর নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হয়। খেলাধুলার প্রসারে বিদ্যালয়গুলোতে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ এবং ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য জার্সিও প্রদান করা হয়। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ফারজানা রহমানের উদ্ভাবনী ও জনমুখী প্রশাসনিক উদ্যোগ প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি কার্যকর মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে এই স্বীকৃতি তাঁর কর্মদক্ষতা ও শিক্ষাবান্ধব নেতৃত্বেরই প্রতিফলন।

আরও পড়ুনঃ  মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি নির্দেশনা