Dhaka ০৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
প্রকৌশলী শোয়েব বাশরি হাবলুকে ঢাকাস্থ বাউফল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ফুলেল শুভেচ্ছা বিশ্বকাপ ফুটবল কে স্বাগত জানিয়ে পতেঙ্গায় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত শহীদ জিয়ার প্রথম সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন কাউনিয়া ৩ মন্ত্রী পরিদর্শনে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবেই: পানি সম্পদ মন্ত্রী  মোংলায় ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল ও মটর শোভাযাত্রা সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে দিনাজপুরে মানববন্ধন বিচারের দাবি মাগুরা ডা. লুৎফর রহমান ডায়াবেটিক হাসপাতালে সিসি ক্যামেরা নেটওয়ার্ক উদ্বোধন চন্দ্রগঞ্জ পূর্ব বাজারে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে গণমিছিল দেবীদ্বারে ৬৩ পরিবার নিয়ে মাদক বিরোধী সভা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার মাধবপুরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

আলোচনা স্থগিত স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথে শুরুতেই হোঁচট

আন্তর্জাতিক ডেক্সঃ মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের একদিন পরেই বড় বাধার মুখে পড়েছে শান্তি প্রক্রিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির কারিগরি শর্তাবলি নিয়ে সুইজারল্যান্ডে যে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সবচেয়ে সহিংস সংঘর্ষের ঘটনায় এ আলোচনা স্থগিত হলো। আজ শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, বুর্গেনস্টক রিসোর্টে হতে যাওয়া নির্ধারিত ওই আলোচনা আপাতত হচ্ছে না। এই স্থগিতের ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি হয়ত শুরুতেই ভেস্তে যেতে পারে।

আলোচনা স্থগিতের নেপথ্যে লেবানন সংকট
বুধবার (১৭ জুন) ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরান সরকারের মধ্যে ১৪ দফার যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছিল। তবে এই শান্তি প্রক্রিয়ার বাইরে থাকা ইসরায়েল শুরু থেকেই চুক্তিটি থেকে দূরত্ব বজায় রেখে আসছিল। জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দিনভর বিক্ষিপ্ত হামলার পর গভীর রাতে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ শহরের কাছে হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়। হিজবুল্লাহর দাবি, তারা নাবাতিহের আশেপাশের পাহাড়ের দিকে অগ্রসরমান ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালায়। জবাবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননজুড়ে ইতিহাসের অন্যতম তীব্র বিমান ও বোমাবর্ষণ শুরু করে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি এই বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত ও ৩৩ জন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, এই সংঘর্ষে তারা তিনটি ইসরায়েলি ট্যাংক ধ্বংস করেছে। লেবাননের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে তেহরান সুইজারল্যান্ডে আলোচনার জন্য তাদের প্রতিনিধি দল পাঠানো স্থগিত করে। ইরান শুরু থেকেই জোর দিয়ে আসছে যে, যেকোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রধান শর্ত হলো– লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ করা ও দখল করা অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করা। হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ‘আল-মায়েদিন’ নিশ্চিত করেছে, ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদেই তেহরান এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়াশিংটনে কূটনৈতিক টানাপড়েন ও ভ্যান্সের সফর বাতিল সুইজারল্যান্ডে হতে যাওয়া আলোচনাটি এতটাই আকস্মিকভাবে বাতিল করা হয় যে, ওই সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কর্মী ও কিছু সাংবাদিক ওয়াশিংটনের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে যাত্রার অপেক্ষায় জড়ো হয়েছিলেন। অন্যদিকে, ডজন ডজন হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা ও অন্য দলগুলো ততক্ষণে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছে গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সফর বাতিলের ঘোষণা দিয়ে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেন, ‘এই আলোচনার লজিস্টিকস বা পরিকল্পনা কখনোই সহজ বা অনুমানযোগ্য ছিল না। আপাতত ভাইস প্রেসিডেন্ট আজ রাতে আর রওনা দিচ্ছেন না। তবে তারা উল্লেখ করেছেন যে, মার্কিন প্রশাসন যত দ্রুত সম্ভব এই আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্রও জানিয়েছেন যে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও তার সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক পুলিশ

 

চুক্তির শর্ত ও দুই দেশের কঠোর অবস্থান
বাস্তবায়নের শুরুতেই হোঁচট খাওয়া এই চুক্তিতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছিল। চুক্তির উল্লেখযোগ্য শর্তগুলোর মধ্যে ছিল– হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা; ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এমন নিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া; ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ ও সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া; ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠন করা। ইতোমধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। তবে কূটনৈতিক মহলে এ চুক্তি নিয়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্পের রিপাবলিকান মিত্রদের অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন যে, ট্রাম্প নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অজনপ্রিয় এই যুদ্ধ থামাতে ইরানকে অনেক বেশি ছাড় দিয়ে ফেলেছেন কি না। অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কিছু দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও এ চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন। তবে তিনি মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প ‘মরিয়া হয়ে’ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমেরিকার পক্ষ যদি খুব বেশি দাবি করতে চায়, তবে আমরা তা মেনে নেব না। একই সুর শোনা গেছে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, যেকোনো আলোচনাই তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ বা কঠোর সীমার মধ্যে থাকবে। যদি কোনো চুক্তি লঙ্ঘন বা অপর পক্ষের বাড়াবাড়ি হয়, তবে শত্রুদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে। আমাদের আঙুল এখনো ট্রিগারেই আছে।

ইসরায়েলের অনড় অবস্থান ও বৈশ্বিক উদ্বেগ
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সব ফ্রন্টে পূর্ণ যুদ্ধবিরতির আশা প্রকাশ করলেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রয়োজন যতদিন থাকবে,’ ততদিন তাদের সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননে ঘোষিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ অবস্থান করবে এবং কোনো সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। ইসরায়েলের এমন অবস্থানে ট্রাম্প ও ভ্যান্স দুজনেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। জেডি ভ্যান্স মন্তব্য করেছেন যে, বৈরুতের মতো জনবহুল এলাকায় ইসরায়েলের এমন বোমাবর্ষণ ও বেসামরিক নাগরিক হত্যা ‘কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ও মধ্যপ্রাচ্যের এই চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে প্রায় ৭,০০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ও জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে বিশ্ববাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এই কূটনৈতিক ও সামরিক অচলাবস্থা নিরসনে এবং চুক্তিটিকে ভেস্তে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো আগামী রোববার মিসরের আলামিন শহরে একটি জরুরি বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে কাজ করবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

 

ট্রাম্পের যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণ হয়নি
যুদ্ধের শুরুর দিকে মার্চ মাসে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছাড়া এই যুদ্ধ শেষ করবেন না তিনি। কিন্তু ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি এর ঠিক বিপরীত। প্রায় চার মাস আগে যুদ্ধের শুরুর দিকে ট্রাম্প বলেছিলেন, তার লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা, যাতে তারা কখনোই এমন অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। তিনি এমন একটি পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেছিলেন যাতে তেহরানের আর প্রতিবেশীদের আক্রমণ করার ক্ষমতা না থাকে, তারা যেন ওই অঞ্চলে ইসরায়েলবিরোধী যোদ্ধাদের সমর্থন না দিতে পারে এবং ইরানিরা যাতে তাদের ধর্মভিত্তিক সরকার হটাতে পারে। বুধবার ট্রাম্প যখন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, তখন তার কোনো লক্ষ্যই পূরণ হয়নি। চুক্তিতে ইরান পুনরায় তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না। অবশ্য বিভিন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট অতীতে এই দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ইরান তাদের উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমাতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির সদস্য হিসেবে তারা আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার পরিদর্শনের সুযোগ দিতে রাজি হয়েছে। তবে দেশ থেকে ইউরেনিয়ামের সরিয়ে ফেলার ট্রাম্পের ইচ্ছা ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে।

আরও পড়ুনঃ  দৈনিক “আজকের জনবাণী” পত্রিকার বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি সৌজন্য কপি হস্তান্তর

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, আলোচনার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে একটি শক্তিশালী চুক্তি অর্জন করা এখনো সম্ভব। তাদের লক্ষ্য ২০১৫ সালের ইরান ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের মধ্যকার চুক্তিটির চেয়ে উন্নত কিছু করা, যা ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। তবে সমালোচকরা বলছেন, ইরান এখন আরও শক্তিশালী অবস্থানে আছে। কারণ তারা পরাশক্তির আক্রমণ সহ্য করেছে, হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রদর্শন করেছে এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মূল্যবান ছাড় আদায় করে নিয়েছে। ইরান বলেছে, তারা তাদের প্রতিবেশী ওমানকে সঙ্গে নিয়ে হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। তারা এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে সার্ভিস চার্জ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা যুদ্ধের আগে ছিল না। তবে এই ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালীন তারা তা করবে না। এদিকে, শুক্রবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে, কারণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পুনরায় ট্যাঙ্কার চলাচল শুরু হওয়ায় সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে হতো।

দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে সংশয়
লেবাননে যুদ্ধের কারণে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, সেখানে শুক্রবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে। ইসরায়েল বলেছে, এসব হামলা হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুকে কেন্দ্র করেই চালানো হয়েছে। এ ঘটনা ট্রাম্প তার যুদ্ধকালীন মিত্রকে (ইসরায়েল) আক্রমণ বন্ধ করতে কতটা বাধ্য করতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় তৈরি করেছে। ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি এই যুদ্ধ বন্ধ করবেন। চুক্তিটিতে লেবাননে যুদ্ধের ‘স্থায়ী অবসানের’ আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা করছে না, বরং তারা নতুন মানচিত্রে একটি বর্ধিত দখল করা অঞ্চল দেখাচ্ছে। সবমিলিয়ে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাত যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের সম্ভাবনাকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। চুক্তি কার্যকর করা ও যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার বিষয়ে সব পক্ষই এখন এক ধরনের ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে, যা দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের সংশয় সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা, রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

প্রকৌশলী শোয়েব বাশরি হাবলুকে ঢাকাস্থ বাউফল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ফুলেল শুভেচ্ছা

আলোচনা স্থগিত স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথে শুরুতেই হোঁচট

আপডেটের সময়: ০৬:৩৭:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেক্সঃ মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের একদিন পরেই বড় বাধার মুখে পড়েছে শান্তি প্রক্রিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির কারিগরি শর্তাবলি নিয়ে সুইজারল্যান্ডে যে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সবচেয়ে সহিংস সংঘর্ষের ঘটনায় এ আলোচনা স্থগিত হলো। আজ শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, বুর্গেনস্টক রিসোর্টে হতে যাওয়া নির্ধারিত ওই আলোচনা আপাতত হচ্ছে না। এই স্থগিতের ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি হয়ত শুরুতেই ভেস্তে যেতে পারে।

আলোচনা স্থগিতের নেপথ্যে লেবানন সংকট
বুধবার (১৭ জুন) ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরান সরকারের মধ্যে ১৪ দফার যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছিল। তবে এই শান্তি প্রক্রিয়ার বাইরে থাকা ইসরায়েল শুরু থেকেই চুক্তিটি থেকে দূরত্ব বজায় রেখে আসছিল। জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দিনভর বিক্ষিপ্ত হামলার পর গভীর রাতে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ শহরের কাছে হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়। হিজবুল্লাহর দাবি, তারা নাবাতিহের আশেপাশের পাহাড়ের দিকে অগ্রসরমান ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালায়। জবাবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননজুড়ে ইতিহাসের অন্যতম তীব্র বিমান ও বোমাবর্ষণ শুরু করে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি এই বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত ও ৩৩ জন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, এই সংঘর্ষে তারা তিনটি ইসরায়েলি ট্যাংক ধ্বংস করেছে। লেবাননের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে তেহরান সুইজারল্যান্ডে আলোচনার জন্য তাদের প্রতিনিধি দল পাঠানো স্থগিত করে। ইরান শুরু থেকেই জোর দিয়ে আসছে যে, যেকোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রধান শর্ত হলো– লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ করা ও দখল করা অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করা। হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ‘আল-মায়েদিন’ নিশ্চিত করেছে, ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদেই তেহরান এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়াশিংটনে কূটনৈতিক টানাপড়েন ও ভ্যান্সের সফর বাতিল সুইজারল্যান্ডে হতে যাওয়া আলোচনাটি এতটাই আকস্মিকভাবে বাতিল করা হয় যে, ওই সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কর্মী ও কিছু সাংবাদিক ওয়াশিংটনের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে যাত্রার অপেক্ষায় জড়ো হয়েছিলেন। অন্যদিকে, ডজন ডজন হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা ও অন্য দলগুলো ততক্ষণে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছে গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সফর বাতিলের ঘোষণা দিয়ে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেন, ‘এই আলোচনার লজিস্টিকস বা পরিকল্পনা কখনোই সহজ বা অনুমানযোগ্য ছিল না। আপাতত ভাইস প্রেসিডেন্ট আজ রাতে আর রওনা দিচ্ছেন না। তবে তারা উল্লেখ করেছেন যে, মার্কিন প্রশাসন যত দ্রুত সম্ভব এই আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্রও জানিয়েছেন যে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও তার সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  সরকার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার চেষ্টা করছে: ডা. শফিকুর রহমান

 

চুক্তির শর্ত ও দুই দেশের কঠোর অবস্থান
বাস্তবায়নের শুরুতেই হোঁচট খাওয়া এই চুক্তিতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছিল। চুক্তির উল্লেখযোগ্য শর্তগুলোর মধ্যে ছিল– হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা; ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এমন নিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া; ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ ও সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া; ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠন করা। ইতোমধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। তবে কূটনৈতিক মহলে এ চুক্তি নিয়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্পের রিপাবলিকান মিত্রদের অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন যে, ট্রাম্প নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অজনপ্রিয় এই যুদ্ধ থামাতে ইরানকে অনেক বেশি ছাড় দিয়ে ফেলেছেন কি না। অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কিছু দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও এ চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন। তবে তিনি মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প ‘মরিয়া হয়ে’ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমেরিকার পক্ষ যদি খুব বেশি দাবি করতে চায়, তবে আমরা তা মেনে নেব না। একই সুর শোনা গেছে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, যেকোনো আলোচনাই তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ বা কঠোর সীমার মধ্যে থাকবে। যদি কোনো চুক্তি লঙ্ঘন বা অপর পক্ষের বাড়াবাড়ি হয়, তবে শত্রুদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে। আমাদের আঙুল এখনো ট্রিগারেই আছে।

ইসরায়েলের অনড় অবস্থান ও বৈশ্বিক উদ্বেগ
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সব ফ্রন্টে পূর্ণ যুদ্ধবিরতির আশা প্রকাশ করলেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রয়োজন যতদিন থাকবে,’ ততদিন তাদের সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননে ঘোষিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ অবস্থান করবে এবং কোনো সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। ইসরায়েলের এমন অবস্থানে ট্রাম্প ও ভ্যান্স দুজনেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। জেডি ভ্যান্স মন্তব্য করেছেন যে, বৈরুতের মতো জনবহুল এলাকায় ইসরায়েলের এমন বোমাবর্ষণ ও বেসামরিক নাগরিক হত্যা ‘কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ও মধ্যপ্রাচ্যের এই চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে প্রায় ৭,০০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ও জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে বিশ্ববাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এই কূটনৈতিক ও সামরিক অচলাবস্থা নিরসনে এবং চুক্তিটিকে ভেস্তে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো আগামী রোববার মিসরের আলামিন শহরে একটি জরুরি বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক পুলিশ

 

ট্রাম্পের যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণ হয়নি
যুদ্ধের শুরুর দিকে মার্চ মাসে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছাড়া এই যুদ্ধ শেষ করবেন না তিনি। কিন্তু ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি এর ঠিক বিপরীত। প্রায় চার মাস আগে যুদ্ধের শুরুর দিকে ট্রাম্প বলেছিলেন, তার লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা, যাতে তারা কখনোই এমন অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। তিনি এমন একটি পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেছিলেন যাতে তেহরানের আর প্রতিবেশীদের আক্রমণ করার ক্ষমতা না থাকে, তারা যেন ওই অঞ্চলে ইসরায়েলবিরোধী যোদ্ধাদের সমর্থন না দিতে পারে এবং ইরানিরা যাতে তাদের ধর্মভিত্তিক সরকার হটাতে পারে। বুধবার ট্রাম্প যখন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, তখন তার কোনো লক্ষ্যই পূরণ হয়নি। চুক্তিতে ইরান পুনরায় তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না। অবশ্য বিভিন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট অতীতে এই দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ইরান তাদের উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমাতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির সদস্য হিসেবে তারা আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার পরিদর্শনের সুযোগ দিতে রাজি হয়েছে। তবে দেশ থেকে ইউরেনিয়ামের সরিয়ে ফেলার ট্রাম্পের ইচ্ছা ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে।

আরও পড়ুনঃ  বদলগাছী থানার ওসি মো. রুহুল আমিনের হাতে আজকের জনবাণী” পত্রিকার সৌজন্য কপি প্রদান

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, আলোচনার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে একটি শক্তিশালী চুক্তি অর্জন করা এখনো সম্ভব। তাদের লক্ষ্য ২০১৫ সালের ইরান ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের মধ্যকার চুক্তিটির চেয়ে উন্নত কিছু করা, যা ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। তবে সমালোচকরা বলছেন, ইরান এখন আরও শক্তিশালী অবস্থানে আছে। কারণ তারা পরাশক্তির আক্রমণ সহ্য করেছে, হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রদর্শন করেছে এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মূল্যবান ছাড় আদায় করে নিয়েছে। ইরান বলেছে, তারা তাদের প্রতিবেশী ওমানকে সঙ্গে নিয়ে হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। তারা এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে সার্ভিস চার্জ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা যুদ্ধের আগে ছিল না। তবে এই ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালীন তারা তা করবে না। এদিকে, শুক্রবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে, কারণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পুনরায় ট্যাঙ্কার চলাচল শুরু হওয়ায় সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে হতো।

দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে সংশয়
লেবাননে যুদ্ধের কারণে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, সেখানে শুক্রবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে। ইসরায়েল বলেছে, এসব হামলা হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুকে কেন্দ্র করেই চালানো হয়েছে। এ ঘটনা ট্রাম্প তার যুদ্ধকালীন মিত্রকে (ইসরায়েল) আক্রমণ বন্ধ করতে কতটা বাধ্য করতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় তৈরি করেছে। ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি এই যুদ্ধ বন্ধ করবেন। চুক্তিটিতে লেবাননে যুদ্ধের ‘স্থায়ী অবসানের’ আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা করছে না, বরং তারা নতুন মানচিত্রে একটি বর্ধিত দখল করা অঞ্চল দেখাচ্ছে। সবমিলিয়ে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাত যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের সম্ভাবনাকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। চুক্তি কার্যকর করা ও যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার বিষয়ে সব পক্ষই এখন এক ধরনের ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে, যা দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের সংশয় সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা, রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান