Dhaka ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ” নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে দেবিদ্বারে জমি দখলকে কেন্দ্র করে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ও পিটিয়ে জখম, থানায় মামলা মাদক কারবারীদের আঁতুড়ঘর চকসুত্রাপুরের দুই বিয়াইন গ্রেফতার ১৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটক কেন্দুয়ায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সরকারি নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ জুলাই’২৪ গণঅভ্যুত্থান ক্রীড়া উৎসবের উদ্বোধন মাঠে গড়াল কাবাডি ও ভলিবল ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারতের পুশইন ঠেকাতে বিজিবির কড়া নজরদারী দিনাজপুরে বোরো মৌসুমে ধান কাটা শেষ, খরচ বাড়ায় বাজারে চালের দাম ঊর্ধ্বগতি হোসেনপুরে প্রীতির ম্যাজিক, চাকরি ছেড়ে পাল্টে দিলেন হতদরিদ্র শত নারীদের জীবনচিত্র ফটিকছড়িতে আয়বর্ধণ মূলক সবজি চাষ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন, পত্নীতলায় এক মাদক ব্যবসায়ী ১৪০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ আটক

হোসেনপুরে প্রীতির ম্যাজিক, চাকরি ছেড়ে পাল্টে দিলেন হতদরিদ্র শত নারীদের জীবনচিত্র

​নাজমুল ফয়েজ টুটুল, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: ​সরকারি চাকরির নিশ্চিত আরাম-আয়েশ আর বাঁধা গণ্ডি পেরিয়ে মাটি ও মানুষের টানে গ্রামে ফিরেছিলেন সামিয়া নাছরিন প্রীতি। লক্ষ্য ছিল একটাই—নিজে স্বাবলম্বী হওয়া এবং অবহেলিত গ্রামীণ নারীদের জন্য কিছু করা। তাঁর সেই সাহসী সিদ্ধান্তেই আজ বদলে গেছে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ধূলজুরী কমিউনিটি ক্লিনিক সংলগ্ন এলাকার শত শত হতদরিদ্র নারীর জীবন। প্রীতির হাতের ছোঁয়ায় গ্রামীণ নারীদের ভাগ্য এখন বোনা হচ্ছে সুই-সুতার ফোঁড়ে। ​২০২৪ সালে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ও একক প্রচেষ্টায় সামিয়া নাছরিন প্রীতি গড়ে তোলেন ‘নকশীকাঁথা মহিলা উন্নয়ন সংস্থা’। কেবল একটি সংস্থা নয়, সময়ের ব্যবধানে এর চারপাশে ডালপালা মেলেছে একাধিক স্বপ্নের ভিত। এই সংস্থার ব্যানারে এখন নকশীকাঁথা তৈরির পাশাপাশি সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে ‘উদ্যোমী মহিলা সমবায় সমিতি লিমিটেড’, পাট হস্তশিল্প, মাশরুম চাষ এবং মৎস্য খামার। আরামের চাকরি ছেড়েছি কারণ মাটির মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে চেয়েছি। মাত্র ১০ জন অসহায় নারী নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম, আজ আমার সাথে ১৪০ জন নারী যুক্ত আছেন। ঘরে বসেই হাতের কাজ শিখে আজ তারা স্বাবলম্বী হওয়ার পথে।

আরও পড়ুনঃ  সরিষাবাড়িতে বিদ্যুৎপৃষ্টে যুবকের মৃত্যু.

 

সামিয়া নাছরিন প্রীতি, প্রতিষ্ঠাতা ও স্বত্বাধিকারী। ​সরেজমিনে ধূলজুরী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি কাজেই জড়িয়ে আছে এলাকার নারীদের কর্মসংস্থানের গল্প। অবসরে ঘরে বসে অলস সময় পার করা নারীরা এখন নকশীকাঁথায় ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক হাল ধরছেন। ধূলজুরী কমিউনিটি ক্লিনিক সংলগ্ন এই প্রতিষ্ঠানটি এখন হোসেনপুর উপজেলায় নারী উদ্যোক্তা ও নারীর ক্ষমতায়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
​ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রীতি আপা বলেন, ইচ্ছে আছে আগামীতে এই কাজের পরিধি আরও বড় করার, যাতে এলাকার কোনো নারী নিজেকে অসহায় না ভাবেন। তবে শুধু নিজের চেষ্টায় এত বড় উদ্যোগ টিকিয়ে রাখা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা বেশ কঠিন। আমি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছি। সরকারি কোনো সংস্থা বা ব্যাংক যদি সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করে পাশে দাঁড়ায়, তবে হোসেনপুরের আরও শত শত নারীর মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব হবে।  নকশীকাঁথার প্রতিটি ফোঁড়ে যেমন জড়িয়ে আছে বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য, তেমনি লেগে আছে সামিয়া নাছরিন প্রীতির আত্মত্যাগ ও সাহসের গল্প। হোসেনপুরের মানুষ এখন প্রীতির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছে এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি তুলছে।

আরও পড়ুনঃ  ভূরুঙ্গামারী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক দোকান ভস্মীভূত
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ” নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে

হোসেনপুরে প্রীতির ম্যাজিক, চাকরি ছেড়ে পাল্টে দিলেন হতদরিদ্র শত নারীদের জীবনচিত্র

আপডেটের সময়: ০৮:৫৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

​নাজমুল ফয়েজ টুটুল, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: ​সরকারি চাকরির নিশ্চিত আরাম-আয়েশ আর বাঁধা গণ্ডি পেরিয়ে মাটি ও মানুষের টানে গ্রামে ফিরেছিলেন সামিয়া নাছরিন প্রীতি। লক্ষ্য ছিল একটাই—নিজে স্বাবলম্বী হওয়া এবং অবহেলিত গ্রামীণ নারীদের জন্য কিছু করা। তাঁর সেই সাহসী সিদ্ধান্তেই আজ বদলে গেছে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ধূলজুরী কমিউনিটি ক্লিনিক সংলগ্ন এলাকার শত শত হতদরিদ্র নারীর জীবন। প্রীতির হাতের ছোঁয়ায় গ্রামীণ নারীদের ভাগ্য এখন বোনা হচ্ছে সুই-সুতার ফোঁড়ে। ​২০২৪ সালে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ও একক প্রচেষ্টায় সামিয়া নাছরিন প্রীতি গড়ে তোলেন ‘নকশীকাঁথা মহিলা উন্নয়ন সংস্থা’। কেবল একটি সংস্থা নয়, সময়ের ব্যবধানে এর চারপাশে ডালপালা মেলেছে একাধিক স্বপ্নের ভিত। এই সংস্থার ব্যানারে এখন নকশীকাঁথা তৈরির পাশাপাশি সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে ‘উদ্যোমী মহিলা সমবায় সমিতি লিমিটেড’, পাট হস্তশিল্প, মাশরুম চাষ এবং মৎস্য খামার। আরামের চাকরি ছেড়েছি কারণ মাটির মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে চেয়েছি। মাত্র ১০ জন অসহায় নারী নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম, আজ আমার সাথে ১৪০ জন নারী যুক্ত আছেন। ঘরে বসেই হাতের কাজ শিখে আজ তারা স্বাবলম্বী হওয়ার পথে।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামে হদিস নেই ৩ লাখ ২৮ হাজার ৭৭২টি পশুর চামড়ার

 

সামিয়া নাছরিন প্রীতি, প্রতিষ্ঠাতা ও স্বত্বাধিকারী। ​সরেজমিনে ধূলজুরী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি কাজেই জড়িয়ে আছে এলাকার নারীদের কর্মসংস্থানের গল্প। অবসরে ঘরে বসে অলস সময় পার করা নারীরা এখন নকশীকাঁথায় ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক হাল ধরছেন। ধূলজুরী কমিউনিটি ক্লিনিক সংলগ্ন এই প্রতিষ্ঠানটি এখন হোসেনপুর উপজেলায় নারী উদ্যোক্তা ও নারীর ক্ষমতায়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
​ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রীতি আপা বলেন, ইচ্ছে আছে আগামীতে এই কাজের পরিধি আরও বড় করার, যাতে এলাকার কোনো নারী নিজেকে অসহায় না ভাবেন। তবে শুধু নিজের চেষ্টায় এত বড় উদ্যোগ টিকিয়ে রাখা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা বেশ কঠিন। আমি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছি। সরকারি কোনো সংস্থা বা ব্যাংক যদি সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করে পাশে দাঁড়ায়, তবে হোসেনপুরের আরও শত শত নারীর মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব হবে।  নকশীকাঁথার প্রতিটি ফোঁড়ে যেমন জড়িয়ে আছে বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য, তেমনি লেগে আছে সামিয়া নাছরিন প্রীতির আত্মত্যাগ ও সাহসের গল্প। হোসেনপুরের মানুষ এখন প্রীতির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছে এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি তুলছে।

আরও পড়ুনঃ  পতেঙ্গায় অবৈধ টমটমের দাপট ও লক্ষ টাকার টোকেন বাণিজ্য