
পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: ১০ই মহরম বা পবিত্র আশুরা ইসলামের ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই দিনেই ইমাম হোসাইন ইবনে আলী কারবালার প্রান্তরে সত্য, ন্যায় ও ইসলামের আদর্শ রক্ষার জন্য নিজের পরিবার ও সঙ্গিদের নিয়ে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং যুগে যুগে মানুষের ন্যায় ধৈর্য ও ঈমানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কারবালার সেই মর্মান্তিক দিনটি ৬১ হিজরী ১০ই মহোরমে বর্তমান কারবালা – এ ইমাম হোসাইন (রা.) ও তাঁর অল্প সংখ্যক সঙ্গী নিয়ে বিশাল বাহিনীর মুখোমুখি হন। তাঁরা অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করেন। কারবালার এই মর্মান্তিক ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে ত্যাগ সাহস ও ন্যায়পরণতা ভাবে সর্বোচ্চ প্রতীক হিসাবে বিবেচিত।
কারবালার থেকে আমাদের যে শিক্ষা দিয়ে থাকে তাহলো-
* সত্যের পথে অবিচল থাকা :-সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনের জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত থাকতে হবে।
* অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ :-অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয়, ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানই একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
* ধৈর্য ও আল্লাহর উপর ভরসা :-কঠিন পরীক্ষার মধ্যেও আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস অটুট রাখা।
* ত্যাগের মহিমা :-ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দ্বীন,ন্যায় ও মানবতা কল্যাণকে প্রধাণ্য দেওয়া।
* ঐক্য ও মানবিকতা ;-বিভেদ নয় পারস্পারিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
বর্তমান সমাজে কারবালার শিক্ষা দেয় আমাদের সততা, ন্যায়বিচার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান, মানবিক মূল্যবোধ এবং আল্লাহ ভীতির গুরুত্ব শরণ করিয়ে দেয়। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ —সব ক্ষেত্রেই সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার কারবালার আদর্শ অনুসরণ করা প্রয়োজন তাহলে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা মমতাবোধ ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে ইসলাম যা শান্তির ধর্ম সেটা বজায় থাকবে। ১০ই মহরম আমাদের শুধু শোকের বার্তা দেয় না, এটি সত্য, ন্যায়, ধৈর্য, ত্যাগ ও ঈমানের পথে অবিচল থাকার আহ্বান জানায়। কারবালার মহান আত্মত্যাগ মুসলিম উম্মাকে শিক্ষা দেয় যে, অন্যের কাছে মাতা নত না করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সত্যের পথে দৃঢ় থাকা একজন মুমিনের সর্বোচ্চ মর্যাদা হিসেবে বিবেচিত হয়। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে কারবালার শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে ন্যায় ও সত্যের পথে চলার তাওফিক দান করুন আমিন।
প্রতিবেদকের নাম 
























