Dhaka ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সালনা নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা কুলিয়ারচরে উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধনসহ কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম নাটোরের লালপুরে প্রস্তাবিত সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকা পরিদর্শনে চীনা প্রতিনিধি দল তথ্য নিতে এসে ওসির ধমক খেলেন সাংবাদিক, মধ্যস্থতাকারীদের দিয়ে ঘটনা ‘দফারফা’র অভিযোগ! নজিপুর পৌরসভা রুকন সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত কাউনিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদযাপন স্বর্ণগ্রাম-দাড়িদহে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, সেবা পেলেন সুবিধাবঞ্চিতরা ফ্যাসিস্টদের ফিরিয়ে এনে বিচার চায় জনগণ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উলিপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপি সালেহীর মতবিনিময় মিরপুরে ৫ কাঠা জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধ, বড় ভাইয়ের সংবাদ সম্মেলন

হু হু করে বাড়ছে গোমতীর পানি, বিপাকে কুমিল্লার চরাঞ্চলের কৃষকরা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৭:২৯:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ১০০ সময় দেখুন

জিএম মাকছুদুর রহমান, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি: ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে হু হু করে বাড়ছে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি। এর ফলে কুমিল্লার আদর্শ সদর, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার গোমতী নদীর চরাঞ্চলের নিচু এলাকাগুলোতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে চরের বেশ কিছু ফসলি জমি। এতে এনজিওর ঋণ ও জমানো পুঁজি বিনিয়োগ করে চাষ করা ফসল হারানোর চরম শঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। ​মাঠ পর্যায় থেকে জানা গেছে, আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর, ঝাকুনিপাড়া, টিক্কারচর, আমতলি, দুর্গাপুর, বাবু বাজার; বুড়িচং উপজেলার গোবিন্দপুর, বুড়বুড়িয়া এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মালাপাড়া ইউনিয়নের গোমতী তীরবর্তী চরাঞ্চলের নিচু জমিগুলো এখন পানির নিচে। নদীসংলগ্ন সবজি ক্ষেতগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় নষ্ট হচ্ছে কাঁচা মরিচ, ঢ্যাঁড়শ, বরবটিসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। ​পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগাম মৌসুমের এসব ফসল পুরোপুরি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য বড় লোকসান এড়াতে অনেক কৃষক তড়িঘড়ি করে মাঠ থেকে অপরিপক্ক সবজি তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে অনেক এলাকায় পানি বেশি উঠে যাওয়ায় ফসল তোলার মতো পরিস্থিতিও আর নেই। ​ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষোভ ও দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে জানান, আগাম সবজি চাষের জন্য তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক এই পানি বৃদ্ধিতে তাদের সেই বিনিয়োগ এখন সুদের ওপর মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  উলিপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপি সালেহীর মতবিনিময়

 

চরের অধিকাংশ ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হওয়ায় এখন কেবলই লোকসানের প্রহর গুনছেন তারা।​ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা কৃষি বিভাগ মাঠে থেকে কৃষকদের নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। আদর্শ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন এ বিষয়ে বলেন,​ উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে গোমতীর পানি বাড়ছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। মাঠকর্মীরা কৃষকদের পাশে আছেন। ​কৃষি কর্মকর্তা আরও যোগ করেন, “বর্তমানে খরিপ-১ মৌসুম চলমান থাকায় মাঠে সবজি জাতীয় ফসলের পরিমাণ তুলনামূলক কম। আশা করছি, পানি দ্রুত নেমে গেলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে না। তবে পানি যদি দীর্ঘমেয়াদি রূপ নেয়, তবে আগামী মৌসুমের বীজতলা তৈরি করতে কৃষকদের বেশ বেগ পেতে হবে। ​এদিকে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মূল নজর এখন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পূর্বাভাসের দিকে। কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও তা এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

আরও পড়ুনঃ  পানছড়িতে “ওয়াদুদ গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬” উদ্বোধন
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সালনা নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

হু হু করে বাড়ছে গোমতীর পানি, বিপাকে কুমিল্লার চরাঞ্চলের কৃষকরা

আপডেটের সময়: ০৭:২৯:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

জিএম মাকছুদুর রহমান, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি: ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে হু হু করে বাড়ছে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি। এর ফলে কুমিল্লার আদর্শ সদর, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার গোমতী নদীর চরাঞ্চলের নিচু এলাকাগুলোতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে চরের বেশ কিছু ফসলি জমি। এতে এনজিওর ঋণ ও জমানো পুঁজি বিনিয়োগ করে চাষ করা ফসল হারানোর চরম শঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। ​মাঠ পর্যায় থেকে জানা গেছে, আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর, ঝাকুনিপাড়া, টিক্কারচর, আমতলি, দুর্গাপুর, বাবু বাজার; বুড়িচং উপজেলার গোবিন্দপুর, বুড়বুড়িয়া এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মালাপাড়া ইউনিয়নের গোমতী তীরবর্তী চরাঞ্চলের নিচু জমিগুলো এখন পানির নিচে। নদীসংলগ্ন সবজি ক্ষেতগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় নষ্ট হচ্ছে কাঁচা মরিচ, ঢ্যাঁড়শ, বরবটিসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। ​পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগাম মৌসুমের এসব ফসল পুরোপুরি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য বড় লোকসান এড়াতে অনেক কৃষক তড়িঘড়ি করে মাঠ থেকে অপরিপক্ক সবজি তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে অনেক এলাকায় পানি বেশি উঠে যাওয়ায় ফসল তোলার মতো পরিস্থিতিও আর নেই। ​ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষোভ ও দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে জানান, আগাম সবজি চাষের জন্য তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক এই পানি বৃদ্ধিতে তাদের সেই বিনিয়োগ এখন সুদের ওপর মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরে যৌনপল্লীর এক তরুণী কে আটক রাখার দায় তানিয়া আক্তার কে ১০ বছরের ‌ কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত

 

চরের অধিকাংশ ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হওয়ায় এখন কেবলই লোকসানের প্রহর গুনছেন তারা।​ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা কৃষি বিভাগ মাঠে থেকে কৃষকদের নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। আদর্শ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন এ বিষয়ে বলেন,​ উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে গোমতীর পানি বাড়ছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। মাঠকর্মীরা কৃষকদের পাশে আছেন। ​কৃষি কর্মকর্তা আরও যোগ করেন, “বর্তমানে খরিপ-১ মৌসুম চলমান থাকায় মাঠে সবজি জাতীয় ফসলের পরিমাণ তুলনামূলক কম। আশা করছি, পানি দ্রুত নেমে গেলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে না। তবে পানি যদি দীর্ঘমেয়াদি রূপ নেয়, তবে আগামী মৌসুমের বীজতলা তৈরি করতে কৃষকদের বেশ বেগ পেতে হবে। ​এদিকে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মূল নজর এখন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পূর্বাভাসের দিকে। কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও তা এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

আরও পড়ুনঃ  কুলাউড়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও এম সাইফুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনা সভা