
মো. আব্দুল করিম গাজী,শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্যমুক্ত রাখতে পূর্ব সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে তিন দিনব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষ হয়েছে। ট্যুর অপারেটরস অব সুন্দরবন (টোয়াস)-এর উদ্যোগে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) শেষ হয়।
তিন দিনের এ কর্মসূচিতে পূর্ব সুন্দরবনের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কটকা, কচিখালী, আন্ধারমানিক ও করমজল এলাকায় পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন, প্যাকেটসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ করা হয়। টোয়াসের ৬৫ জন সদস্য এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। সোমবার কটকা পর্যটনকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এ জেড এম হাছানুর রহমান। এ সময় টোয়াসের সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম কচি সুন্দরবনের পরিবেশ সুরক্ষায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সুন্দরবন বিভাগের খুলনা সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা শামীম রেজা মিঠু, টোয়াসের সভাপতি মইনুল ইসলাম জামাদ্দার, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ জামাল পপনু, দপ্তর সম্পাদক শাহেদ মো. ইমরান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহেদ ইসলাম রকিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ডিএফও এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, “সুন্দরবনকে পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু বন বিভাগের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সুন্দরবন আমাদের সবার সম্পদ। টোয়াসের এ ধরনের উদ্যোগ পর্যটনকেন্দ্রগুলোর পরিবেশ সুরক্ষায় একটি ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, সাগর ও নদীর জোয়ারের পানির সঙ্গে ভেসে আসা এবং জেলে ও অন্যান্য নৌযান থেকে ফেলে দেওয়া বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য সুন্দরবনের নদী, খাল ও পর্যটন স্পটের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পর্যটকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
টোয়াসের সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম কচি বলেন, সুন্দরবনের সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার দায়িত্ব শুধু বন বিভাগের নয়; পর্যটক, ট্যুর অপারেটর, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এ কাজে এগিয়ে আসতে হবে।
তিন দিনের কর্মসূচিতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পড়ে থাকা বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত ব্যবস্থাপনার আওতায় নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, সুন্দরবনের পর্যটন স্পটগুলোতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে নিয়মিত ও আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে টোয়াসের। প্রতি বছর মে ও সেপ্টেম্বর মাসে দুই দফায় পূর্ব সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে এ ধরনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।টোয়াস সূত্রে জানা গেছে, করমজল ছাড়া পূর্ব সুন্দরবনের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্রে প্রতিবছর ৪৩ হাজারেরও বেশি দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করেন। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আনাগোনায় এসব এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সমাপনী দিনে সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তারা বলেন, তিন দিনের অভিযানে পর্যটন স্পটগুলো থেকে বড় আকারের ৯ বস্তা বর্জ্য সংগ্ৰহ করা হয়েছে। পর্যটক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এককালীন পরিচ্ছন্নতা অভিযান দিয়ে সুন্দরবনকে দীর্ঘমেয়াদে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। এজন্য নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, পর্যটকদের সচেতন করা, প্লাস্টিকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
টোয়াসের নেতৃবৃন্দ জানান, ভবিষ্যতে বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে। পাশাপাশি পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো এবং ‘সুন্দরবনে আসুন, সুন্দরবন পরিষ্কার রাখুন’ এমন দায়িত্বশীল পর্যটন সংস্কৃতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুন্দরবনের নান্দনিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য ও পর্যটন সম্ভাবনা ধরে রাখতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি পর্যটক ও নৌযান সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। তিন দিনের এ উদ্যোগ সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে।
প্রতিবেদকের নাম 























