Dhaka ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর আদেশ লোকসান ও সঙ্কটে বেসরকারি ব্যবস্থায় দেয়া হচ্ছে আরো অর্ধডজন ট্রেন যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণ কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়ায় স্কুল মাঠে কলাগাছ লাগালেন জমিদাতা ব্রাহ্মণবাজারে পুলিশের সফল অভিযানে ২৫ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক সিরাজগঞ্জ যমুনার চরাঞ্চলে এখনও চলে ঘোড়ার গাড়ি  দেশের সব প্রতিষ্ঠানই বিধ্বস্ত অবস্থায়: ডা. শফিকুর রহমান মাদারগঞ্জে ৬ পুরিয়া হেরোইনসহ মোশারফ গ্রেপ্তার, অতঃপর জেল-হাজতে প্রেরণ সড়ক দুর্ঘটনায় সেপ্টেম্বরে নিহত ৪২৩,বেশি মোটরসাইকেলে শাহজালালে ১৬ কোটি টাকার স্বর্ণসহ ২ বিমানকর্মী ধরা

সিরাজগঞ্জ যমুনার চরাঞ্চলে এখনও চলে ঘোড়ার গাড়ি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ আধুনিক প্রযুক্তির জয়রথে গ্রামবাংলার বহু ঐতিহ্যবাহী বাহন যখন কেবল ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে, তখনো যমুনার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে জীবন ও অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে প্রাচীন ঘোড়ার গাড়ি। বর্ষায় অথৈ পানির বুকে যেখানে রাজত্ব করে নৌকা, শুকনো মৌসুমে সেই জলরাশি সরে জেগে ওঠা ধু-ধু বালুচরে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায় এই পুরোনো বাহন। ভারী বালু ও দুর্গম উঁচু-নিচু চরের পথ পেরিয়ে যেখানে আধুনিক যান্ত্রিক যানবাহন পৌঁছাতে পুরোপুরি ব্যর্থ, সেখানে জীবিকার একমাত্র ভরসা হয়ে টগবগ শব্দে ছুটে চলেছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি। সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর, চৌহালী, শাহজাদপুর এবং সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে এই জীবন্ত দৃশ্য। শুকনো মৌসুমে যমুনার ছোট-বড় অসংখ্য চরের সঙ্গে শহর বা বাজারের সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে এই বাহন। শহর থেকে নৌকায় করে ঘাটে আনা চাল, ডাল, তেল, সারসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ঘোড়ার গাড়িতে তুলে মাইলের পর মাইল বালুময় পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছে দেওয়া হয় চরের প্রত্যন্ত ঘরে ও বাজারে।

আরও পড়ুনঃ  পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়ায় স্কুল মাঠে কলাগাছ লাগালেন জমিদাতা

 

চরের কৃষিজীবী মানুষের জীবন-জীবিকাও আবর্তিত হচ্ছে এই বাহনকে ঘিরে। মেছড়া গ্রামের হোসেন আলী ও নদীপারের মুদি ব্যবসায়ী শমশের আলী জানান, মাঠ থেকে সোনালি ফসল ঘরে তোলা হোক কিংবা হাটে পণ্য বিক্রি করা—সব ক্ষেত্রেই ঘোড়ার গাড়ি অপরিহার্য। শহরের দোকান থেকে মালামাল এনে চরের দোকানে সরবরাহ করতে এই বাহন ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই। আকনা দীঘি চরের কৃষক ফরিদ উদ্দিনের মতে, শহরে বসবাস করলেও প্রয়োজনে চরে এলে ঘোড়ার গাড়ির ওপরই নির্ভর করতে হয়; অন্যথায় মাথায় কিংবা কাঁধে করে ভারী বোঝা বয়ে মাইলের পর মাইল বালুচরে হাঁটা অসম্ভব। সত্তর বছর বয়সী চালক আনছার আলী বহু বছর ধরে এই গাড়ি চালিয়ে সংসার সামলাচ্ছেন। তেমনি এক যুগ ধরে ঘোড়ার গাড়ি চালাচ্ছেন চৌহালীর তেগুরি চরের আব্দুল আলিম। তিনি জানান, দিনে গড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। ঘোড়ার খাদ্য বাবদ দৈনিক ২০০ থেকে ২৫০ টাকা খরচ হলেও অবশিষ্ট আয়ে পরিবার-পরিজনের অন্নসংস্থান নির্বিঘ্নে হয়ে যায়। এ অঞ্চলের শত শত চালকের কাছে এটি নিছক কোনো বাহন নয়, পরিবারের রুটি-রুজির প্রধান উৎস।

আরও পড়ুনঃ  নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ‘ষড়যন্ত্রের’ বিরুদ্ধে গাজীপুরে বিএনপির সমাবেশ

 

চরাঞ্চলের যাতায়াত বাস্তবতা তুলে ধরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জামাত আলি মুন্সি বলেন, নদীপাড়ের বালুময় রাস্তাগুলোতে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য বিকল্পহীন একমাত্র যান হিসেবে ঘোড়ার গাড়ি আজও টিকে রয়েছে। আধুনিকতার জোয়ারে যখন গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা আমূল বদলে গেছে, তখন প্রতিকূল ভূপ্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে যমুনার চরের মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের অনন্য এক স্মারক হয়ে টিকে আছে এই পুরোনো বাহন।

আরও পড়ুনঃ  মোহনপুরের ধুরইলে পালশা দক্ষিণপাড়া রাস্তার কার্পেটিং কাজের শুভ উদ্বোধন

 

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর আদেশ

সিরাজগঞ্জ যমুনার চরাঞ্চলে এখনও চলে ঘোড়ার গাড়ি

আপডেটের সময়: ০২:৫৪:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ আধুনিক প্রযুক্তির জয়রথে গ্রামবাংলার বহু ঐতিহ্যবাহী বাহন যখন কেবল ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে, তখনো যমুনার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে জীবন ও অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে প্রাচীন ঘোড়ার গাড়ি। বর্ষায় অথৈ পানির বুকে যেখানে রাজত্ব করে নৌকা, শুকনো মৌসুমে সেই জলরাশি সরে জেগে ওঠা ধু-ধু বালুচরে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায় এই পুরোনো বাহন। ভারী বালু ও দুর্গম উঁচু-নিচু চরের পথ পেরিয়ে যেখানে আধুনিক যান্ত্রিক যানবাহন পৌঁছাতে পুরোপুরি ব্যর্থ, সেখানে জীবিকার একমাত্র ভরসা হয়ে টগবগ শব্দে ছুটে চলেছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি। সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর, চৌহালী, শাহজাদপুর এবং সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে এই জীবন্ত দৃশ্য। শুকনো মৌসুমে যমুনার ছোট-বড় অসংখ্য চরের সঙ্গে শহর বা বাজারের সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে এই বাহন। শহর থেকে নৌকায় করে ঘাটে আনা চাল, ডাল, তেল, সারসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ঘোড়ার গাড়িতে তুলে মাইলের পর মাইল বালুময় পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছে দেওয়া হয় চরের প্রত্যন্ত ঘরে ও বাজারে।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরে সোনালি আঁশের বাম্পার ফলন

 

চরের কৃষিজীবী মানুষের জীবন-জীবিকাও আবর্তিত হচ্ছে এই বাহনকে ঘিরে। মেছড়া গ্রামের হোসেন আলী ও নদীপারের মুদি ব্যবসায়ী শমশের আলী জানান, মাঠ থেকে সোনালি ফসল ঘরে তোলা হোক কিংবা হাটে পণ্য বিক্রি করা—সব ক্ষেত্রেই ঘোড়ার গাড়ি অপরিহার্য। শহরের দোকান থেকে মালামাল এনে চরের দোকানে সরবরাহ করতে এই বাহন ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই। আকনা দীঘি চরের কৃষক ফরিদ উদ্দিনের মতে, শহরে বসবাস করলেও প্রয়োজনে চরে এলে ঘোড়ার গাড়ির ওপরই নির্ভর করতে হয়; অন্যথায় মাথায় কিংবা কাঁধে করে ভারী বোঝা বয়ে মাইলের পর মাইল বালুচরে হাঁটা অসম্ভব। সত্তর বছর বয়সী চালক আনছার আলী বহু বছর ধরে এই গাড়ি চালিয়ে সংসার সামলাচ্ছেন। তেমনি এক যুগ ধরে ঘোড়ার গাড়ি চালাচ্ছেন চৌহালীর তেগুরি চরের আব্দুল আলিম। তিনি জানান, দিনে গড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। ঘোড়ার খাদ্য বাবদ দৈনিক ২০০ থেকে ২৫০ টাকা খরচ হলেও অবশিষ্ট আয়ে পরিবার-পরিজনের অন্নসংস্থান নির্বিঘ্নে হয়ে যায়। এ অঞ্চলের শত শত চালকের কাছে এটি নিছক কোনো বাহন নয়, পরিবারের রুটি-রুজির প্রধান উৎস।

আরও পড়ুনঃ  তারাগঞ্জে সাড়ে ৩ কেজি গাঁজাসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

 

চরাঞ্চলের যাতায়াত বাস্তবতা তুলে ধরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জামাত আলি মুন্সি বলেন, নদীপাড়ের বালুময় রাস্তাগুলোতে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য বিকল্পহীন একমাত্র যান হিসেবে ঘোড়ার গাড়ি আজও টিকে রয়েছে। আধুনিকতার জোয়ারে যখন গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা আমূল বদলে গেছে, তখন প্রতিকূল ভূপ্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে যমুনার চরের মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের অনন্য এক স্মারক হয়ে টিকে আছে এই পুরোনো বাহন।

আরও পড়ুনঃ  ফেনীতে ১,৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর