Dhaka ০৪:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর আদেশ লোকসান ও সঙ্কটে বেসরকারি ব্যবস্থায় দেয়া হচ্ছে আরো অর্ধডজন ট্রেন যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণ কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়ায় স্কুল মাঠে কলাগাছ লাগালেন জমিদাতা ব্রাহ্মণবাজারে পুলিশের সফল অভিযানে ২৫ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক সিরাজগঞ্জ যমুনার চরাঞ্চলে এখনও চলে ঘোড়ার গাড়ি  দেশের সব প্রতিষ্ঠানই বিধ্বস্ত অবস্থায়: ডা. শফিকুর রহমান মাদারগঞ্জে ৬ পুরিয়া হেরোইনসহ মোশারফ গ্রেপ্তার, অতঃপর জেল-হাজতে প্রেরণ সড়ক দুর্ঘটনায় সেপ্টেম্বরে নিহত ৪২৩,বেশি মোটরসাইকেলে শাহজালালে ১৬ কোটি টাকার স্বর্ণসহ ২ বিমানকর্মী ধরা

সড়ক দুর্ঘটনায় সেপ্টেম্বরে নিহত ৪২৩,বেশি মোটরসাইকেলে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ৪৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪২৩ জন নিহত এবং ৬৭৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৭৩ জন নারী ও ৬১টি শিশু। এ সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩৯ জন, যা মোট নিহতের ৩২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। একই সময়ে দুর্ঘটনায় ১০৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বর মাসে ১৫৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাসের যাত্রী ২৬, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-ট্রলি আরোহী ১৯, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপের আরোহী ২১ এবং থ্রি-হুইলারের যাত্রী ৮৮ জন নিহত হয়েছেন।ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংগঠনটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বর মাসে ১৫৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাসের যাত্রী ২৬, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-ট্রলি আরোহী ১৯, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপের আরোহী ২১ এবং থ্রি-হুইলারের যাত্রী ৮৮ জন নিহত হয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  সিরাজগঞ্জ যমুনার চরাঞ্চলে এখনও চলে ঘোড়ার গাড়ি

 

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৬৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। ১০৯টি দুর্ঘটনায় পথচারী চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ৯৮টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৬১টি পেছন থেকে আঘাত এবং ৬টি দুর্ঘটনা অন্যান্য কারণে ঘটেছে। সড়কের ধরন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ১৭৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। জাতীয় মহাসড়কে ১৪৫টি, শহরের সড়কে ৬৩টি এবং গ্রামীণ সড়কে ৫৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১৩২টি দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে। সেখানে ২০টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি ৩৮ জন নিহত হয়েছেন গাজীপুরে। রাজধানী ঢাকায় ৫২টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত ও ৪৭ জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সেপ্টেম্বর মাসে ১১টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, ৭ জন আহত ও ৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এ ছাড়া ২৩টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরে সোনালি আঁশের বাম্পার ফলন

 

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। অধিকাংশ দুর্ঘটনা অতিরিক্ত গতির কারণে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে ঘটেছে। এ জন্য প্রযুক্তির মাধ্যমে গতি নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি এবং চালকদের মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি। সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও বেতন না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজিকে চিহ্নিত করেছে সংগঠনটি। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, বিআরটিএ-বিআরটিসি ও ডিটিসিএর কাঠামোগত সংস্কার, মোটরযানে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার এবং রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক আধুনিক বাসসেবা চালুর সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

আরও পড়ুনঃ  ইলিশের দামে লাফ কেজিতে বেড়েছে ৩০০ টাকা

 

এ ছাড়া দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বাড়ানো, তাদের বেতন-কর্মঘণ্টা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ, সব রেলক্রসিংয়ে গেটকিপার নিয়োগ এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বাড়াতে জাতীয় বাজেটে অর্থ বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, সময়োপযোগী নীতিমালা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের শিক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর আদেশ

সড়ক দুর্ঘটনায় সেপ্টেম্বরে নিহত ৪২৩,বেশি মোটরসাইকেলে

আপডেটের সময়: ০২:৪১:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ৪৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪২৩ জন নিহত এবং ৬৭৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৭৩ জন নারী ও ৬১টি শিশু। এ সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩৯ জন, যা মোট নিহতের ৩২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। একই সময়ে দুর্ঘটনায় ১০৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বর মাসে ১৫৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাসের যাত্রী ২৬, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-ট্রলি আরোহী ১৯, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপের আরোহী ২১ এবং থ্রি-হুইলারের যাত্রী ৮৮ জন নিহত হয়েছেন।ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংগঠনটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বর মাসে ১৫৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাসের যাত্রী ২৬, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-ট্রলি আরোহী ১৯, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপের আরোহী ২১ এবং থ্রি-হুইলারের যাত্রী ৮৮ জন নিহত হয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  ফেনীতে ১,৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

 

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৬৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। ১০৯টি দুর্ঘটনায় পথচারী চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ৯৮টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৬১টি পেছন থেকে আঘাত এবং ৬টি দুর্ঘটনা অন্যান্য কারণে ঘটেছে। সড়কের ধরন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ১৭৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। জাতীয় মহাসড়কে ১৪৫টি, শহরের সড়কে ৬৩টি এবং গ্রামীণ সড়কে ৫৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১৩২টি দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে। সেখানে ২০টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি ৩৮ জন নিহত হয়েছেন গাজীপুরে। রাজধানী ঢাকায় ৫২টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত ও ৪৭ জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সেপ্টেম্বর মাসে ১১টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, ৭ জন আহত ও ৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এ ছাড়া ২৩টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  বিনিয়োগ বাড়ানো ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি

 

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। অধিকাংশ দুর্ঘটনা অতিরিক্ত গতির কারণে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে ঘটেছে। এ জন্য প্রযুক্তির মাধ্যমে গতি নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি এবং চালকদের মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি। সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও বেতন না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজিকে চিহ্নিত করেছে সংগঠনটি। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, বিআরটিএ-বিআরটিসি ও ডিটিসিএর কাঠামোগত সংস্কার, মোটরযানে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার এবং রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক আধুনিক বাসসেবা চালুর সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

আরও পড়ুনঃ  লামায় রিসোর্ট দখল ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

 

এ ছাড়া দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বাড়ানো, তাদের বেতন-কর্মঘণ্টা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ, সব রেলক্রসিংয়ে গেটকিপার নিয়োগ এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বাড়াতে জাতীয় বাজেটে অর্থ বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, সময়োপযোগী নীতিমালা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের শিক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি।