Dhaka ০৯:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
জুড়াইন রেলগেট ও আশপাশ এলাকায় অবৈধ দখল উচ্ছেদে লিবিয়ায় মানব পাচারের অভিযোগ, ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা দিয়েও নিখোঁজ চার যুবক শরীয়তপুরে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ধামইরহাটে ১৮৭৫টি গাছের চারা পেল শিক্ষার্থীরা মৌলভীবাজারে চাতল বিলে লীজকৃত জলমহালে পাকা ঘর, দখলের অভিযোগ মাদারগঞ্জে ৫০ পিস ইয়াবাসহ তিনজন আটক, পলাতক আরও এক ১ দিনে ১ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন: ফটিকছড়িতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা চালের মান নিয়ে প্রশ্ন: সরকারি চালের ভাত কেন বিকেলেই নষ্ট হচ্ছে? নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে: মামুনুল হক বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে জাপানি ফাউন্ডেশনের প্রতি ডা. জুবাইদার আহ্বান

লিবিয়ায় মানব পাচারের অভিযোগ, ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা দিয়েও নিখোঁজ চার যুবক

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৮:১৫:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৩ সময় দেখুন

রিজন আহমেদ মোস্তফা, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর নির্যাতন করে লিবিয়ার মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের লোকমান মিয়ার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী চার যুবকের বাবাদের অভিযোগ, সন্তানদের মুক্ত করার আশায় ধাপে ধাপে মোট ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা দেওয়া হলেও এখনো তাঁদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় লোকমানের সহযোগী হিসেবে অভিযোগ তুলে দুইজনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে মানব পাচারের মামলা হলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভৈরব উপজেলার গজারিয়া গ্রামের চার যুবক ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় পাড়ি জমান। তাঁদের বাবারা হলেন—বকুল মিয়া, পিতা মৃত তাহের উদ্দিন; মস্তু ভূঁইয়া, পিতা মহর উদ্দিন ভূঁইয়া; হৃদয় মিয়া, পিতা হেদায়েত উল্লাহ; এবং আনার মিয়া, পিতা আব্দুল ওয়াহাব। চার বাবার অভিযোগ, ভৈরব উপজেলার চান্দেরচর গ্রামের দানা মিয়ার ছেলে লোকমান মিয়া তাঁদের সন্তানদের লিবিয়ায় নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার পর তাঁদের নির্যাতন করা হয় এবং পরে লিবিয়ার মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর সন্তানদের মুক্ত করার কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ধাপে ধাপে টাকা নেওয়া হয়। টাকা দেওয়ার পরও সন্তানদের সন্ধান না পাওয়ায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্বজনেরা।

আরও পড়ুনঃ  জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে বিরোধী দল ধোঁকাবাজি করেছে- প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি  ‎ ‎

 

পরিবারগুলোর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বকুল মিয়ার কাছ থেকে ৩০ লাখ, মস্তু ভূঁইয়ার কাছ থেকে ২৬ লাখ, হৃদয় মিয়ার কাছ থেকে ৩৫ লাখ এবং আনার মিয়ার কাছ থেকে ৩২ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, মোট টাকার পরিমাণ ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এদিকে, গত ২৬ অক্টোবর লোকমান মিয়ার বন্ধু সায়েম কাজী (২৬) ও তাঁর বোন জ্যোতি আক্তারকে (২৮) আটক করেন ভুক্তভোগী বকুল মিয়া। সায়েম কাজীর পিতার নাম আংগুর কাজী এবং জ্যোতি আক্তারের স্বামী আলামিন মিয়া। তাঁদের বাড়ি ভৈরব উপজেলার চান্দেরচর গ্রামে। বকুল মিয়ার ভাই গোলাপ মিয়ার অভিযোগ, সায়েম কাজী ও জ্যোতি আক্তার লোকমানের সহযোগী। তাঁদের মাধ্যমেই টাকা লেনদেন করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সায়েম কাজী। তাঁর দাবি, লোকমান দেশে থাকাকালে তিনি তাঁর বন্ধু হিসেবে লোকমানের সঙ্গে চলাফেরা করতেন। লোকমান বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা সংগ্রহ করার সময় তিনি সঙ্গে থাকতেন। তবে মানব পাচার কিংবা টাকা লেনদেনের ঘটনায় তিনি জড়িত নন।

আরও পড়ুনঃ  ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বগুড়ায় যুবদলের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎

 

সায়েমের ভাষ্য, বন্ধক রাখা স্বর্ণালংকার ছাড়িয়ে আনতে তাঁরা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ভৈরব যাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁদের অটোরিকশা থেকে নামিয়ে আটক করা হয় এবং সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা নিয়ে নেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সায়েম কাজী ও জ্যোতি আক্তার দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রায় সাত ঘণ্টা আটক ছিলেন বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে। পরবর্তী সময়ে ভৈরব থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে মানব পাচারের মামলা করা হয় এবং তাঁদের কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়। ভুক্তভোগী চার পরিবারের সদস্যরা তাঁদের সন্তানদের দ্রুত সন্ধান ও উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। তবে লোকমান মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং লিবিয়ায় নিখোঁজ যুবকদের বর্তমান অবস্থান স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  ভাঙ্গুড়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক ব্যবহারে কৃষক অসুস্থ
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

জুড়াইন রেলগেট ও আশপাশ এলাকায় অবৈধ দখল উচ্ছেদে

লিবিয়ায় মানব পাচারের অভিযোগ, ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা দিয়েও নিখোঁজ চার যুবক

আপডেটের সময়: ০৮:১৫:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

রিজন আহমেদ মোস্তফা, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর নির্যাতন করে লিবিয়ার মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের লোকমান মিয়ার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী চার যুবকের বাবাদের অভিযোগ, সন্তানদের মুক্ত করার আশায় ধাপে ধাপে মোট ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা দেওয়া হলেও এখনো তাঁদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় লোকমানের সহযোগী হিসেবে অভিযোগ তুলে দুইজনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে মানব পাচারের মামলা হলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভৈরব উপজেলার গজারিয়া গ্রামের চার যুবক ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় পাড়ি জমান। তাঁদের বাবারা হলেন—বকুল মিয়া, পিতা মৃত তাহের উদ্দিন; মস্তু ভূঁইয়া, পিতা মহর উদ্দিন ভূঁইয়া; হৃদয় মিয়া, পিতা হেদায়েত উল্লাহ; এবং আনার মিয়া, পিতা আব্দুল ওয়াহাব। চার বাবার অভিযোগ, ভৈরব উপজেলার চান্দেরচর গ্রামের দানা মিয়ার ছেলে লোকমান মিয়া তাঁদের সন্তানদের লিবিয়ায় নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার পর তাঁদের নির্যাতন করা হয় এবং পরে লিবিয়ার মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর সন্তানদের মুক্ত করার কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ধাপে ধাপে টাকা নেওয়া হয়। টাকা দেওয়ার পরও সন্তানদের সন্ধান না পাওয়ায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্বজনেরা।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীতে হত্যা চেষ্টা ও চাঁদাবাজি মামলার আসামি বেলাল হোসেন গ্রেপ্তার

 

পরিবারগুলোর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বকুল মিয়ার কাছ থেকে ৩০ লাখ, মস্তু ভূঁইয়ার কাছ থেকে ২৬ লাখ, হৃদয় মিয়ার কাছ থেকে ৩৫ লাখ এবং আনার মিয়ার কাছ থেকে ৩২ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, মোট টাকার পরিমাণ ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এদিকে, গত ২৬ অক্টোবর লোকমান মিয়ার বন্ধু সায়েম কাজী (২৬) ও তাঁর বোন জ্যোতি আক্তারকে (২৮) আটক করেন ভুক্তভোগী বকুল মিয়া। সায়েম কাজীর পিতার নাম আংগুর কাজী এবং জ্যোতি আক্তারের স্বামী আলামিন মিয়া। তাঁদের বাড়ি ভৈরব উপজেলার চান্দেরচর গ্রামে। বকুল মিয়ার ভাই গোলাপ মিয়ার অভিযোগ, সায়েম কাজী ও জ্যোতি আক্তার লোকমানের সহযোগী। তাঁদের মাধ্যমেই টাকা লেনদেন করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সায়েম কাজী। তাঁর দাবি, লোকমান দেশে থাকাকালে তিনি তাঁর বন্ধু হিসেবে লোকমানের সঙ্গে চলাফেরা করতেন। লোকমান বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা সংগ্রহ করার সময় তিনি সঙ্গে থাকতেন। তবে মানব পাচার কিংবা টাকা লেনদেনের ঘটনায় তিনি জড়িত নন।

আরও পড়ুনঃ  মান্দায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

 

সায়েমের ভাষ্য, বন্ধক রাখা স্বর্ণালংকার ছাড়িয়ে আনতে তাঁরা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ভৈরব যাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁদের অটোরিকশা থেকে নামিয়ে আটক করা হয় এবং সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা নিয়ে নেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সায়েম কাজী ও জ্যোতি আক্তার দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রায় সাত ঘণ্টা আটক ছিলেন বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে। পরবর্তী সময়ে ভৈরব থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে মানব পাচারের মামলা করা হয় এবং তাঁদের কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়। ভুক্তভোগী চার পরিবারের সদস্যরা তাঁদের সন্তানদের দ্রুত সন্ধান ও উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। তবে লোকমান মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং লিবিয়ায় নিখোঁজ যুবকদের বর্তমান অবস্থান স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটে ইয়াবাসহ মাদক কারবারী আটক