Dhaka ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সালনা নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা কুলিয়ারচরে উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধনসহ কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম নাটোরের লালপুরে প্রস্তাবিত সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকা পরিদর্শনে চীনা প্রতিনিধি দল তথ্য নিতে এসে ওসির ধমক খেলেন সাংবাদিক, মধ্যস্থতাকারীদের দিয়ে ঘটনা ‘দফারফা’র অভিযোগ! নজিপুর পৌরসভা রুকন সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত কাউনিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদযাপন স্বর্ণগ্রাম-দাড়িদহে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, সেবা পেলেন সুবিধাবঞ্চিতরা ফ্যাসিস্টদের ফিরিয়ে এনে বিচার চায় জনগণ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উলিপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপি সালেহীর মতবিনিময় মিরপুরে ৫ কাঠা জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধ, বড় ভাইয়ের সংবাদ সম্মেলন

সার্ভেয়ারের মনগড়া প্রতিবেদনে বিপাকে ভুক্তভোগীরা: লামায় ভূমি জরিপে চরম অনিয়মের অভিযোগ

বিষেশ প্রতিনিধি

বান্দরবানের লামা উপজেলায় সরকারের ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর ৮ ধারায় দায়েরকৃত একটি মামলার তদন্তে চরম দুর্নীতি, অনৈতিক আর্থিক সুবিধা গ্রহণ এবং পূর্ববর্তী সরকারি রেকর্ড ধামাচাপা দিয়ে একপাক্ষিক প্রতিবেদন দাখিলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী হাবিলদার মোঃ আমির হোসেনের অভিযোগ, ২০২১ সালের তদন্তে যেখানে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি ম্যাজিস্ট্রেট নিজে উপস্থিত থেকে সরেজমিনে নিখুঁত পরিমাপের মাধ্যমে বিবাদীপক্ষকে ‘অবৈধ দখলদার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন, বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান ও তার সিন্ডিকেট সেই অকাট্য সরকারি দলিল সম্পূর্ণ গোপন করেছেন। তিনি বিরোধীয় স্পটে কোনো প্রকার বৈজ্ঞানিক পরিমাপ না করে এবং উপস্থিত স্থানীয় সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ না করেই গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে অফিসে বসে সম্পূর্ণ বিবাদীপক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে একটি মনগড়া ‘টেবিল-রিপোর্ট’ আদালতে দাখিল করেছেন।
মামলার বিবরণ ও ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল সূত্র থেকে জানা যায়, লামা পৌরসভার ছাগল খাইয়া মৌজার অন্তর্গত ১৫৩০ ও ১৫৩১ দাগের মোট ০.২১ একর রেকর্ডীয় ও তৌজিভুক্ত জমির দীর্ঘ ২৫-২৬ বছরের বৈধ স্বত্বাধিকারী এবং শান্তিপূর্ণ ভোগদখলকারী হাবিলদার মোঃ আমির হোসেন। উক্ত জমিতে তিনি সুদীর্ঘকাল ধরে শান্তিপূর্ণভাবে চাষাবাদ করে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই পার্শ্ববর্তী জমির মালিকরা অসৎ উদ্দেশ্যে এবং বেআইনি লোভের বশবর্তী হয়ে আমির হোসেনের মালিকানাধীন জায়গাটি জবরদখলের অপচেষ্টা শুরু করে। একপর্যায়ে বিবাদীপক্ষ (মোঃ হারুন,গং) লাঠিয়াল বাহিনী ও বহিরাগত সন্ত্রাসী প্রকৃতির মানুষজন নিয়ে এসে জোরপূর্বক ওই আবাদি জমিতে মাটি ভরাট করে বেআইনিভাবে বেদখল করে নেয়।

আরও পড়ুনঃ  কুলিয়ারচরে উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধনসহ কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

এই প্রকাশ্য ভূমি দস্যুতার শিকার হয়ে নিরুপায় ভুক্তভোগী আমির হোসেন ২০২১ সালের আগস্ট মাসে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন। যার প্রেক্ষিতে ডিসি অফিসের স্মারক আদেশে একজন ভূমি ম্যাজিস্ট্রেট নিজে উপস্থিত থেকে সরকারি কানুনগো ও সার্ভেয়ার (আমিন) দ্বারা নিখুঁতভাবে ডিজিটাল চেইন সার্ভে করান। ২০২১ সালের ৩ জুন দাখিলকৃত সেই ০১/২০২১ নম্বর সরকারি তদন্ত রিপোর্টে দালিলিকভাবে প্রমাণিত হয় যে, বিবাদীপক্ষ সম্পূর্ণ গায়ের জোরে বাদীর রেকর্ডীয় জায়গা মাটি ভরাট করে জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে (যা রিপোর্টের ২ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ আছে)।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, বিবাদীপক্ষ সরকারের সেই উচ্চপর্যায়ের ম্যাজিস্ট্রেট রিপোর্টের আইনি নির্দেশ এবং প্রশাসনের উচ্ছেদ আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জমি ছাড়তে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানায় এবং জোরপূর্বক অবৈধ দখল বজায় রাখে। কোনো উপায় না দেখে ভুক্তভোগী আমির হোসেন নিজের আইনগত অধিকার ও স্বত্ব পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে সরকারের নতুন কড়া আইন ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এর ৮ ধারা (অবৈধভাবে দখলচ্যুত ব্যক্তির দখল পুনরুদ্ধার)’-এর আশ্রয় নিয়ে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে একটি স্বত্ব, জবরদখল উচ্ছেদ ও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সরেজমিনে প্রকৃত সত্য ও সীমানা উদঘাটনের জন্য উপজেলা ভূমি অফিসকে পুনরায় বিচারবিভাগীয় তদন্তের দায়িত্ব দেন।
কিন্তু আদালতের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর সার্ভেয়ার মোঃ আতিকুর রহমান ও তার সিন্ডিকেট কোনো প্রকার আইনি নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে চরম দুর্নীতিতে লিপ্ত হন। তিনি ২০২১ সালের ৩ জুনের ম্যাজিস্ট্রেট সম্বলিত ওই অকাট্য প্রতিবেদন ও স্কেচ ম্যাপকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আড়াল করেন।সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান বিরোধীয় স্পটে এসে নিয়ম মাফিক ফিতা বা চেইন দিয়ে বৈজ্ঞানিক পরিমাপ তো করেনইনি, উল্টো স্পটে উপস্থিত থাকা সাধারণ জনগণের কোনো সাক্ষ্যও নথিভুক্ত করেননি। সম্পূর্ণ গোপন আঁতাত ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিবাদীপক্ষের সাজানো মনগড়া বিবরণীকেই হুবহু কপি-পেস্ট করে তিনি পূর্বের ম্যাজিস্ট্রেটের বৈধ পরিমাপকে সম্পূর্ণ উল্টে দিয়ে এবং বাদীর জমিকে ‘নালিশী দাগের জমি নহে’ বলে একটি একপাক্ষিক ও পক্ষপাতমূলক ‘টেবিল-রিপোর্ট’ তৈরি করেন, যা দেওয়ানি কার্যবিধি ও নতুন ভূমি আইনের মূল চেতনার চরম লঙ্ঘন।
ভুক্তভোগী হাবিলদার মোঃ আমির হোসেন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে জমি দীর্ঘ ২৫-২৬ বছর আমার বৈধ দখলে থাকার পর বিবাদীপক্ষ জোর করে মাটি ভরাট করে গ্রাস করল এবং ২০২১ সালের ৩ জুনের রিপোর্টে খোদ ভূমি ম্যাজিস্ট্রেট নিজে দাঁড়িয়ে থেকে মেপে বিবাদীপক্ষকে অবৈধ দখলদার হিসেবে চিহ্নিত করলেন, বর্তমান সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান কোনো পরিমাপ না করেই বিবাদীদের পক্ষে জালিয়াতিপূর্ণ রিপোর্ট লিখে দিলেন। সরকারি চেয়ারে বসে এই ধরণের প্রকাশ্য দুর্নীতি ও আদালতের আদেশ নিয়ে তামাশা মেনে নেওয়া যায় না। আমি এই দুর্নীতিগ্রস্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক ‘নারাজি ও লিখন আপত্তি’ দাখিল করব এবং আদালতের মাধ্যমে পুনরায় নিরপেক্ষ ‘কোর্ট কমিশন’ বা সিভিল কোর্ট আমিন দ্বারা জায়গাটি পরিমাপের জোর আবেদন জানাব।”
প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মোঃ আতিকুর রহমানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরবর্তীতে অফিসে গিয়েও এই বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য বা মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  নারায়ণগঞ্জে ট্রাক চাপায় নারী পোশাকশ্রমিকের করুণ মৃত্যুতে উত্তাল শ্রমিক সংগঠন

এই বিষয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন আইনজ্ঞরা জানান, নতুন ভূমি আইন করা হয়েছে ভূমি দস্যুদের রুখতে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে। কিন্তু ভূমি অফিসের কিছু অসাধু ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার এমন মনগড়া টেবিল-রিপোর্ট দেওয়ার কারণে নতুন আইনের মহৎ সুফল ভেস্তে যাচ্ছে এবং বিচারপ্রার্থী মানুষেরা চরম বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি সার্ভেয়ার মোঃ আতিকুর রহমানের এই পক্ষপাতমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রিপোর্টের সুষ্ঠু বিভাগীয় তদন্ত এবং তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  শরণখোলায় পরিত্যক্ত ভবন থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সালনা নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

সার্ভেয়ারের মনগড়া প্রতিবেদনে বিপাকে ভুক্তভোগীরা: লামায় ভূমি জরিপে চরম অনিয়মের অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০২:৫২:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

বিষেশ প্রতিনিধি

বান্দরবানের লামা উপজেলায় সরকারের ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর ৮ ধারায় দায়েরকৃত একটি মামলার তদন্তে চরম দুর্নীতি, অনৈতিক আর্থিক সুবিধা গ্রহণ এবং পূর্ববর্তী সরকারি রেকর্ড ধামাচাপা দিয়ে একপাক্ষিক প্রতিবেদন দাখিলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী হাবিলদার মোঃ আমির হোসেনের অভিযোগ, ২০২১ সালের তদন্তে যেখানে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি ম্যাজিস্ট্রেট নিজে উপস্থিত থেকে সরেজমিনে নিখুঁত পরিমাপের মাধ্যমে বিবাদীপক্ষকে ‘অবৈধ দখলদার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন, বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান ও তার সিন্ডিকেট সেই অকাট্য সরকারি দলিল সম্পূর্ণ গোপন করেছেন। তিনি বিরোধীয় স্পটে কোনো প্রকার বৈজ্ঞানিক পরিমাপ না করে এবং উপস্থিত স্থানীয় সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ না করেই গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে অফিসে বসে সম্পূর্ণ বিবাদীপক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে একটি মনগড়া ‘টেবিল-রিপোর্ট’ আদালতে দাখিল করেছেন।
মামলার বিবরণ ও ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল সূত্র থেকে জানা যায়, লামা পৌরসভার ছাগল খাইয়া মৌজার অন্তর্গত ১৫৩০ ও ১৫৩১ দাগের মোট ০.২১ একর রেকর্ডীয় ও তৌজিভুক্ত জমির দীর্ঘ ২৫-২৬ বছরের বৈধ স্বত্বাধিকারী এবং শান্তিপূর্ণ ভোগদখলকারী হাবিলদার মোঃ আমির হোসেন। উক্ত জমিতে তিনি সুদীর্ঘকাল ধরে শান্তিপূর্ণভাবে চাষাবাদ করে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই পার্শ্ববর্তী জমির মালিকরা অসৎ উদ্দেশ্যে এবং বেআইনি লোভের বশবর্তী হয়ে আমির হোসেনের মালিকানাধীন জায়গাটি জবরদখলের অপচেষ্টা শুরু করে। একপর্যায়ে বিবাদীপক্ষ (মোঃ হারুন,গং) লাঠিয়াল বাহিনী ও বহিরাগত সন্ত্রাসী প্রকৃতির মানুষজন নিয়ে এসে জোরপূর্বক ওই আবাদি জমিতে মাটি ভরাট করে বেআইনিভাবে বেদখল করে নেয়।

আরও পড়ুনঃ  ভাঙ্গুড়ায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

এই প্রকাশ্য ভূমি দস্যুতার শিকার হয়ে নিরুপায় ভুক্তভোগী আমির হোসেন ২০২১ সালের আগস্ট মাসে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন। যার প্রেক্ষিতে ডিসি অফিসের স্মারক আদেশে একজন ভূমি ম্যাজিস্ট্রেট নিজে উপস্থিত থেকে সরকারি কানুনগো ও সার্ভেয়ার (আমিন) দ্বারা নিখুঁতভাবে ডিজিটাল চেইন সার্ভে করান। ২০২১ সালের ৩ জুন দাখিলকৃত সেই ০১/২০২১ নম্বর সরকারি তদন্ত রিপোর্টে দালিলিকভাবে প্রমাণিত হয় যে, বিবাদীপক্ষ সম্পূর্ণ গায়ের জোরে বাদীর রেকর্ডীয় জায়গা মাটি ভরাট করে জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে (যা রিপোর্টের ২ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ আছে)।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, বিবাদীপক্ষ সরকারের সেই উচ্চপর্যায়ের ম্যাজিস্ট্রেট রিপোর্টের আইনি নির্দেশ এবং প্রশাসনের উচ্ছেদ আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জমি ছাড়তে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানায় এবং জোরপূর্বক অবৈধ দখল বজায় রাখে। কোনো উপায় না দেখে ভুক্তভোগী আমির হোসেন নিজের আইনগত অধিকার ও স্বত্ব পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে সরকারের নতুন কড়া আইন ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এর ৮ ধারা (অবৈধভাবে দখলচ্যুত ব্যক্তির দখল পুনরুদ্ধার)’-এর আশ্রয় নিয়ে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে একটি স্বত্ব, জবরদখল উচ্ছেদ ও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সরেজমিনে প্রকৃত সত্য ও সীমানা উদঘাটনের জন্য উপজেলা ভূমি অফিসকে পুনরায় বিচারবিভাগীয় তদন্তের দায়িত্ব দেন।
কিন্তু আদালতের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর সার্ভেয়ার মোঃ আতিকুর রহমান ও তার সিন্ডিকেট কোনো প্রকার আইনি নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে চরম দুর্নীতিতে লিপ্ত হন। তিনি ২০২১ সালের ৩ জুনের ম্যাজিস্ট্রেট সম্বলিত ওই অকাট্য প্রতিবেদন ও স্কেচ ম্যাপকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আড়াল করেন।সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান বিরোধীয় স্পটে এসে নিয়ম মাফিক ফিতা বা চেইন দিয়ে বৈজ্ঞানিক পরিমাপ তো করেনইনি, উল্টো স্পটে উপস্থিত থাকা সাধারণ জনগণের কোনো সাক্ষ্যও নথিভুক্ত করেননি। সম্পূর্ণ গোপন আঁতাত ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিবাদীপক্ষের সাজানো মনগড়া বিবরণীকেই হুবহু কপি-পেস্ট করে তিনি পূর্বের ম্যাজিস্ট্রেটের বৈধ পরিমাপকে সম্পূর্ণ উল্টে দিয়ে এবং বাদীর জমিকে ‘নালিশী দাগের জমি নহে’ বলে একটি একপাক্ষিক ও পক্ষপাতমূলক ‘টেবিল-রিপোর্ট’ তৈরি করেন, যা দেওয়ানি কার্যবিধি ও নতুন ভূমি আইনের মূল চেতনার চরম লঙ্ঘন।
ভুক্তভোগী হাবিলদার মোঃ আমির হোসেন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে জমি দীর্ঘ ২৫-২৬ বছর আমার বৈধ দখলে থাকার পর বিবাদীপক্ষ জোর করে মাটি ভরাট করে গ্রাস করল এবং ২০২১ সালের ৩ জুনের রিপোর্টে খোদ ভূমি ম্যাজিস্ট্রেট নিজে দাঁড়িয়ে থেকে মেপে বিবাদীপক্ষকে অবৈধ দখলদার হিসেবে চিহ্নিত করলেন, বর্তমান সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান কোনো পরিমাপ না করেই বিবাদীদের পক্ষে জালিয়াতিপূর্ণ রিপোর্ট লিখে দিলেন। সরকারি চেয়ারে বসে এই ধরণের প্রকাশ্য দুর্নীতি ও আদালতের আদেশ নিয়ে তামাশা মেনে নেওয়া যায় না। আমি এই দুর্নীতিগ্রস্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক ‘নারাজি ও লিখন আপত্তি’ দাখিল করব এবং আদালতের মাধ্যমে পুনরায় নিরপেক্ষ ‘কোর্ট কমিশন’ বা সিভিল কোর্ট আমিন দ্বারা জায়গাটি পরিমাপের জোর আবেদন জানাব।”
প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মোঃ আতিকুর রহমানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরবর্তীতে অফিসে গিয়েও এই বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য বা মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  শরণখোলায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পতাকা উত্তোলন, বৃক্ষরোপণ ও পোনা অবমুক্তকরণ

এই বিষয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন আইনজ্ঞরা জানান, নতুন ভূমি আইন করা হয়েছে ভূমি দস্যুদের রুখতে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে। কিন্তু ভূমি অফিসের কিছু অসাধু ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার এমন মনগড়া টেবিল-রিপোর্ট দেওয়ার কারণে নতুন আইনের মহৎ সুফল ভেস্তে যাচ্ছে এবং বিচারপ্রার্থী মানুষেরা চরম বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি সার্ভেয়ার মোঃ আতিকুর রহমানের এই পক্ষপাতমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রিপোর্টের সুষ্ঠু বিভাগীয় তদন্ত এবং তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  শরণখোলায় পরিত্যক্ত ভবন থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার