
মোঃ জালাল উদ্দিন: নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার মদনপুর এলাকায় জায়িন কানিটওয়্যারস লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানার এক নারী শ্রমিক ট্রাক চাপায় নিহত হয়েছেন। ৩ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাত আনুমানিক ৯টায় কারখানা ছুটি হওয়ার পর হালিমা নামের ওই শ্রমিক অফিস গেট থেকে বের হলে একটি দ্রুতগামী বেপরোয়া ট্রাক রং সাইডে এসে তাঁকে পিষে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর করুণ মৃত্যু হয়।দুর্ঘটনার পরপরই কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা ঘাতক ট্রাকসহ ড্রাইভারকে আটক করেন এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর অংশে অবরোধ গড়ে তোলেন। এতে দীর্ঘ ২ থেকে ৩ ঘণ্টা যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে এবং মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বিচার ও সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যান। আন্দোলনরত শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, সকাল ৮টায় অফিসে প্রবেশ করার পর নিয়মিতই অতিরিক্ত সময় কাজ করানো হয়।
অধিকাংশ সময় রাত ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ওভারটাইম করতে বাধ্য করা হয়। এমনকি সেই ওভারটাইমের উপযুক্ত মজুরি না দিয়ে তা কেটে নেওয়া হয়। শ্রমিকদের দাবি, কোনো শ্রমিককে জোরপূর্বক অতিরিক্ত কাজ করানো যাবে না এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের উপস্থিতিতে কারখানার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শ্রমিকদের ২০ মিনিটের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দেন। শ্রমিকরা দাবি তোলেন, মালিককে নিজে এসে লিখিত মুচলেকা দিতে হবে। পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয়ে যান চলাচল শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ে কারখানার মালিক না আসায় শ্রমিকরা পুনরায় সড়ক অবরোধ করেন। অভিযোগ ওঠে, সড়ক খালি করার চেষ্টা করার সময় কিছু পুলিশ কর্মকর্তা নারী শ্রমিকদের সঙ্গে অসংবেদনশীল আচরণ করেন, গালিগালাজ করেন এবং লাঠিচার্জের হুমকি দেন। ঘটনার বিস্তারিত জানতে গণমাধ্যমকর্মীরা জায়িন কানিটওয়্যারস লিমিটেড কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা কোনো বক্তব্য না দিয়ে এড়িয়ে যান। শ্রমিকদের আশঙ্কা, অর্থ ও প্রভাবের জোরে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) কারখানার কার্যালয়ে নিহত হালিমার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও শ্রমিকদের সার্বিক দাবি-দাওয়ার বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে একটি বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 

















