Dhaka ০৮:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কাদের মির্জা ও পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকের তিন মামলা রাজশাহী মহানগরীর শান্তি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে: মাহফুজুর রহমান রিটন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ওয়াশিং ফ্যাক্টরির মেশিনে কাটা পড়ে শিশু শ্রমিকের মৃত্যু অভিযান আর জরিমানায় থামছে না মিঠাপুকুরের ভেজাল গুড়ের দৌরাত্ম্য লালপুরে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত এক বছরে ১২ লক্ষাধিক টাকার বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান, ঈদগাঁও মডেল হাসপাতাল হাত পায়ের রগ অবশ,চিকিৎসার খরচ জোগাতে পারছেন না ক্ষেতলালের কাউছারের পরিবার পত্নীতলায় আদিবাসীদের বর্ণাঢ্য কারাম উৎসব পালিত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় মোবাইল কোর্ট, ৭ জনের কারাদণ্ড দ্রুত বিচার দ্রুত রায়-শাস্তি কার্যকরে দীর্ঘ অপেক্ষা

রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুর: ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে দুই তদন্ত কমিটি

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৬:৩৩:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১ সময় দেখুন

অপু দাস, রাজশাহী ব্যুরো।

রাজশাহী রেলস্টেশনে শিক্ষার্থীদের ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন তা খতিয়ে দেখতে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি কাজ করবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক আহাম্মদ হোসেন মাসুম।
সোমবার রাজশাহী রেলস্টেশন সরেজমিনে পরিদর্শন করেন পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।
আহাম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, রোববার রাজশাহী রেলস্টেশনে যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন টিকিটবিহীন যাত্রীকে কেন্দ্র করে প্রথমে যে সমস্যার সূত্রপাত হয়েছিল, তা একপর্যায়ে সমাধান হয়ে যায়। পরবর্তীতে একজন শিক্ষার্থী পড়ে গিয়ে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেই উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে স্টেশনে রাষ্ট্রীয় সম্পদে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, ঘটনার পর রাতেই বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। আলোচনার পর সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনার পর রেলশ্রমিকদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দেয় বলে জানান পশ্চিমাঞ্চল রেলের এই কর্মকর্তা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ধরনের তদন্ত সম্পন্ন না করেই শ্রমিকদের বরখাস্ত করার বিষয়ে তারা আপত্তি জানিয়েছিলেন। পরে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা হলে তারা কাজে যোগ দেন এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা করেন।
মহাব্যবস্থাপক জানান, সোমবার সকাল ১১টার দিকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রাজশাহীর প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রেলওয়ের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির পাশাপাশি বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। অন্যদিকে রেলওয়ের পক্ষ থেকে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেটিও নিজস্বভাবে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখবে।
দুটি তদন্ত কমিটি তাদের নিজ নিজ কাজ শেষ করে প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, কী কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—এসব বিষয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
আহাম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, বর্তমানে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে, যেন রেলওয়ে ও শিক্ষার্থীরা পরস্পরের প্রতিপক্ষ। কিন্তু বিষয়টি এমন হওয়া উচিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কখনোই রেলওয়ের প্রতিপক্ষ হতে পারে না। রেলওয়ে ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহাবস্থান এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন।
ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল বোঝাবুঝি ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক ও সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক।
তিনি বলেন, রেলওয়ের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বসে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হবে। রেলওয়ে ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো বিষয়ে দূরত্ব বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলে তা যেন বড় ধরনের ঘটনায় রূপ নেওয়ার আগেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়, সেই লক্ষ্যেই নিয়মিত যোগাযোগের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, কারও কোনো ক্ষোভ, অসন্তোষ বা অভিযোগ থাকলে সেটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই সেই ক্ষোভ যেন সাধারণ মানুষের চলাচল বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর গিয়ে প্রকাশ না পায়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
স্টেশনে ভাঙচুরের কারণে রেলওয়ের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা সরেজমিনে দেখতেই তিনি স্টেশন পরিদর্শন করেছেন বলে জানান। এ সময় তাঁর সঙ্গে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
মহাব্যবস্থাপক বলেন, ভাঙচুরের ফলে রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনা ও সম্পদের যে ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো নিরূপণ করা হয়নি। সরেজমিন পরিদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরি করবেন। পূর্ণাঙ্গ অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ভাঙচুরের সময় রেলওয়ের কর্মকর্তারা স্টেশনে এবং কন্ট্রোল রুমে অবস্থান করছিলেন। একই সময়ে বিভাগীয় প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছিল। পরিস্থিতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা চলছিল।
তিনি জানান, ভাঙচুরের সময় একটি আন্তনগর ট্রেন স্টেশনে অবস্থান করছিল। ওই ট্রেনে তখন যাত্রীও ছিলেন। তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিলেন। আকস্মিকভাবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, যারা কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং নিজেদের প্রয়োজনেই গণপরিবহনে যাতায়াত করছেন, তাঁদের যেন কোনোভাবেই ক্ষতির মুখে পড়তে না হয়। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রেলওয়ের সঙ্গে কোনো বিষয়ে সমস্যা বা অভিযোগ থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সেটি সমাধান করা সম্ভব। কোনো পক্ষের প্রতি ক্ষোভ থাকলে আলোচনায় বসে সেই বিষয়ে সমাধানের পথ বের করা যেতে পারে। কিন্তু সাধারণ যাত্রীদের যেন কোনোভাবেই ক্ষতির শিকার হতে না হয়, সেটি সবাইকে বিবেচনায় রাখতে হবে।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ডে ভবিষ্যতে কেউ যেন জড়িত না হন, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে ঘটনার জন্য দায়ী করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেন পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক। তিনি বলেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নির্ধারণ করা হবে। তবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় থাকবে।
তিনি আরও জানান, রেলওয়ে এবং বিভাগীয় প্রশাসনের দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ঘটনার পর রেলশ্রমিকদের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, সেটিও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শ্রমিকদের ক্ষোভের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ হলে সাধারণ যাত্রীদের ব্যাপক দুর্ভোগের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। পরে শ্রমিকেরা কাজে ফিরে আসেন এবং রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা করেন।
পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক বলেন, রাজশাহী রেলস্টেশন শুধু রেলওয়ের একটি স্থাপনা নয়, এটি প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা তৈরি হলে তা যেন আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা যায়, সেই পরিবেশ তৈরিতে রেলওয়ে ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করবে।

আরও পড়ুনঃ  ধুনটে জঙ্গল থেকে জীবিত কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতক উদ্ধার, হাসপাতালে ভর্তি
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

কাদের মির্জা ও পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকের তিন মামলা

রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুর: ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে দুই তদন্ত কমিটি

আপডেটের সময়: ০৬:৩৩:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপু দাস, রাজশাহী ব্যুরো।

রাজশাহী রেলস্টেশনে শিক্ষার্থীদের ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন তা খতিয়ে দেখতে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি কাজ করবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক আহাম্মদ হোসেন মাসুম।
সোমবার রাজশাহী রেলস্টেশন সরেজমিনে পরিদর্শন করেন পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।
আহাম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, রোববার রাজশাহী রেলস্টেশনে যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন টিকিটবিহীন যাত্রীকে কেন্দ্র করে প্রথমে যে সমস্যার সূত্রপাত হয়েছিল, তা একপর্যায়ে সমাধান হয়ে যায়। পরবর্তীতে একজন শিক্ষার্থী পড়ে গিয়ে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেই উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে স্টেশনে রাষ্ট্রীয় সম্পদে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, ঘটনার পর রাতেই বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। আলোচনার পর সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনার পর রেলশ্রমিকদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দেয় বলে জানান পশ্চিমাঞ্চল রেলের এই কর্মকর্তা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ধরনের তদন্ত সম্পন্ন না করেই শ্রমিকদের বরখাস্ত করার বিষয়ে তারা আপত্তি জানিয়েছিলেন। পরে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা হলে তারা কাজে যোগ দেন এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা করেন।
মহাব্যবস্থাপক জানান, সোমবার সকাল ১১টার দিকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রাজশাহীর প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রেলওয়ের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির পাশাপাশি বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। অন্যদিকে রেলওয়ের পক্ষ থেকে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেটিও নিজস্বভাবে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখবে।
দুটি তদন্ত কমিটি তাদের নিজ নিজ কাজ শেষ করে প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, কী কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—এসব বিষয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
আহাম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, বর্তমানে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে, যেন রেলওয়ে ও শিক্ষার্থীরা পরস্পরের প্রতিপক্ষ। কিন্তু বিষয়টি এমন হওয়া উচিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কখনোই রেলওয়ের প্রতিপক্ষ হতে পারে না। রেলওয়ে ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহাবস্থান এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন।
ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল বোঝাবুঝি ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক ও সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক।
তিনি বলেন, রেলওয়ের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বসে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হবে। রেলওয়ে ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো বিষয়ে দূরত্ব বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলে তা যেন বড় ধরনের ঘটনায় রূপ নেওয়ার আগেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়, সেই লক্ষ্যেই নিয়মিত যোগাযোগের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, কারও কোনো ক্ষোভ, অসন্তোষ বা অভিযোগ থাকলে সেটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই সেই ক্ষোভ যেন সাধারণ মানুষের চলাচল বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর গিয়ে প্রকাশ না পায়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
স্টেশনে ভাঙচুরের কারণে রেলওয়ের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা সরেজমিনে দেখতেই তিনি স্টেশন পরিদর্শন করেছেন বলে জানান। এ সময় তাঁর সঙ্গে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
মহাব্যবস্থাপক বলেন, ভাঙচুরের ফলে রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনা ও সম্পদের যে ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো নিরূপণ করা হয়নি। সরেজমিন পরিদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরি করবেন। পূর্ণাঙ্গ অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ভাঙচুরের সময় রেলওয়ের কর্মকর্তারা স্টেশনে এবং কন্ট্রোল রুমে অবস্থান করছিলেন। একই সময়ে বিভাগীয় প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছিল। পরিস্থিতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা চলছিল।
তিনি জানান, ভাঙচুরের সময় একটি আন্তনগর ট্রেন স্টেশনে অবস্থান করছিল। ওই ট্রেনে তখন যাত্রীও ছিলেন। তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিলেন। আকস্মিকভাবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, যারা কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং নিজেদের প্রয়োজনেই গণপরিবহনে যাতায়াত করছেন, তাঁদের যেন কোনোভাবেই ক্ষতির মুখে পড়তে না হয়। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রেলওয়ের সঙ্গে কোনো বিষয়ে সমস্যা বা অভিযোগ থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সেটি সমাধান করা সম্ভব। কোনো পক্ষের প্রতি ক্ষোভ থাকলে আলোচনায় বসে সেই বিষয়ে সমাধানের পথ বের করা যেতে পারে। কিন্তু সাধারণ যাত্রীদের যেন কোনোভাবেই ক্ষতির শিকার হতে না হয়, সেটি সবাইকে বিবেচনায় রাখতে হবে।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ডে ভবিষ্যতে কেউ যেন জড়িত না হন, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে ঘটনার জন্য দায়ী করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেন পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক। তিনি বলেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নির্ধারণ করা হবে। তবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় থাকবে।
তিনি আরও জানান, রেলওয়ে এবং বিভাগীয় প্রশাসনের দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ঘটনার পর রেলশ্রমিকদের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, সেটিও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শ্রমিকদের ক্ষোভের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ হলে সাধারণ যাত্রীদের ব্যাপক দুর্ভোগের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। পরে শ্রমিকেরা কাজে ফিরে আসেন এবং রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা করেন।
পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক বলেন, রাজশাহী রেলস্টেশন শুধু রেলওয়ের একটি স্থাপনা নয়, এটি প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা তৈরি হলে তা যেন আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা যায়, সেই পরিবেশ তৈরিতে রেলওয়ে ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করবে।

আরও পড়ুনঃ  ধুনটে জঙ্গল থেকে জীবিত কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতক উদ্ধার, হাসপাতালে ভর্তি