Dhaka ১২:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে, কাঁদছে নবাবগঞ্জ ১০৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা ডিবি দক্ষিণ পুলিশ ভেদরগঞ্জে সচেতন মা, আপনি সেরা মা—শ্রেষ্ঠ অভিভাবক পুরস্কার ২০২৬ ধামইরহাটে মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন গণতন্ত্রের ভিত্তিতে রচিত আল-কুরআনবিরোধী সংবিধানই সমাজ ও রাষ্ট্রের মূল সমস্যা: ইসলামী সমাজ লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত ভয়ে থমকে আছে গাজীপুরে বন উদ্ধার পত্নীতলায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ পলাশবাড়ীতে পুকুরে বিষ প্রয়োগে ৩ লক্ষ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার ভারতের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে

ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রশাসনের তথ্য পাচারে সচল ৬ অবৈধ ড্রেজার, হুমকির মুখে ফসলি জমি

জিএম মাকছুদুর রহমান, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি:

​কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শিদলাইসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে অবাধে চলছে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি খনন। এতে চরম হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার শত শত একর ফসলি জমি ও সামগ্রিক কৃষি ব্যবস্থা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের তথ্য পাচারকারী সিন্ডিকেটের কারণে প্রশাসনের অভিযানের খবর আগেই পেয়ে যায় ড্রেজার মালিকরা, ফলে মূল অপরাধীরা সবসময়ই পার পেয়ে যাচ্ছে। ​৬ জুলাই (সোমবার) সরেজমিনে তদন্ত করে জানা গেছে, উপজেলার শিদলাই, মাধবপুর ও চান্দলা ইউনিয়নের অন্তত ৬টি পয়েন্টে দিন-রাত সমানতালে চলছে এই অবৈধ কার্যক্রম। এর মধ্যে শিদলাই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মজিবের ফিসারিতে ২টি এবং ৭নং ওয়ার্ডের ময়নাল ফকিরের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় ১টি ড্রেজার চলছে। এছাড়া মাধবপুর ইউনিয়নের মনগুছ দক্ষিনপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার উত্তর পাশে রাস্তার সাথে হানিফ মিয়ার অবৈধ ড্রেজার দ্বারা মাসুদ মিয়ার কৃষি জমি ভরাটের কাজ চলমান রয়েছে এবং বাড়ানি দক্ষিনপাড়া আলী আহাম্মদ মেম্বার বাড়ির দক্ষিন পাশে কৃষি জমিতে কামাল মিয়ার অবৈধ ড্রেজারটি চলছে। অন্যদিকে চান্দলা ইউনিয়নের উত্তর চান্দলা কবির হুজুরের হাফেজিয়া মাদ্রাসার উত্তর পাশে আবুল কালামের কৃষি জমিতে সুমন মিয়ার ড্রেজার দ্বারা মাটি কাটার কাজ চলছে। ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অনুযায়ী ফসলি জমি বা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ হলেও প্রভাবশালী এই চক্রটি কোনো তোয়াক্কা করছে না। ​এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইতিপূর্বে প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান মেলেনি।

আরও পড়ুনঃ  কাউনিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে টেকসই কৃষি উন্নয়নে কৃষকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

মাঝে মাঝে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে দু-একটি পাইপ ভেঙে দিয়ে আসার ‘লোকদেখানো’ অভিযান চালানো হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, অভিযান শেষ হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে ড্রেজার মালিকরা দ্বিগুণ উৎসাহে পুনরায় মাটি খনন শুরু করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের কিছু অসাধু কর্মচারী, যেমন ড্রাইভার বা সংশ্লিষ্ট স্টাফরা অভিযানের আগাম তথ্য ড্রেজার মালিকদের কাছে পাচার করে দেয়। ফলে অভিযানের আগেই তারা সতর্ক হয়ে গা ঢাকা দেয়। বিগত দিনে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কঠোর অবস্থানের কারণে উপজেলায় একটি ড্রেজারও চলতে পারেনি, অথচ বর্তমান প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই চক্রটি হঠাৎ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অবাধে মাটি কাটার ফলে চারপাশের পরিবেশ যেমন ধ্বংস হচ্ছে, তেমনি ধসে পড়ছে কৃষকের মহামূল্যবান ফসলি জমি। এ বিষয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা শিদলাই ইউনিয়ন ও কৃষি জমি রক্ষার্থে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে একটি আকস্মিক ও কার্যকরী যৌথ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে, জড়িত ড্রেজার মালিক ও তথ্য পাচারকারী অসাধু কর্মচারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  পলাশবাড়ীতে পুকুরে বিষ প্রয়োগে ৩ লক্ষ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে, কাঁদছে নবাবগঞ্জ

ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রশাসনের তথ্য পাচারে সচল ৬ অবৈধ ড্রেজার, হুমকির মুখে ফসলি জমি

আপডেটের সময়: ০২:০৯:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

জিএম মাকছুদুর রহমান, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি:

​কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শিদলাইসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে অবাধে চলছে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি খনন। এতে চরম হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার শত শত একর ফসলি জমি ও সামগ্রিক কৃষি ব্যবস্থা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের তথ্য পাচারকারী সিন্ডিকেটের কারণে প্রশাসনের অভিযানের খবর আগেই পেয়ে যায় ড্রেজার মালিকরা, ফলে মূল অপরাধীরা সবসময়ই পার পেয়ে যাচ্ছে। ​৬ জুলাই (সোমবার) সরেজমিনে তদন্ত করে জানা গেছে, উপজেলার শিদলাই, মাধবপুর ও চান্দলা ইউনিয়নের অন্তত ৬টি পয়েন্টে দিন-রাত সমানতালে চলছে এই অবৈধ কার্যক্রম। এর মধ্যে শিদলাই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মজিবের ফিসারিতে ২টি এবং ৭নং ওয়ার্ডের ময়নাল ফকিরের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় ১টি ড্রেজার চলছে। এছাড়া মাধবপুর ইউনিয়নের মনগুছ দক্ষিনপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার উত্তর পাশে রাস্তার সাথে হানিফ মিয়ার অবৈধ ড্রেজার দ্বারা মাসুদ মিয়ার কৃষি জমি ভরাটের কাজ চলমান রয়েছে এবং বাড়ানি দক্ষিনপাড়া আলী আহাম্মদ মেম্বার বাড়ির দক্ষিন পাশে কৃষি জমিতে কামাল মিয়ার অবৈধ ড্রেজারটি চলছে। অন্যদিকে চান্দলা ইউনিয়নের উত্তর চান্দলা কবির হুজুরের হাফেজিয়া মাদ্রাসার উত্তর পাশে আবুল কালামের কৃষি জমিতে সুমন মিয়ার ড্রেজার দ্বারা মাটি কাটার কাজ চলছে। ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অনুযায়ী ফসলি জমি বা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ হলেও প্রভাবশালী এই চক্রটি কোনো তোয়াক্কা করছে না। ​এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইতিপূর্বে প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান মেলেনি।

আরও পড়ুনঃ  বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার ভারতের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে

মাঝে মাঝে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে দু-একটি পাইপ ভেঙে দিয়ে আসার ‘লোকদেখানো’ অভিযান চালানো হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, অভিযান শেষ হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে ড্রেজার মালিকরা দ্বিগুণ উৎসাহে পুনরায় মাটি খনন শুরু করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের কিছু অসাধু কর্মচারী, যেমন ড্রাইভার বা সংশ্লিষ্ট স্টাফরা অভিযানের আগাম তথ্য ড্রেজার মালিকদের কাছে পাচার করে দেয়। ফলে অভিযানের আগেই তারা সতর্ক হয়ে গা ঢাকা দেয়। বিগত দিনে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কঠোর অবস্থানের কারণে উপজেলায় একটি ড্রেজারও চলতে পারেনি, অথচ বর্তমান প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই চক্রটি হঠাৎ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অবাধে মাটি কাটার ফলে চারপাশের পরিবেশ যেমন ধ্বংস হচ্ছে, তেমনি ধসে পড়ছে কৃষকের মহামূল্যবান ফসলি জমি। এ বিষয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা শিদলাই ইউনিয়ন ও কৃষি জমি রক্ষার্থে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে একটি আকস্মিক ও কার্যকরী যৌথ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে, জড়িত ড্রেজার মালিক ও তথ্য পাচারকারী অসাধু কর্মচারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  উলিপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপি সালেহীর মতবিনিময়