
মাসুদ রানা মাসুম পার্বত্য ব্যুরো: টানা চতুর্থ দিনের মতো ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় বান্দরবান জেলার সার্বিক পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। পাহাড় ধসের তীব্র ঝুঁকি এবং সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর উপচে পড়া পানিতে প্লাবিত হয়েছে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। আজ ১২ জুলাই পর্যন্ত দেশের অন্যান্য অংশের সাথে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ, স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও বিজিবি। জরুরি ভিত্তিতে জেলাজুড়ে খোলা হয়েছে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র, যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন হাজারো মানুষ। এদিকে টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় এবং পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত জেলার সকল পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঝরনা, ট্রেইল ও নদী তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যটকদের যাতায়াতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। জেলা পরিষদের জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম ও চেয়ারম্যানের নির্দেশনায়,
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই পরিষদের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি সমন্বয় করেছেন। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে রুমা, থানচি, লামা এবং সদর উপজেলার বন্যাদুর্গত ও আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা পরিবারগুলোর জন্য চাল, ডাল, শুকনো খাবার এবং বিশুদ্ধ পানি বিতরণের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্গম ও পাহাড়ের পাদদেশে আটকে পড়া মানুষের কাছে দ্রুত সাহায্য পৌঁছাতে জেলা পরিষদের একাধিক বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে। আকস্মিক বন্যায় পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী উদ্ধার অভিযান জোরালো করেছে। আজ দিনভর বিভিন্ন বন্যাকবলিত দুর্গম পাড়া থেকে শতাধিক পরিবারকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া বিজিবির পক্ষ থেকে দুর্গতদের মাঝে রান্না করা খাবার, শুকনো রেশনের প্যাকেট, জরুরি ওষুধ এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট থেকে জানা গেছে, বন্যার পানি কিছু কিছু নিচু এলাকা থেকে নামতে শুরু করলেও পাহাড় ধসে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে জেলা শহরের সঙ্গে রুমা ও থানচি উপজেলার যোগাযোগ পুনরুদ্ধার করতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ওয়াটার পিউরিফায়ার ও মেডিকেল টিম পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রান্না করা খাবার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
প্রতিবেদকের নাম 


















