
মোঃ কামাল হোসেন (স্টাফ রিপোর্টার) রাজশাহীর বাঘায় অটোভ্যান ছিনতাই ও দস্যুতার ঘটনায় জড়িত অন্যতম মূল আসামিকে লুণ্ঠিত অটোভ্যানসহ গ্রেফতার করেছে বাঘা থানা পুলিশ। এ ছাড়া এ ঘটনায় জড়িত আরও এক আসামিকে অন্য মামলায় আটক থাকা অবস্থায় গ্রেফতার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আবেদন করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মোঃ আলমগীর হোসেন (৩৪)। তিনি বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আলাইপুর (গাবতলীপাড়া) গ্রামের মোঃ মাসদার রহমানের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বানিয়াপাড়া গ্রামের মোঃ আব্দুর রশিদ (৪৯) নামের এক দিনমজুর তার আয়ের একমাত্র সম্বল ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান নিয়ে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ভাড়ার জন্য অবস্থান করছিলেন। এ সময় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি রামশাপুর যাওয়ার কথা বলে ৮০ টাকায় ভ্যানটি ভাড়া করে। বেলা আনুমানিক ১১:৫৫ ঘটিকায় আটঘরিয়া-রামশাপুর ফাঁকা রাস্তার বাদশা মিয়ার আমবাগানের কাছে পৌঁছালে ওই যাত্রীবেশী দুষ্কৃতকারীর ইশারায় আমবাগান থেকে আরও ২-৩ জন দুষ্কৃতকারী বের হয়ে ভ্যানটির গতিরোধ করে। তারা চালক আব্দুর রশিদকে মারধর ও ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক অটোভ্যানটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভিকটিম আব্দুর রশিদ বাঘা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে একটি নিয়মিত দস্যুতা মামলা রুজু হয় (বাঘা থানা মামলা নম্বর: ০৮, তারিখ: ১৩/১০/২০২৬, ধারা: ৩৯৪ পেনাল কোড)। মামলা রুজুর পর বাঘা থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম অপরাধীদের সনাক্তকরণে অভিযানে নামে। পরে চারঘাট থানা পুলিশের সহায়তায় ‘শীসাতলা বাজার’ এলাকা থেকে অন্যতম আসামি আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে লুণ্ঠিত অটোভ্যানটি উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত অপর আসামি জহুরুল চারঘাট থানা পুলিশের হাতে পৃথক এক মামলায় আটক হয়ে বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন। তাকেও বাঘা থানার এই দস্যুতা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য বিজ্ঞ আদালতে আবেদন করা হয়েছে। বাঘা থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িত অপর পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হবে। বাঘা থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়, অপরাধ দমনে পুলিশ বদ্ধপরিকর। বাঘাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং যেকোনো ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান জোরদার থাকবে। অপরাধ করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
প্রতিবেদকের নাম 


















